বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:৪২

যুবলীগ চেয়ারম্যানের এবার অন্য সুর

রাজধানী ঢাকার ক্যাসিনোকাণ্ডে যুবলীগ নেতাদের গ্রেপ্তারের পর প্রথমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে কথামালার তোপ দাগিয়েছিলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। বুধবার রাজধানীতে পরিচালিত চারটি অভিযানে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাবের সমালোচনা করা ওমর ফারুক এবার সুর পালটেছেন। এখন তিনি বলছেন, ক্যাসিনো মামলায় গ্রেপ্তার হলে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হবে।

শুক্রবার রাজধানীর উত্তরা আজমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের অন্তর্গত উত্তরা পশ্চিম, পূর্ব, উত্তরখান ও দক্ষিণখান থানাধীন ১, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯ ও ৫০ নম্বর ওয়ার্ড শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ওমর ফারুক চৌধুরী যুবলীগ নেতাদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, 'ক্যাসিনো মামলায় সংগঠনের কেউ গ্রেপ্তার হলেই তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে।'

তিনি যুবলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আরও বলেন, 'দেখছেন না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পত্র-পত্রিকা দেখছেন না? সব পত্রিকা এখন ক্যাসিনোতে ভরা। এই ক্যাসিনোর মালিক নাকি আমরা? এটি মিথ্যা নয়। ক্যাসিনোর তথ্য আগে পেলে ব্যবস্থা নিতে পারতাম।'

তিনি বলেন, 'ভুল এক জিনিস, অপরাধ অন্য জিনিস। অপরাধ, জেনেশুনে অন্যের ক্ষতি করা। ভুল হবেই। এত অহংকার করবেন না। দেখেন না, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অ্যাকটিভ। একের পর এক ধরছে, যারে ধরবে তারে বহিস্কার করব। রাজনীতি করার অধিকার থাকবে না। তুমি যেই হও।'

যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, 'ধন্যবাদ জানাব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। যারাই এই কাজটি করে থাকে, তাদের ধরুন। যত বড় নেতা হোক, আমি করলেও আমাকে ধরেন।' তিনি আরও বলেন, 'ভুলভ্রান্তি হলে সাংবাদিকরা লিখবেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ধরতেছে দেখেন না? বেশি স্মার্ট হওয়ার দরকার নাই। যুবলীগ করতে হলে ম্যানেজার হতে হবে।'

তিনি বলেন, 'আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাইরা পাছা লাল করতেছে দেখেন না। চাঁদাবাজি করো? এইটা শেখ হাসিনা সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এটা বাবর আলী মন্ত্রণালয় না, এটা খালেদা জিয়ার মন্ত্রণালয় না। যুবলীগ কইরা মাতব্বরি করবেন, ওই দিন শেষ।'

এরআগে, বুধবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যুবলীগ নেতাদের গ্রেপ্তার করলে তিনি বসে থাকবেন না বলে মন্তব্য করেছিলেন। ওইদিন ওমর ফারুক চৌধুরী রাজধানীতে যুবলীগ নেতাদের পরিচালিত ক্যাসিনোতে অভিযান ও এক যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তারের প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘অপরাধ করলে শাস্তির ব্যবস্থা হবে। প্রশ্ন হলো, এখন কেন অ্যারেস্ট হবে। অতীতে হলো না কেন, আপনি তো সবই জানতেন। আপনি কি জানতেন না? নাকি সহায়তা দিয়েছিলেন—সে প্রশ্নগুলো আমরা এখন তুলব। আমি অপরাধী, আপনি কী করেছিলেন? আপনি কে, আমাকে আঙুল তুলছেন?’

সেদিন উত্তেজিত হয়ে যুবলীগের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমাকে অ্যারেস্ট করবেন? করেন। আমি রাজনীতি করি, ১০০ বার অ্যারেস্ট হব। আমি অন্যায় করেছি, আপনারা কী করেছিলেন? আপনি অ্যারেস্ট করবেন, আমি বসে থাকব না। আপনাকেও অ্যারেস্ট হতে হবে। কারণ, আপনিই প্রশ্রয় দিয়েছেন।’ যুবলীগ নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া র‍্যাবের ক্যাসিনো ও মাদকবিরোধী অভিযানকে দলের বিরুদ্ধে এবং দেশকে বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র বলেও আখ্যা দেন।

শুক্রবারের সম্মেলনে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদসহ নগর, থানা ও ওয়ার্ড নেতারা বক্তব্য দেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত