বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ ইং

স্পোর্টস ডেস্ক

১১ জুন, ২০১৯ ১১:১৭

বিশ্বকাপের মূল বাছাইপর্বে উত্তরণের ম্যাচ আজ

বিশ্বকাপের মূল বাছাইপর্বে উত্তরণের ম্যাচ আজ। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে লাওসের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়।

লাওস থেকে ১-০ গোলে জিতে ফেরায় বাংলাদেশের সুবিধা। পরের রাউন্ডে ওঠার স্বপ্ন দেখতে পারছে। লাওস যে এ স্বপ্ন ভণ্ডুল করার ঘোষণা দিয়েছে। তারা ২-০ বা ২-১ গোলে জিতলে লাল-সবুজের স্বপ্ন গড়াগড়ি খাবে মাটিতে। এ তিক্ত অভিজ্ঞতা জেমি ডের আছে, সাফে দুই ম্যাচ জিতেও সেমিফাইনালের দুয়ার থেকে ফিরে যেতে হয়েছিল তার দলকে। বাংলাদেশের এ ব্রিটিশ কোচের চোখে ম্যাচটা তাই অ্যাওয়ে ম্যাচের চেয়েও কঠিন। তাই আগের জয় নিয়ে তিনি আত্মতৃপ্তিতে থাকতে চান না বরং তার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্সের তাগিদ দিয়েছেন খেলোয়াড়দের কাছে, ‘লাওস জেতার জন্য মরিয়া হবে। তাই এ ম্যাচটি বেশ কঠিন হবে। লাওসে জেতার কারণে আত্মতৃপ্তিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই। বরং আগের ম্যাচের চেয়ে ভালো ফুটবল খেলতে হবে এখানে।’

গত ৬ জুন ভিয়েনতিয়েনে ১-০ গোলে জেতে বাংলাদেশ।

জেমি ডে বলেন, ‘ওদের ফ্রি কিক ও কর্নারগুলো খুব বিপদে ফেলেছিল আমাদের। ফেরার পর গত দুই দিন সেট পিস নিয়ে কাজ হয়েছে প্র্যাকটিসে। ম্যাচে কয়েকজনকে হয়তো মার্কিংয়ে রাখতে হবে। এখন আমরা জানি, তাদের সঙ্গে কিভাবে খেলতে হবে। নিজেদের খেলার ওপর আমাদের মনোযোগী হতে হবে, হাফ চান্স থেকেও গোল করতে হবে। কারণ আমরা জিততে চাই। তাড়াতাড়ি একটি গোল পেয়ে গেলে আমাদের খেলাটা আরো ভালো হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের রক্ষণ নিয়েও কাজ হয়েছে, তারা লাওসে ভালো খেলেছে। বড় কথা হলো রক্ষণ সংগঠন ঠিক রেখে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা। প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে খেলা শুরু করতে চাই। আমাদের দেশে খেলা হবে, দর্শক-মাঠ সবই পক্ষে থাকবে।’

লাওসের সিঙ্গাপুরের কোচ ভি সুন্দরম মূর্তি বলছেন, ‘গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ খুব উন্নতি করেছে। তারা এখন শারীরিকভাবেও অনেক ভালো। গতি এবং পাসিং ফুটবল খেলে তারা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। দুই প্রান্ত ধরেও আক্রমণে ওঠে তারা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে জিততে এসেছি, দেশের মাটিতে অনেক সুযোগ তৈরি করেও আমরা গোল করতে পারিনি। আমাদের বিশ্বাস আমরা পারব, শক্তিশালী দলের মতোই শুরু করব এবং বাংলাদেশকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে যাব।’

গত ৯ মাসের ব্যবধানে লাওস দু-দুইবার হেরেছে বাংলাদেশের কাছে। এই কারণে এ ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসেও এগিয়ে থাকার কথা জামাল ভূঁইয়াদের। এটা হয়তো আছে, তবে বাংলাদেশ অধিনায়কের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসের বাড়াবাড়ি নেই, উল্টো আছে সতর্কতা, ‘প্রথম ম্যাচটি কঠিন ছিল, এরপরও আমরা জিতেছি। কিন্তু এ ম্যাচে তারা মরিয়া হয়ে খেলবে, তাই আমাদের প্রথম মিনিট থেকে সতর্ক হয়ে খেলতে হবে। কারণ এ ম্যাচটির গুরুত্ব আমাদের কাছে অনেক। দলের সবাই এ কথা জানে, আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে না পারলে আগামী দু-তিন বছর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব না।’

দেশের ফুটবল তাকিয়ে আছে এই ম্যাচের দিকে। এটা পার হলেই বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল বাছাই পর্বে পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ। সুযোগ পাবে অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার। নইলে প্রায় দুই বছর ফিফা-এফসির ম্যাচশূন্য থাকবে বাংলাদেশ!

আপনার মন্তব্য

আলোচিত