বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ১৩:৫০

নূর হোসেনকে নিয়ে মন্তব্যের জন্যে ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গা

জাতীয় পার্টির একটি আলোচনা সভায় নূর হোসেনকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নূর হোসেনের পরিবারসহ সকলের কাছে ক্ষমা চান তিনি।

রাঙ্গা তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, গত ১০ নভেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয়ের মিলনায়তনে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ঘরোয়াভাবে আয়োজিত গণতন্ত্র দিবসের আলোচনা সভায় আমার কিছু বক্তব্য নিয়ে কোনো কোনো মহল এবং বিশেষ করে নূর হোসেনের পরিবারের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতি বছর নূর হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে কয়েকটি সংগঠনের আলোচনা, বক্তব্য ও বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। এমনকি তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালিও করা হয়। এর ফলে জাতীয় পার্টির কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। সেই প্রেক্ষিতে কর্মীদের উত্তেজনার মধ্যে বক্তব্য প্রদানকালে অনিচ্ছাকৃতভাবে আমার মুখ থেকে নূর হোসেন সম্পর্কে কিছু অযাচিত কথা বেরিয়ে গেছে। যা নূর হোসেনের পরিবারের সদস্যদের মনে আঘাত করেছে। এর জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও অনুতপ্ত।

নূর হোসেনের পরিবারের প্রতি আমাদের প্রয়াত চেয়ারম্যান এরশাদও সমব্যথী ছিলেন। অতএব, অসতর্কভাবে বলে ফেলা আমার বক্তব্যে যে আঘাত লেগেছে তার জন্য আমি নূর হোসেনের মায়ের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সাথে আমার যে বক্তব্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে সেসব বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।

আমি আশা করি এই বিষয়ে আর কোনো ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকবে না।

উল্লেখ্য, গত রোববার (১০ নভেম্বর) বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় নূর হোসেনকে ‘ইয়াবাখোর’ বলে আখ্যায়িত করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কাকে হত্যা করেছে? নূর হোসেনকে। নূর হোসেন কে? একটা এডিক্টেট ছেলে। একটা ইয়াবাখোর একটা ফেনসিডিল খোর। তাকে নিয়ে গণতান্ত্রিক দুই দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি আজকে নাচানাচি, পত্র পত্রিকায় দেখবেন কালকে নূর হোসেন দিবস। এই নূর হোসেন চত্বরও এরশাদের করা। এরশাদ করে দিয়েছিলো।

যারা অতি ফেনসিডিলখোর, অতি ইয়াবা খোর ব্যবসা করে ক্যাসিনো, তাদের জন্যই নূর হোসেন গণতন্ত্রের সন্তান। এরশাদ ছিলেন গণতন্ত্রের ধারক, বাহক এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাকারী। এটা বিশ্বাস না করলে আমি বলি যখন ১৯৮২ সালে উনি ক্ষমতা নিয়েছিলেন, এর আগে ছাত্তার সাহেব ক্ষমতায় ছিলেন। ছাত্তার সাহেব নিজেই টেলিভিশনে বলেছিলেন আমার মন্ত্রীদের বাসায় চোর ডাকাত পাওয়া যায়, আমি চালাতে পারছি না তাই এরশাদকে আমি ক্ষমতা অর্পণ করলাম। ক্ষমতায় আসার পরে সেখানে তাকে সুপ্রিম কোর্ট থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছিলো। গণতন্ত্রের মানসকন্যা বলি আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যাকে তিনিও বলেছেন আমরা অসন্তুষ্ট নই। এরশাদের ক্ষমতায় আমরা অসন্তুষ্ট নই। এটাকে আরও গণতান্ত্রিক করার জন্য উনি এটাকে নিয়ে আসলেন পার্লামেন্টে। সপ্তম সংশোধনীতে ২২৩ জন সংসদ সদস্য এরশাদের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের আট দলীয় নেতারা সংসদে আসেন নাই।

রাঙ্গা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যেদিন বাকশাল ঘোষণা করেন সেদিনই বাংলাদেশের সমস্ত গণতন্ত্র সমস্ত পত্রিকা কয়েকটি বাদে বন্ধ করে দিয়েছিলেন সব কিছু তিনি স্থগিত করে দিয়েছিলেন, তাহলে সেটা কী গণতন্ত্র ছিল। জাতির পিতা সম্পর্কে আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। উনি ১৪ বছর জেলে ছিলেন। তিনি গণতন্ত্রের জন্য অনেক কিছুই করেছেন সর্বশেষ উনিও গণতন্ত্রে লাস্ট পেরেকটা কিন্তু উনিই মেরে দিয়ে গিয়েছিলেন।

এমন কোন দিন বাদ নাই বাংলাদেশে মানুষ মরছে না। এমন কোন দিন বাদ আছে? কোথাও হত্যা এইটা ওইটা আছেই তারপরেও আবার গুম খুনের মাধ্যমে মানুষ মারা যাচ্ছে। কতো জনের আহাজারি আমরা শুনেছি। এটা কি গণতন্ত্রের কোন নিয়ম হলো। আমরা বিএনপি খালেদা জিয়ার সময় কী দেখেছি ক্লীন হার্ট। হার্ট পরিস্কার করতে গিয়ে প্রতিদিন ৫ জন ৪ জন ৩ জন করে মানুষ মারা হতো।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সর্বশেষ যে কর্মী সেও জাতীয় পার্টির থেকে এত্তোবড় ক্ষমতা। তারা বলে, বেশি কথা বললে জেলে নিয়ে যাবো কিন্তু। আওয়ামী লীগের ওর এখনো দুধের দাঁতই পড়ে নাই ও আমার প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারিকে বলে, এ ব্যাটা বেশি বাড়াবাড়ি করলে জেলে পাঠায় দেবো। এটা গণতন্ত্র হলো? স্বৈরাচারের আরেক রূপ হলো এই ধরণের গণতন্ত্র। স্বৈরাচার এরশাদ না, বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার, শেখ হাসিনা স্বৈরাচার। আমরা না কোন ভাবেই স্বৈরাচার না।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত