রবিবার, , ১৮ নভেম্বর ২০১৮ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২০:২৩

জামায়াত কোন দল নয়, তাদেরকে নিয়ে ঐক্যও নয়: কামাল

জামায়াতে ইসলামি কোন রাজনৈতিক দল নয় এবং এদের সঙ্গে নিয়ে কোনো বৃহত্তর ঐক্যে যাবেন না বলে জানিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। সাম্প্রতিক সময়ে গণগ্রেপ্তার ও ধরপাকড় নিয়ে গণফোরামের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

ড. কামাল হোসেন বলেন, জামায়াতে ইসলামিকে সঙ্গে নিয়ে কোনো বৃহত্তর ঐক্যে যাব না। সারা জীবনে করিনি, শেষ জীবনে করতে যাব কেন?

অন্য কয়েকটি দলকে নিয়ে নির্বাচনের আগে দেশের রাজনীতিতে 'জাতীয় ঐক্য' তথা 'তৃতীয় একটি ধারা' তৈরির প্রক্রিয়ায় রয়েছেন থাকা ড. কামাল হোসেন। এই প্রক্রিয়ায় বিএনপিরও যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ অবস্থায় বিএনপির জোটসঙ্গী জামায়াতকে রেখেই বিএনপির সঙ্গে কোনো 'বৃহত্তর ঐক্যে' যাবেন কী-না- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল আরও বলেন, 'আমি ও আমাদের দল ওই ধরনের কোনো ঐক্যে যাবে না। অন্য কোনো দল করবে কিনা আমি জানি না। তবে আমি যতটুকু জানি, ওরা (জামায়াতে ইসলামি) তো এখন দলও নয়। ইতোমধ্যে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।'

'জাতীয় ঐক্য' গড়ার কাজ কতটা এগিয়েছে- জানতে চাইলে গণফোরাম সভাপতি বলেন, এই ঐক্যের কাজ আগাচ্ছে। ঐক্য গড়ে উঠছে, আগাচ্ছে। ঐক্য হলে সবাই জানতেও পারবেন। আমরা সেটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচারে কারাগারের ভেতরে আদালত বসানো 'সংবিধানসম্মত হয়নি' বলে মন্তব্য করেন গণফোরামের সভাপতি। তিনি বলেন, তার ধারণা বিএনপি, এটা আদালতে চ্যালেঞ্জ করবে। আদালতই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে তিনি (ড. কামাল) আদালতে গেলে এটাই বলবেন, এটা সংবিধানসম্মত নয়।

ড. কামাল বলেন, বিরোধীদলীয় নেত্রীকে (খালেদা জিয়া) আটক করা হয়েছে। তার ব্যাপারে জেলখানায় বিচার-টিচার- এসব ঠিক নয়। কর্নেল তাহেরের বিচারের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিচার মেলানো হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কর্নেল তাহেরের বিচার হয়েছিল সামরিক আদালতে। সামরিক শাসনে সেই বিচার হয়েছে। ৪১ বছরের আগের উদাহরণ একটা দিয়ে এটা (আদালত স্থানান্তর) করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। আর এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত সরকারের পক্ষেও যাবে না।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া উচিৎ, চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন। খালেদা জিয়া বিরোধী দলের নেতা, প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। তিনি অসুস্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো উচিত। এটাই আমাদের দেশের ঐতিহ্য। সরকারের ভুলে যাওয়া উচিৎ নয়, আমরা সভ্যসমাজে বাস করি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন সামনে রেখে দেশে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই দাবি করে ড. কামাল বলেন, আগেই বলেছিলাম নির্বাচনটা আদৌ হবে কি-না! আসলে নির্বাচনটা হোক। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পরিবেশ দরকার। কিন্তু এখন ভয়ভীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা নির্বাচন চাই, কিন্তু দেশে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই।

সংবাদ সম্মেলনের বিষয়বস্তু নিয়ে এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেন, যেভাবে ধরপাকড় হচ্ছে- এটা নিয়ে উদ্বেগের কারণ আছে। কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ ইউনিফর্ম পরে আসতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে, যেন সে জামিন চাইতে পারে। বিশেষ কারণে দুই-একবার সাদা পোশাকে গ্রেপ্তার করা যেতে পারে। তবে এটা এখন নিয়মিত করা হচ্ছে। কারো অপরাধ থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাও সংবিধানে স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে, কীভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। এখন যা হচ্ছে সরকার তা করতে পারে না।

তিনি বলেন, আমরা বেআইনি শাসনে চলে যাচ্ছি। সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে, সাবধান হতে হবে। সমস্যার সমাধান করতে হবে। দ্রুত ধরপাকড় বন্ধ করতে হবে। ক্ষমতার প্রয়োগ হবে আইন ও সংবিধানের ভিত্তিতে। কিন্তু এখন যেভাবে সাদা পোশাকে ধরা হচ্ছে- সেটা সংবিধানসম্মত নয়, আইনের লঙ্ঘন। সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করে দেশ চালাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, আওম শফিক উল্লাহ, নৃপেণ ঘোষ, অ্যাডভোকেট সগীর আনোয়ার, সাইদুর রহমান, মোশতাক আহমেদ, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আবম মোস্তফা আমিন প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত