শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ইং

শাহ শরীফ উদ্দিন

০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০০:২৫

সুরঞ্জিতকে ভুলেই গেছে সিলেট আওয়ামী লীগ!

বাংলাদেশের রাজনীতির এক বর্ণিল চরিত্র সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ছিলেন দাপুটে নেতা। সিলেট বিভাগের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিও ছিলেন। জীবতকালে দলের সকলেই সমীহ করে চলতেন তাকে। অথচ মৃত্যুর দুই বছরের মাথায় সেই সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে ভুলেই গেছে সিলেট আওয়ামী লীগ।

সিলেট থেকে উঠে যাওয়া জাতীয় রাজনীতির এই কৃতিপুরুষের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ছিলো মঙ্গলবার। অথচ তাকে স্মরণে সিলেটে আওয়ামী লীগের ছিলো না কোনো উদ্যোগ।

ফলে অনেকটা নিরবেই চলে সিলেট অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুবার্ষিকী। কেবল নিজ এলাকা দিরাই ছাত্রকল্যাণ পরিষদ নামের একটি সংগঠন নগরে স্মরণসভার মাধ্যমে জানান দিয়েছে সুরঞ্জিতের মৃত্যুদিনের কথা।

সিলেট আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই নিয়ে ব্যস্ততার কারণে সুরঞ্জিতের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা যায়নি।

আর মধ্যমসারি ও তৃণমূলের নেতারা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ প্রকাশ করেছেন।

দেশের প্রায় সব সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মারা যান। মুক্তিযুদ্ধে ভাটি অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সবার নজর কাড়েন। বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন কমিটিরও সদস্য ছিলেন তিনি।

সুরঞ্জিত সাতবার জাতীয় সংসদে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মৃত্যুর সময় ছিলেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। এরআগে রেলমন্ত্রীরও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সিলেট বিভাগে আওয়ামী লীগের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

মৃত্যুর মাত্র দুই বছর পরই সুরঞ্জিত সেনের স্মরণে সিলেটে আওয়ামী লীগের কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দলটির তৃনমূলের অনেক নেতাকর্মী। নাম প্রকাশে একাধিক নেতাকর্মী একে জাতীয় এ নেতার প্রতি উদাসীনতা বলেও মন্তব্য করছেন।

এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম হাসান জেবুল সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, দেওয়ান ফরিদ গাজী, আব্দুস সামাদ আজাদ এরা হলেন জাতীয় নেতা। এদের স্মরণের ক্ষেত্রে কোন উদাসীনতা থাকা অনুচিত।

তিনি বলেন, সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের স্মরণে কোন উদ্যোগ গ্রহণ কেন করা ভলো না তা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকই ভালো বলতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, কোন অনুষ্ঠান বা কোন কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আমার নাই। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের বলেন। তাই সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের স্মরণেও উচিত ছিলো সিদ্ধান্ত নিয়ে তা আয়োজনের জন্য আমাদের জানানো। কিন্তু কেন তা হলো না তা বোধগম্য নয়।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত নেতাদের স্মরণে উদাসীনতার বিষয় তুলে ধরে আরো বলেন, দেওয়ান ফরিদ গাজী আওয়ামী লীগের একজন প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করেছেন। তার নামে সিলেটে কোন কিছু নেই। কাজির বাজার ব্রিজ উদ্বোধনের আগে আমি মহানগর আওয়ামী লীগের সভায় প্রস্তাব করেছিলাম- এ ব্রিজের নামকরণ দেওয়ান ফরিদ গাজীর নামে করতে কেন্দ্রে প্রস্তাবনা পাঠানোর জন্য। কিন্তু এ বিষয়েও মহানগর আওয়ামী লীগ থেকে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকায় আছেন বলে ফোন রেখে দেন।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোরকে বলেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় কোন উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, হঠাৎ করে উপজেলা নির্বাচনের তোরজোড় শুরু হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতাকর্মী এখন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। অনেকেই আবার ঢাকায় অবস্থান করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগ চাইলে উদ্যোগ নিতে পারতো। যেহেতু মহানগর আওয়ামী লীগের কেউ উপজেলা নির্বাচনে জড়িত না তাই তাদের উচিত ছিলো কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা।


তবে উদাসীনতার বিষয়টি অস্বীকার করে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, উনাকে ভুলে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। যদি ভুলেই গেলাম তাহলে গতকাল (৫ ফেব্রুয়ারি) দিরাই ছাত্রকল্যাণ পরিষদের স্মরণ অনুষ্ঠানে কি ভাবে গেলাম। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনের কারণে অনেকেই ব্যস্ত। এ কারণে কোন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে স্মরণ করার এখনো সময় শেষ হয়নি।

সুরঞ্জিত সেনের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে স্মরণে নগরীতে একমাত্র আয়োজনটি করে দিরাই ছাত্রকল্যাণ পরিষদ। ৫ ফেব্রুয়ারি জেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্মরণ সভা করে তারা।

সংগঠনটির সহ-সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম বলেন, সুরঞ্জিত আমাদের এলাকার কৃতি সন্তান। তিনি একজন জাতীয় নেতা। তার মৃত্যুর পর থেকে আমরা তাঁর প্রয়াণ দিবসে স্মরণ সভা করি। এটি তাঁর প্রতি আমাদের ভালবাসা এবং শ্রদ্ধার জায়গা থেকেই করি। কিন্তু যেহেতু উনি আওয়ামী লীগের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ছিলেন সুতরাং তাঁর প্রয়াণ দিবসে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ থাকাটাও জরুরি ছিলো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত