মঙ্গলবার, , ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৬:৫০

ঢাকা-১ আসনে প্রার্থী শূন্য বিএনপি

ঢাকা-১ আসনে (দোহার এবং নবাবগঞ্জ) নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবুস আশফাকের পাশাপাশি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এমপি ফাহিমা হোসাইন জুবলীকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি।

কিন্তু, আজ রোববার (২ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিনে তাদের দুজনেরই মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। সুতরাং ঢাকা-১ আসনে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী না থাকার কারণে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনটিতে প্রার্থী শূন্য হয়ে গেলো বিএনপি।

জানা গেছে, ঢাকা-১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছিলেন চারজন প্রার্থী। তারা হলেন- ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মেয়ে অন্তরা সেলিমা হুদা, নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এমপি ফাহিমা হোসাইন জুবলী ও নাজমুল হুদার সাবেক প্রেস সেক্রেটারি তারেক হোসেন।

এর মধ্যে থেকে গত ২১ নভেম্বর মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাৎকার দেন তিনজন। এদের তিনজনকেই মনোনয়নপত্র জমার চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। চিঠির তালিকায় ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মেয়ে অন্তরা সেলিমা হুদার নাম এক নম্বরে থাকলেও তিনি চিঠি পাননি। ২৭ ডিসেম্বর রাতে গুলশান কার্যালয় থেকে খন্দকার আবু আশফাক ও ফাহিমা হোসাইন জুবলীকে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু অন্তরা হুদাকে ওইদিন চিঠি দেওয়া হয়নি। পরের দিন ২৮ নভেম্বর সকালে অন্তরা হুদার প্রতিনিধি দিনভর গুলশান কার্যালয়ে দেন দরবার করলেও ‘রহস্যজনক’ কারণে তাকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে ওইদিন (২৮ নভেম্বর) গুলশান বিএনপি কার্যালয়ের কর্মকর্তা জেডএ খান রিয়াজ উদ্দিন নসুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্তরা হুদাকে কেন চিঠি দেওয়া হয়নি এটা আমি বলতে পারবো না। তার নাম তালিকায় এক নম্বরে থাকলেও আপনি ফোন দেননি কেন? এর জবাবে তিনি বলেন, আপনি গুলশান অফিসে যোগাযোগ করুন। আমি বাইরে আছি, এখন কিছু বলতে পারবো না।

জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বলেন, অন্তরা হুদা আমার সঙ্গে ২৮ নভেম্বর যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু তাকে আমি এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারিনি।

ওই আসন থেকে ফরম কিনেও মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাৎকার দিতে যাননি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার প্রেস সেক্রেটারি তারেক হোসেন। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরো বিষয়টির পেছনে বড় ধরনের চক্রান্ত কাজ করেছে। আমি যতদূর জানি নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক আগেই জানতেন তিনি ওই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন।

তারপরও তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে একদিন আগেও পদত্যাগ না করে ২৮ নভেম্বর কেন পদত্যাগ করলেন। আসলে তিনি সালমা ইসলামের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাকে ওয়াক ওভার দেওয়ার জন্যই এটা করে থাকতে পারেন।

আপনি কেন মনোনয়ন বোর্ডে গেলেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক বলেন, আমি স্যারের (নাজমুল হুদা) সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। তার মেয়ে মনোনয়ন চেয়েছেন বলেই আমি যাইনি।

জানতে চাইলে খন্দকার আবু আশফাক বলেন, আমি ২৮ নভেম্বর জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু আজকে দেখলাম পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি বলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আমি এর বিরুদ্ধে রিট করবো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই আসনে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের অন্য কেউ মনোনয়ন জমা দেননি। ফলে ধানের শীষে কেউ থাকছেন না ঢাকা-১ আসনে। আর আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে নির্বাচন করার জন্য আওয়ামী লীগের টিকেট পেয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক ও শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত