আজ বুধবার, , ২৩ মে ২০১৮ ইং

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ২৩:৪৬

জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা মডেল রোড প্রতিষ্ঠায় সিলেট চেম্বারের মতবিনিময়

সিলেট নগরীর ব্যবসায়ী নেতাদের মতোই সিলেট চেম্বারের “কিপ সিলেট ক্লিন” উদ্যোগকে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানিয়েছেন সিলেটের রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকরা। চৌহাট্টা থেকে জিন্দাবাজার পর্যন্ত “পরিচ্ছন্ন মডেল রোড” প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে নেতারা বলেছেন, পরিচ্ছন্ন একটি সুন্দর নগরী আমাদের সবারই প্রত্যাশা। এই উদ্যোগের সাথে প্রশাসন যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন তাহলে প্রত্যাশিত পরিচ্ছন্ন নগরী প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।  

বৃহস্পতিবার রাতে (১৮ জানুয়ারি ২০১৮ইং) চেম্বার কনফারেন্স হলে দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র উদ্যোগে “কিপ সিলেট ক্লিন” কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত সিলেটের রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় বক্তারা পরিচ্ছন্ন নগর গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সিলেট চেম্বারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমরা বিগত দিনেও সব ভালো কাজের সাথে ছিলাম, আগামীতেও থাকবো। সিলেট পরিচ্ছন্ন নগরী গঠনে দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে প্রত্যাশিত পরিচ্ছন্ন সিলেট নগরী গড়া সম্ভব বলে সাংবাদিক নেতারা অভিমত ব্যক্ত করেন।  

সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ এর সভাপতিত্বে সিলেটের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সিলেট নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন সদা সচেষ্ট রয়েছে। সিলেট চেম্বার অব কমার্সের “কিপ সিলেট ক্লিন” উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে জনসাধারণ এবং ব্যবসায়ীদের সচেতনতা একান্ত জরুরী। তিনি বলেন, ফুটপাত ও রাস্তা দখলকারী হকারদের আমরা অনেকবার উচ্ছেদ করেছি, কিন্তু পুলিশ এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা চলে যাওয়ার পর তারা পুনরায় নিজ নিজ স্থানে ফিরে আসছে। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সচেতন হতে হবে। তিনি কোন দোকানের সামনে হকার বসতে না দেওয়া এবং ব্যবসায়ীদেরকে নিজ নিজ দোকানের বর্ধিত অংশ সরিয়ে নেওয়ার আহবান জানান।

মেয়র আরিফ বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন হকারদের ছবিসহ তালিকা তৈরি করেছে। তাদেরকে শীঘ্রই লালদীঘিপাড় হকার্স মার্কেটে কিছু দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, হকাররা দোকানগুলো অন্য ব্যক্তিকে ভাড়া দিয়ে নিজেরা আবার ফুটপাতে চলে আসে। তিনি এইসব হকারদেরকে কোনভাবে প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ জানান।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট চেম্বারের সভাপতি জনাব খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, সিলেটের ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ “কিপ সিলেট ক্লিন” এর প্রতি যে সমর্থন জানিয়েছেন তাতে আমরা নতুন উদ্যোগে কাজ করার শক্তি পেলাম। তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত কর্মসূচীর আওতায় প্রথমে জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে চৌহাট্টা পয়েন্ট পর্যন্ত মডেল রোড হিসেবে পরিচ্ছন্ন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে শহরের অন্যান্য রাস্তা পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

তিনি ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ দোকানের সম্মুখ নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার রাখা, ভ্রাম্যমান দোকান বসতে না দেওয়া, সকল ব্যবসায়ী মিলে চাঁদা তুলে গার্ড রাখার আহবান জানান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি অবৈধ দোকান এবং হকারদের প্রশ্রয় দেয় তাহলে সিলেট চেম্বারের সদস্যপদ বাতিলের পাশাপাশি তাদের ট্রেড লাইসেন্স বাতিলের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।  

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি জনাব আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি জনাব নাছিম হোসেইন, সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব আসাদ উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য জনাব আ. ন. ম. শফিকুল হক, সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি জনাব মাসুদ আহমদ চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব আলী আহমদ, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জনাব আজমল বক্ত চৌধুরী সাদেক, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ সুজাত আলী রফিক, সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন, জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জনাব ইশরাকুল হোসেন শামীম, এপিপি এডভোকেট মোঃ জুনেল আহমদ, সিলেট জেলা জাসদ এর সভাপতি জনাব লোকমান আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি জনাব ইকরামুল কবির, সাধারণ সম্পাদক জনাব ইকবাল মাহমুদ, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জনাব শাহ্ দিদার আলম নবেল, ইমজার সভাপতি জনাব আল-আজাদ, চ্যানেল এস এর বিশেষ প্রতিনিধি জনাব আব্দুল মালিক জাকা, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি জনাব মুহিত চৌধুরী, বাংলা টিভি’র প্রতিনিধি আবু তালেব মুরাদ প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিজিত চৌধুরী, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক জনাব এডভোকেট মোঃ আব্দুর রহমান চৌধুরী, সিলেট স্টেশন ক্লাবের সভাপতি এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জনাব মাহি উদ্দিন আহমেদ সেলিম, সিলেট চেম্বারের সহ সভাপতি জনাব মোঃ এমদাদ হোসেন, পরিচালক জনাব মোঃ হিজকিল গুলজার, জনাব জিয়াউল হক, জনাব মুশফিক জায়গীরদার, জনাব আমিরুজ্জামান চৌধুরী, জনাব চন্দন সাহা, আলহাজ্ব মোঃ আতিক হোসেন, সিলেট প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি জনাব এনামুল হক জুবের, টেলিভিশন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কামকামুর রাজ্জাক রুনু, টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জনাব দিগেন সিংহ, সিলেট মহানগর জাসদ এর সভাপতি জনাব মিসফাক আহমদ মিশু, জেলা জাসদ এর সাধারণ সম্পাদক জনাব কিবরিয়া চৌধুরী, মহানগর জাসদ এর সাধারণ সম্পাদক জনাব গিয়াস আহমদ, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক জনাব উজ্জ্বল মেহেদী, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রী রজত কান্তি গুপ্ত, ব্যবসায়ী নেতা জনাব মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের, জনাব মোঃ আব্দুর রহমান রিপন, জনাব হোসেইন আহমদ, জনাব রাহেল আহমদ চৌধুরী, জনাব মোঃ আব্দুস সামাদ তোহেল, জনাব মোঃ আতিকুর রহমান প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত