সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০৮ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:৩৫

আবরার হত্যার ৩৬ ঘণ্টা পর প্রকাশ্যে এলেন বুয়েট ভিসি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম

আবরার ফাহাদ হত্যার ৩৬ ঘণ্টা পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে আসলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। উপাচার্য (ভিসি) মঙ্গলবার বিকাল সোয়া ৪টার পর ক্যাম্পাসে এলেও শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভস্থলে না গিয়ে নিজের কার্যালয়ে চলে যান। এরপর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার পর উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল দোতলা থেকে নেমে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সামনে আসলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন।

রোববার গভীর রাতে শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধারের পর উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল শিক্ষার্থীদের সামনে পড়েননি। তিনি আবরারের লাশ দেখতে যাননি, এমনকি নিহত শিক্ষার্থীর জানাজায়ও অংশ নেননি।

উপাচার্যের এমন ভূমিকায় নানা মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে জানান, উপাচার্য অসুস্থ, যদিও বুয়েটের শিক্ষকেরা জানিয়েছেন ভিসি সুস্থ আছেন, এবং আন্দোলন নিয়ে তাদের সঙ্গে ভিসির কথাও হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভিসি বলেন, তোমরা যা দাবি দিয়েছ তোমাদের দাবির সঙ্গে অ্যাগ্রি (একমত) করছি। আমরা নীতিগতভাবে সব দাবি মেনে নিচ্ছি।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ভিসিকে দাবিগুলো পড়ে শুনিয়ে ঠিক কোন কোন দাবি মানা হল- তা জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে চলে যেতে চান ভিসি। একপর্যায়ে ভিসিকে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করেন, আবরার হত্যার ঘটনার পর তিনি কেন ক্যাম্পাসে আসেননি? জবাবে ভিসি বলেন, আমি ক্যাম্পাসে ছিলাম। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন।

কিন্তু আবরার হত্যার ৩৬ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যেও কেন ভিসি ক্যাম্পাসে আসেননি, কেন তাকে আলটিমেটাম দিয়ে ক্যাম্পাসে আনতে হল? ভিসির কাছে এর জবাব চেয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এসব প্রশ্নের জবাবে ভিসি বলেন, আমি সারাদিন মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, মিটিং করেছি। এগুলো না করলে দাবিগুলোর সমাধান হবে কীভাবে। সব তো আমার হাতে নেই। সরকারকে কনভিন্স করে আমাকে চলতে হয়।

ভিসি শিক্ষার্থীদের বলেন, তোমাদের দাবির সঙ্গে আমি একমত। উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের উপায় বের করা হচ্ছে। আমি কাজ করে যাচ্ছি। স্যার আপনি কী কাজ করছেন? এক শিক্ষার্থীর এ প্রশ্নের উত্তরে ভিসি বলেন, তোমাদের এই ব্যাপারটি নিয়ে কাজ করছি। আমি রাত ১টা পর্যন্ত কাজ করেছি।

শিক্ষার্থীদের আলাদা ডেকে নিয়ে কথা বলার প্রস্তাব দিলে ভিসির সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এ সময় আবারও শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিকাল ৫টার মধ্যে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে আসার আলটিমেটাম দেন। তিনি না এলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে বলেও শিক্ষার্থীরা জানান।

আবরার হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের শনাক্ত করে তাদের আজীবন বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে; দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্বল্পতম সময়ে আবরার হত্যা মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি, তা তাকে ক্যাম্পাসে এসে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে ব্যাখ্যা করতে হবে। ছাত্রকল্যাণ শিক্ষককেও (ডিএসডব্লিউ) বিকাল ৫ টার মধ্যে সবার সামনে জবাবদিহি করতে হবে; আবাসিক হলগুলোতে র্যাগের নামে ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। আহসানউল্লা হল ও সোহরাওয়ার্দী হলে ঘটা আগের ঘটনাগুলোতে জড়িত সবার ছাত্রত্ব ১১ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে বাতিল করতে হবে; রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে; এবং মামলার খরচ এবং আবরারের পরিবারের ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত