সোমবার, , ২১ জানুয়ারী ২০১৯ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ মে, ২০১৬ ১১:৪৪

অনন্তের জন্য এলাকাবাসীর উদ্যোগে এবার স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ

 ‘ওইখানে আমিও আছি/যেখানে সূর্যোদয়, প্রিয় স্বদেশ পাল্টে দেব/তুমি আর আমি বোধ হয়...’

গত বছরের ১২ মে বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশকে যে স্থানে হত্যা করা হয়েছিল তার এক সপ্তাহ পরেই  ১৮ মে এলাকাবাসীর সহায়তায় ‘অনন্ত বিজয় দাশ স্মৃতি রক্ষা পরিষদ’ দেয়ালচিত্র নির্মাণ করে সেখানে অনন্তের লেখা এই লাইনগুলোই লিখে দিয়েছিল। বছর ঘুরতে সেই দেয়ালচিত্র মলিন হয়েছে, কারা যেন সেটা মুছে দেয়ারও চেষ্টা করেছে। এবার তাই আরেকটু বড় পরিসরে স্থায়ী একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছে এলাকাবাসী।

অবশ্য ওই সময়ই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল দেয়ালচিত্রের স্থানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার এক বছর পালন করা হবে। সে ঘোষণা অনুযায়ী পরিষদের পক্ষে আইনজীবী মইনুদ্দিন আহমদ জালাল স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। গত বছর দেয়ালচিত্র তৈরির সময় এলাকাবাসীর যে সহায়তা ছিল, একইভাবে সে সহায়তায় স্মৃতিস্তম্ভও নির্মিত হয়েছে।



মুষ্টিবদ্ধ ও সমুন্নত হাতের মাঝে কলম আকৃতির স্তম্ভে বড় করে লেখা হয়েছে-  "জ্ঞানের জ্যোতি ছড়াবে অনন্ত, অনন্তকাল"।

স্মৃতিস্তম্ভটির নকশা করেছেন অরূপ দাশ। সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন,  সকল ধরনের সাম্প্রদায়িকতা, উগ্রবাদের বিপক্ষে অনন্তের কলম হাতিয়ার হিসেবে সমুন্নত, এই কনসেপ্ট তোলে ধরা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভের নকশায়।

উদ্যোক্তাদের সূত্রে জানা যায়, স্তম্ভটির নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। অনন্তের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর দিন বৃহস্পতিবার (১২ মে ২০১৬) বেলা ১১টায় এটি উন্মোচন করা হবে।

২০১৫ সালের ১২ মে সকালে অফিস যাওয়ার পথে বাসা অদূরে নিজ পাড়া সুবিদবাজারের নূরানী আবাসিক এলাকার দস্তিদার দিঘির পাড়ে কয়েকজন উগ্র ধর্মীয় জঙ্গি নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করে অনন্ত বিজয় দাশকে। অনন্ত বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখি করতেন। তার লেখা ও সম্পাদিত একাধিক বই প্রকাশিত রয়েছে। সিলেটে বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক অনন্ত 'যুক্তি' নামের বিজ্ঞান বিষয়ক ম্যাগাজিনেরও সম্পাদক ছিলেন।

হত্যার পরদিন অনন্তের বড় ভাই রত্নেশ্বর বাদী হয়ে সিলেট মহানগরের বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাত চার দুর্বৃত্তকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিতে স্থানান্তর হলে স্থানীয় একটি পত্রিকার ফটোসাংবাদিককে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি জামিন পান।

গত বছরের ২৯ আগস্ট সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পূর্ব পালজুর গ্রাম থেকে মান্নান ইয়াহইয়া ওরফে মান্নান রাহী (২৪) ও মোহাইমিন নোমান ওরফে নোমান নামে দুই ভাই এবং আবুল খায়ের ওরফে রশীদ আহমদ (২৪) নামের তাঁদের আরেক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। মামলায় বর্তমানে মান্নান রাহী নামের একজন জেলে রয়েছেন।

তবে নোমান ও রশীদ সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে ৫ মে সিলেট কারাগার থেকে বের হন।  ওই দিনই নাশকতার এক মামলায় আটক দেখিয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানার পুলিশ ফের গ্রেপ্তার করে তাঁদের।


আপনার মন্তব্য

আলোচিত