সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:৪৮

শোভন-রাব্বানীর পদচ্যুতির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রিজভীর

ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর পদচ্যুতির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটি বলছে কোন আইনে তাদেরকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্তদের দায়িত্ব দেয়া হল? এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ গণপ্রতিনিধত্ব আদেশ লঙ্ঘনের।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আইন লঙ্ঘন করে ছাত্রলীগের দুই নেতাকে অপসারণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া আওয়ামী লীগের সংশোধিত চূড়ান্ত গঠনতন্ত্রের ২৫ (১) ধারা অনুযায়ী ছাত্রলীগ তাদের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন মাত্র। আরপিও অনুযায়ী ছাত্রলীগ স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সংগঠন। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রেও একই কথাই বলা আছে। সে অনুযায়ী আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ছাত্রলীগকে কোনও আদেশ-নির্দেশ দেয়া বা তাদের ওপর হস্তক্ষেপ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তারা কেবল পরামর্শ দেয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু আমরা কী দেখলাম। আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকে গঠনতন্ত্র ও গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করে দলটি জোর করে (বাই ফোর্স) ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদচ্যুত করে। এটা কোন এখতিয়ার বলে তারা করেছেন?

রিজভী বলেন, আদালত এ ক্ষেত্রে কী কোনও জুডিশিয়াল নোটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট আওয়ামী নেতাদের পাঠাতে পারবেন? অথচ ছাত্রদলের কাউন্সিলের ওপর আদালত একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ছাত্রদলের কাউন্সিলে মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৪০/৪১/৪২ ধারা অনুযায়ী মামলাটি মেইন্টেনেবল নয়। এর আগে উচ্চতর আদালতের আদেশ অনুযায়ী কোনও রাজনৈতিক দলের বিষয়ে আদালতের কিছু করার নেই। এটি ফ্যাসিবাদী শাসনের আরেকটি দৃষ্টান্ত।

রিজভী আরও বলেন, ছাত্রলীগের দুই নেতাকে অপসারণের পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন- বাংলাদেশে এ প্রথম শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং বাধ্যতামূলক পদত্যাগ করানো হয়েছে। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেই ছাত্রলীগের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দেখভাল করছেন। ছাত্রলীগের পরবর্তী সম্মেলন সম্পন্ন করতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়- নিয়ম-নীতি, বিধি-বিধান ও আইন-কানুন সব লঙ্ঘন করে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ঢাকঢোল পিটিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাদের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এতে কি আরপিও ভঙ্গ হয় না?

রিজভী বলেন, ছাত্রলীগের দুই নেতার অপসারণকে চ্যালেঞ্জ করে এখন যদি কেউ একই আদালতে (ঢাকা চতুর্থ সহকারী জজ) মামলা করেন তাহলে বিএনপির ওপর যেমন শোকজ ও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের ওপরও কী তা দেয়া হবে?

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব-উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুল আউয়াল খান, শেখ মো. শামীম, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে। সিনিয়র সহসভাপতি আল নাহিয়ান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ২৯তম ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ৩১ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত