সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১২:৪৭

বেকায়দায় হুইপ সামশুল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পরিচালিত দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে জুয়া খেলার পক্ষে কথা বলে বেকায়দায় পড়ে গেছেন সরকারদলীয় হুইপ সামশুল হক চৌধুরী। সাংসদ হিসেবে টানা ১১ বছর দায়িত্ব পালনের সময়ে এই প্রথম কোণঠাসা হলেন সরকারদলীয় এই হুইপ। ক্যাসিনো ও জুয়ার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর পর দলের একটি অংশ সামনে আনছে চট্টগ্রামের পটিয়ার এই সাংসদের অতীত। দলীয় নেতারা হুইপ সামশুলকে দলে ‘হাইব্রিড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলছেন এই সাংসদ বিএনপি ও জাতীয় পার্টি হয়ে আওয়ামী লীগে এসেছেন। জুয়া থেকে বিরাট অঙ্কের টাকা চাঁদা হিসেবে পান, এমনই অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া সাংগঠনিক নানা কর্মকাণ্ডেও বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন হুইপ। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পছন্দের লোকদের দিয়ে দলের কমিটি করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ ও সমালোচনার এই সময়ে সামনে এসেছে তার পুত্রের একটি অডিও এবং ভিডিও।

হুইপ সামশুল হক অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি কী, তা জননেত্রী জানেন।’

গত ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে আলাপকালে হুইপ চট্টগ্রামের ক্লাবগুলোতে অভিযানের বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এখানে কোনো ক্যাসিনো নেই। ক্লাবগুলোর তাস খেলা বন্ধ করলে ক্লাবগুলো চলতে পারবে না। তিনি অবশ্য ক্যাসিনো ও জুয়ার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন।

সামশুল হক চৌধুরীর অতীত রাজনীতি নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরীর অভিযোগ, সামশুল হক জাতীয় পার্টি করেছেন। এর আগে যুবদল করেছেন। দলে তিনি ‘হাইব্রিড’।

আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুলের কথায় সুর মিলিয়ে বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম বলেন, ১৯৭৯ সালে তিনি নগর যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তার অধীনে সামশুল হক চৌধুরী ডবলমুরিং থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরপর সামশুল হক জাতীয় পার্টির হয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিল নির্বাচন করেন।

তবে সামশুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাকে বিএনপি, জাতীয় পার্টি অনেক কিছু বানানো হচ্ছে। জামায়াত বানানো বাকি রয়েছে। আমি শেখ হাসিনার প্রোডাক্ট।’

এদিকে, জুয়া নিয়ে হুইপ সামশুল হকের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার পরদিন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এক অনুষ্ঠানে বলেন, ক্লাব পরিচালনার দোহাই দিয়ে জুয়া জায়েজ করার কোনো সুযোগ নেই। এরপর বুধবার নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী ও আ জ ম নাছির উদ্দীন এক বিবৃতিতে বলেন, চলমান অভিযানের বিরোধিতাকারীরা গণদুশমন।

জানা যায়, পৌনে পাঁচ বছর আগে সিটি নির্বাচনের সময় সামশুল হক ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের সাংসদ এম এ লতিফ আওয়ামী লীগ–সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীনের পক্ষে জোরালো প্রচারণা চালান। কারণ, চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই তিন নেতা ছিলেন এক ছাতার নিচে। চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ার টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী আন্দোলন করেছিলেন। কারণ, এই প্রতিষ্ঠানের হাতে বন্দরের সিংহভাগ কাজ তুলে দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। এতে বন্দরের টাকায় বিদেশে প্রশিক্ষণ নেওয়া কর্মীরা অলস হয়ে পড়েন। মহিউদ্দিন চৌধুরী চেয়েছিলেন প্রশিক্ষিত কর্মীদের মেধা কাজে লাগিয়ে বন্দরের কর্মকাণ্ডে আরও গতিশীলতা আনতে। কিন্তু মহিউদ্দিন চৌধুরীকে কোণঠাসা করতে তরফদারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন আওয়ামী লীগের এই তিন নেতা। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আ জ ম নাছিরের সঙ্গে দুই সাংসদ সামশুল হক ও সাংসদ এম এ লতিফের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সামশুল হকের পাশে কেবল আরেক সাংসদ এম এ লতিফ রয়েছেন। চট্টগ্রামের আবাহনী ক্লাবের চেয়ারম্যান সাংসদ এম এ লতিফ ও মহাসচিব সামশুল হক। আর তরফদার রুহুল সহসভাপতি। ফলে বর্তমান ইস্যুতে হুইপ সামশুল হককে ঘায়েল করতে ছাড়েননি মেয়র।

কেবল ক্লাবের জুয়া খেলাই নয় হুইপ সামশুলের বিরুদ্ধে নিজের পছন্দের লোক দিয়ে কমিটি করার অভিযোগও ওঠেছে। ১৭ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত পটিয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ কমিটি সাংসদের পছন্দের লোকদের দিয়ে গঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিন মাস ধরে এসব কমিটি গঠন চলছে।

প্রায় এক মাস আগে গঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিজের পছন্দের লোকদের দিয়ে করা হয় বলে অভিযোগ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বেছে নেওয়া হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে প্রায় দুই বছর শেষ হয়। কমিটির মেয়াদ তিন বছরের।

পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, একটি ইউনিয়নেও সম্মেলন করা হয়নি। সাংসদের পছন্দের লোকদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত