শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৯

স্বৈরাচার পতন দিবস আজ

ছবি: সংগৃহীত

আজ ৬ ডিসেম্বর গণতন্ত্র মুক্তি দিবস; স্বৈরাচার পতনের ২৯ বছরপূর্তি। ১৯৯০ সালের এই দিনে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনতার দুর্বার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন ঘটে।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে এরশাদ সরকার বাংলাদেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি সব ক্ষেত্রে গণবিরোধী ধারা প্রবর্তন করে। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা তৎকালীন স্বৈরশাসকের ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হন।

একপর্যায়ে ঘুরে দাঁড়ায় গণতন্ত্রকামী মানুষ। সারাদেশে 'স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক' স্লোগানের মধ্য দিয়ে এরশাদবিরোধী আন্দোলন চূড়ান্ত গতি লাভ করে এবং এরশাদ সরকারের পতন ঘটে।

আন্দোলনের সূচনা হয় ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। ঢাকা পলিটেকনিকের ছাত্র মনিরুজ্জামান হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সব ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করার ঘোষণা দেন। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর হরতাল চলাকালে নূর হোসেনকে স্বৈরাচার এরশাদের বাহিনী গুলি করে। তখন নূর হোসেনের বুকে-পিঠে লেখা ছিলো ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’।

ওই দিনই সেনা ও পুলিশ বাহিনী আমিনুল হুদা টিটোকে মেরে লাশ গুম করে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এরশাদ সরকারের পতনের আন্দোলনে নেমে পড়ে। আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এক পর্যায়ে এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। দীর্ঘ প্রায় ৯ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর।

স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর থেকে দিবসটিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্ন নামে পালন করে আসছে। দিনটিকে আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’, বিএনপি ‘গণতন্ত্র দিবস’ এবং এরশাদের জাতীয় পার্টি ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো এটিকে ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ হিসেবেও পালন করে।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী সংগ্রামী দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯০ পরবর্তী দুই দশকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অবৈধ ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্র, সংবিধান, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করে দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “সপরিবারে জাতির পিতার হত্যার বিচারের রায় আমরা কার্যকর করেছি। জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী-মানবতাবিরোধীদের বিচারের রায় কার্যকর হচ্ছে। আদালত ২১-এ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় প্রদান করেছে। কোন ষড়যন্ত্রই আমাদের সত্য ও ন্যায় এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত