বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

স্পোর্টস ডেস্ক

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩৬

হাসিনা-মমতার হাতে ঘণ্টা বেজে শুরু হবে গোলাপি বলের টেস্ট

শুক্রবার দুপুরে কলকাতার ইডেন গার্ডেনস সবুজ গালিচায় প্রথমবারের মতো গোলাপি বলে দিবা-রাত্রির টেস্টে স্বাগতিক ভারতের মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় ম্যাচ শুরু হবে। ঐতিহাসিক এ ম্যাচ শুরুর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘণ্টা বাজিয়ে টেস্টের উদ্বোধন করবেন।

এরপর আকাশ থেকে সেনা সদস্যরা প্যারাট্রুপার থেকে মাঠে বল ফেলবেন। সেখান থেকে দুই অতিথির হাতে দুটি বল দিবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বল তুলে দিবেন টাইগার অধিনায়ক মুমিনুল হকের হাতে আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিবেন বিরাট কোহলির হাতে। এরপর দুই দলের অধিনায়ক স্বর্ণের প্রলেপ দেয়া কয়েন দিয়ে টসে অংশ নিবেন।

কলকাতায় নভেম্বরের ঠাণ্ডায় খেলা হবে বলে শিশির সমস্যা রূপ নেবে নিশ্চিত। তাই সিএবির বিশেষ অনুরোধে ম্যাচ শুরু হবে ভারতের সময় দুপুর দেড়টায়। প্রথম সেশন খেলা হবে ৩টা পর্যন্ত। ২০ মিনিটের টি-ব্রেকের পর দ্বিতীয় সেশনের খেলা শুরু হবে। ৩টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত চলবে দ্বিতীয় সেশন। এরপর ৪০ মিনিটের সুপার-ব্রেক বা ডিনার ব্রেক৷ সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হবে শেষ সেশন। রাত ৮টায় এবং বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৮টায় শেষ হবে ম্যাচ।

খেলা শুরুর আগে এইচআইভি আক্রান্ত ৩৫ শিশু দুই দলের খেলোয়াড়দের হাত ধরে মাঠে পৌঁছে দিবে। টেস্ট ম্যাচ উদ্বোধনের আগে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বাংলাদেশের সঙ্গীত শিল্পী রুনা লায়লা দুটি বাংলা এবং একটি হিন্দি গান পরিবেশন করবেন।

গোলাপি বলের টেস্ট ম্যাচে আমন্ত্রিত হয়ে শুক্রবার কলকাতায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইডেন টেস্ট নিয়ে আশাবাদ ঝরল তার কণ্ঠে। তিনি বললেন, এই টেস্ট ড্র হলেই আমি খুশি আজ বৃহস্পতিবার সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইডেন টেস্ট নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভালো কিছুরই আশা করছি। আমি ড্র হলেই খুশি। বাংলাদেশ-ভারতের ইতিহাসের প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট মাঠে গড়াবে শুক্রবার দুপুর দেড়টায়। সেজন্য সকাল ১০টায় কলকাতার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ও বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলীকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচের গোলাপি বল ও টসের জন্য বিশেষ গোল্ডেন কয়েন গ্রহণ করে তা দু’দলের অধিনায়ক এবং আম্পায়ারদের কাছে তুলে দেবেন।

রাতে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল আয়োজিত সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচে খেলা ক্রিকেটারদের সম্মাননা জানানো হবে।

প্রথমবারের মতো গোলাপি বলে শুরু হতে যাওয়া এই টেস্ট ম্যাচ নিয়ে দুই বাংলার ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে টান টান উত্তেজনা। এই উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার এবং ভক্তদের কপালে যেন চিন্তার ভাঁজ। বাংলাদেশ আর ভারত কোনো দলই গোলাপি বলে দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলে অভ্যস্ত নয়। এই বল এতোটাই সুঁইং করে যে ব্যাটসম্যানদের জন্য বিপদজনক। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা তাদের অভিজ্ঞতার অলোকে গোলাপি বলে নিজেদের সামলে নিতে পারবেন। যতো ভাবনা টাইগার ব্যাটসম্যানদের ঘিরে।

গোলাপি বলে প্রথম টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখতে ইতোমধ্যে ইডেন গার্ডেনসে পৌঁছেছেন ২০০০ সালে ভারতের বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্ট খেলা ক্রিকেটাররা। ওই সময়ে সেরা ক্রিকেটারদের দু’জন আমিনুল ইসলাম বুলবুল আর আল শাহরিয়ার রোকন দেশের বাইরে থাকায় কলকাতায় যেতে পারেননি। বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও থাকছেন সেখানে।

টাইগার অধিনায়ক মুমিনুল হক বলেছেন, অভিষেক টেস্টের খেলোয়াড়রা মাঠে উপস্থিত থাকলে আমাদের মনোবল আরও বাড়বে। বল নিয়ে লাল কিংবা গোলাপি ভাবছি না। সম্মানজনক স্কোর করাই আমাদের লক্ষ্য।

ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি বলেছেন, প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্টের আগে পিঙ্ক (গোলাপি) বলে একটি প্র্যাকটিস ম্যাচ আবশ্যক ছিল। আমি বুঝতে পারছি না কেনো আয়োজকরা সেটা করলো না। প্র্যাকটিস ম্যাচ হলে বাংলাদেশেরও জড়তা কেটে যেতো আমরাও নিজেদের ঝালাই করে নিতে পারতাম।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত