সোমবার, , ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৪:০০

অ্যাটর্নি জেনারেল ‘মনের মাধুরি মিশিয়ে’ আইনের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন: রিজভী

ফাইল ছবি

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সরকারপ্রধানকে খুশি করার জন্য নিজের মনের মাধুরি মিশিয়ে সংবিধান ও আইনের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রিজভী।

মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলেও সরকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলেও বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার ভূমিকার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আদালত প্রাঙ্গণে রাসপুতিনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। বিরোধী দলকে শূন্য করতে সরকারের এজেন্ডা এখন অ্যাটর্নি জেনারেল বাস্তবায়ন করছেন আদালতকে ভয় দেখিয়ে। মহীউদ্দিন খান আলমগীর, হাজী সেলিম দণ্ডিত হওয়ার পরও তাদের মনোনয়নপত্র কীভাবে বৈধ হয়- এ প্রশ্নও তোলেন রিজভী।

আইনের দুই রকমের প্রয়োগ হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের স্বার্থে আইন এক ধরনের, আর বিএনপির ক্ষেত্রে আরেক ধরনের। বিএনপির পাঁচ নেতার আবেদন হাই কোর্টে নাকচ হওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, কারো দণ্ড হলে আপিল বিচারাধীন থাকলে তো চলবেই না, এমনকি আপিলে মুক্তি পেলেও নিস্তার নেই। কারণ দণ্ডিত ব্যক্তিকে মুক্তিলাভের পর ৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

রিজভী বলেন, এখন আমাদের প্রশ্ন, অ্যাটর্নি জেনারেলের এই ব্যাখ্যা যদি বিবেচনায় নেওয়া হয়, তাহলে মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং কক্সবাজারের সাংসদ আব্দুর রহমান বদির সংসদ সদস্য পদ কী অবৈধ নয়?

তিনি বলেন, রাজশাহীতে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও নাদিম মোস্তফার মনোনয়নপত্র বাতিলের সার্টিফায়েড কপি এখনো দেওয়া হয়নি। অথচ আপিলের জন্য বুধবারই শেষ দিন। এর অর্থ হচ্ছে, সরকারের নির্দেশনায় একেবারে পরিকল্পিতভাবে রিটার্নিং অফিসাররা বিএনপির হেভিওয়েট নেতাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এই পাঁয়তারা করছে। রিটার্নিং অফিসাররা সরকারের নির্দেশেই বিএনপি নেতাদের মনোনয়নপত্র তুচ্ছ কারণে বাতিল করছে।

বিভিন্ন জেলায় রিটর্নিং অফিসাররা মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের কথা বলারও সুযোগ দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের তালিকা তুলে ধরে রিজভী বলেন, নির্বাচনী মাঠ সমতল হওয়ার থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে। তফসিল ঘোষণার পরে পুলিশ প্রতিনিয়ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বন্যার স্রোতের মতো মামলা দিচ্ছে, নির্বিচারে গ্রেপ্তার করছে। এটা তফসিল ঘোষণার পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পারে না।

তিনি বলেন, এখন যা কিছু হচ্ছে তার জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ সরকারের যে মনোভাব, সেই মনোভাব কমিশন আন্তরিকতার সাথে পালন করছেন। শুধুমাত্র বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করতে হবে, এলাকা জনশূন্য করতে হবে… এটা করলে পরেই সরকারের স্বার্থ রক্ষা করা হবে। নির্বাচন কমিশন সেই স্বার্থ রক্ষায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, মামুন আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা মুনির হোসেন ও মাশুকুর রহমান প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত