শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ১৪:২৫

ওমর ফারুকের বহিস্কার নিয়ে যা বলছেন নানক

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। রোববার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুবলীগের নেতাদের বৈঠকে ওমর ফারুককে বহিস্কার করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না ওমর ফারুক চৌধুরী।

বৈঠকে আগামী ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেসের জন্যে চয়ন ইসলামকে আহ্বায়ক ও হারুনুর রশীদকে সদস্য সচিব করে কংগ্রেসের প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ওমর ফারুককে বহিস্কারের রাতে তার এই বহিস্কারাদেশ সম্পর্কে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকা যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক কথা বলেন। তিনি জানান, সংগঠন পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে বহিস্কার করা হয়েছে

যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘সংগঠনকে (যুবলীগ) তিনি (ওমর ফারুক চৌধুরী) সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেননি। সংগঠনে যেসব উচ্ছিষ্ট বস্তু (বহিরাগত) ঢুকেছিল, তিনি তাদের নির্দিষ্ট করতে পারেননি। আর সে কারণে ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনকে কালিমা বহন করতে হচ্ছে।’

জাহাঙ্গীর কবির নানক যখন যুবলীগের চেয়ারম্যান তখন ওমর ফারুক চৌধুরী ছিলেন সংগঠনটির প্রেসিডিয়াম সদস্য। নানক যুবলীগের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন ওমর ফারুক। তিনি যুবলীগের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন নানক। বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুবলীগ নেতাদের নাম জড়ানোয় সংগঠনটির সাবেক দায়িত্বশীল হিসেবে নিজে ‘লজ্জিত’ বলেও জানান সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।

এক প্রশ্নের জবাবে নানক বলেন, ‘কোনো না কোনও সময় দুষ্ট জায়গার ওপর আঘাত করতেই হয়। যুবলীগ আমাদের অনেক কষ্টের ফসল। যুবলীগ যখন জবাবদিহির সম্মুখীন হয়, আমরা চুপসে যাই।’

যুবলীগের বর্তমান কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের দোষারোপ করে নানক বলেন, ‘যুবলীগের যারা প্রেসিডিয়াম সদস্য, যারা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, যারা কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটিতে আছেন, তারা কেন বিষয়গুলো (যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ) আগে উত্থাপন করলেন না। তারা কেন কোনও সভায় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করলো না, আমার তা বোধগম্য হয় না। যদি বিষয়গুলো আগে উত্থাপন করা হতো, আলোচনা হতো, তবে একটা ফল আসতো।’

সম্প্রতি যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেয়ার বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য (ভিসি) ড. মীজানুর রহমানের আগ্রহ প্রকাশ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘এটা কী আমাদের মধ্যে আলোচনা করার বিষয়? যদি মীজানুর রহমান এমন কথা বলে থাকেন, এর মধ্য দিয়ে যুবলীগকে সমৃদ্ধ করা হয় না, এর মধ্য দিয়ে মূলত উপাচার্য পদকে হেয় করা হয়।’

যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মতো আওয়ামী লীগেও অনেক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পর দুর্নীতির অভিযোগ থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে কিনা—এমন এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘ব্যবস্থা নেয়ার আগে ছাত্রলীগকে সতর্ক করা হয়েছে; যুবলীগকেও সতর্ক করা হয়েছে। এর পরও কাজ না হওয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সামনে কোনো পথ খোলা ছিল না। নানা সময় প্রধানমন্ত্রী আমাদেরও সতর্ক করেছেন। যদি আমিও অন্যায়কারী হই, তবে প্রধানমন্ত্রী আমাকেও ক্ষমা করবেন না।’

সম্প্রতি যুবলীগের বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা ও টেন্ডারবাজির অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর থেকে সংগঠন‌টির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর নামও উঠে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া, যুবলীগ নেতা জি কে শামীমসহ অনেকেই। সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। তারেক নানকের কথিত পুত্র ছিলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর।

যুবলীগের এই নেতাদের গ্রেপ্তারের পর্ব শুরুর সময়ে প্রথমে এরপ্রতিবাদ করেন ওমর ফারুক চৌধুরী। পরে তিনি চুপসে যান। এরপর এদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততাও বেরিয়ে আসে। তার আলোকে ইতিমধ্যেই ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব তলব করা ছাড়াও তার বিদেশে যাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর পর থেকেই আড়ালে চলে যান ওমর ফারুক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাকে ছাড়াই সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সংগঠনটি। তাকে ছাড়াই হয়েছে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সভা।

ওমর ফারুক চৌধুরীর জন্ম ১৯৪৮ সালে। সত্তরের দশকে চট্টগ্রাম জেলা বিড়ি শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তখন আওয়ামী লীগের প্রয়াত কেন্দ্রীয় নেতা এস এম ইউসুফ ছিলেন তার রাজনৈতিক গুরু। বিড়ি শ্রমিক লীগের নেতা হয়ে মিয়ানমার থেকে টেন্ডু পাতা আমদানি শুরু করেন ওমর ফারুক। তামাকের বিকল্প এ টেন্ডু পাতা বিড়ির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ক্ষমতায় আসার সময় ওমর ফারুক শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জাতীয় পার্টির প্রয়াত নেতা নাজিউর রহমান (মঞ্জু) এরশাদের মন্ত্রিসভার সদস্য হলে ওমর ফারুক দল বদল করেন। জাতীয় পার্টির অঙ্গসংগঠন যুব সংহতির চট্টগ্রাম উত্তর জেলার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ওমর ফারুক চৌধুরী নাজিউর রহমানের ভায়রা ভাই এবং শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ভগ্নীপতি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত