সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০৯ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:৩৪

কে ছাত্রদল কে ছাত্রলীগ এ বিবেচনা করব না: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘কে ছাত্রদল কে ছাত্রলীগ—এ বিবেচনা করব না।’ অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, নিশ্চিত করা হবে সর্বোচ্চ শাস্তি।

বুধবার (৯ অক্টোবর) নিজের যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সফর নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

বেলা সাড়ে তিনটায় গণভবনে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই তাঁর দুই সফরের বিষয়ে কথা বলা শুরু করেন। এরপর শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব।

সংবাদ সম্মেলনের দ্বিতীয় প্রশ্নটিই ছিল আবরার হত্যা নিয়ে। গত রোববার রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার কয়েকজন নেতাকর্মী। এই হত্যা নিয়ে বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে বিক্ষোভ।

সংবাদ সম্মেলনে আবরার হত্যা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, তা কোন দলের কে করে, সেটা দেখি না। অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করি।’

এসময় আবরার হত্যাকে ‘অমানবিক’ বলে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা বাচ্চা ছেলে, ২১ বছর বয়স। তাকে কী অমানবিকভাবে হত্যা করেছে। পিটিয়ে পিটিয়ে মেরেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ ঘটনার পরই ছাত্রলীগকে বলেছি অভিযুক্তদের বহিষ্কার করতে। তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। পুলিশকে বলেছি অপরাধীদের ধরতে। অনেকেই ধরা পড়েছে। ছাত্ররা নামার আগেই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’

আবরার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাধারণ পরিবারের ছেলে, এত ব্রিলিয়ান্ট একটা ছেলে। তার মায়ের কষ্ট আমি বুঝি। বাবার কষ্ট বুঝি। কারণ, আমিও হত্যার বিচার চেয়ে পাইনি। মা বাবার হত্যার পর ৩৮ বছর আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কিসের ছাত্রলীগ, সে বিবেচনা করব না। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবেই। অপরাধী অপরাধীই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে, সকালে জানার পরই পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু শুনলাম, পুলিশকে ফুটেজ নিয়ে আসতে দেওয়া হবে না। তখন প্রশ্ন হলো, ব্যাপারটি কী? পুলিশের আইজিপিও বললেন, পুলিশকে ফুটেজ আনতে দিচ্ছে না। ঘিরে রেখেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ফুটেজটা হাতে পাওয়ার জন্য তিনটি ঘণ্টা সময় নষ্ট করল কেন?

আবরার হত্যার পর আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আবার কিসের আন্দোলন। কোনো দাবি তো সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করা যায় না। অপরাধীদের ধরা চলছে।

বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বুয়েট চাইলে নিষিদ্ধ করতে পারে। তাদের সিনেট আছে, এটা করতে পারে। তবে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিতে হবে, এটা স্বৈরাচারদের কথা। আমি নিজে ছাত্ররাজনীতি করে উঠে এসেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বুয়েটে আমাদের একাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছে, নিহত হয়েছে। কয়টার বিচার হয়েছে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত