আজ বৃহস্পতিবার, , ২৬ এপ্রিল ২০১৮ ইং

সদরুল আমিন, ছাতক

১২ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৮:৪৯

ধসে পড়ার শঙ্কায় ছাতকের ইংলিশ টিলা

টিলার ওপর ৫০ ফুট উঁচু একটি পাকা স্তম্ভ। ব্রিটিশ আমলে এক ইংরেজ নারীর স্বামীর প্রতি ভালোবাসার স্মৃতিস্বরূপ তৈরি করা হয় এই বিশাল স্মৃতিস্তম্ভ। প্রায় দেড়শ' বছরের পুরনো সু'উচ্চ টিলার উপর নির্মিত স্মৃতি সৌধটির গায়ে গ্রানাইট পাথরে ইংরেজি ভাষায় লেখা ব্রিটিশ নারীর স্বামীর হৃদয় ছোঁয়ানো ভালোবাসার আকুতি আজও সব শ্রেণীর মানুষের মনকে দোলা দেয়। সেই থেকে এলাকাবাসীর কাছে এটি ‘ইংলিশ টিলা’ নামে পরিচিত। একসময়ের দৃষ্টিনন্দন এই স্মৃতিস্তম্ভ এখন সৌন্দর্য ও আকর্ষণ দুটিই হারিয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাড়ী এলাকায় এ টিলার অবস্থান। টিলাসহ দুই একর ৬০ শতক জমি সরকারি খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। এই টিলার চারপাশে বসবাসরত প্রায় ৫০টি পরিবারের মাথার ওপর এখন বিপদ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে স্তম্ভটি। এর চারদিকে ফাটল ধরেছে। ভেঙে পড়েছে কিছু অংশও। যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে স্তম্ভটি। ঘটতে পারে মানুষের প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে টিলার পাদদেশে ২৫টি দরিদ্র ভূমিহীন পরিবারসহ নিজস্ব মালিকানার জমিতে আরও ২০ থেকে ২৫টি পরিবার রয়েছে। কয়েক বছর আগে টিলার উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এই উত্তর দিকের খুপড়ি ঘরগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে। টিলার ওপরে উঠে দেখা যায়, স্মৃতিস্তম্ভটি চারকোণ আকৃতির। পাশেই জর্জ ইংলিশের সমাধি। সমাধির দেয়ালও ভেঙে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে এই স্তম্ভ ভেঙে ফেলা উচিত।

টিলার পূর্ব পাশে ১০ থেকে ১২টি টিনের বেড়া ও টিনের চালার ছোট ছোট ঘর । এদিকটাও ঝুঁকিতে আছে। টিলার একেবারে ঢালে প্রথম ঘরটি রোজিনা বেগমের। দুই সন্তান নিয়ে সেখানে থাকেন তিনি।

রোজিনা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘গরিব মানুষ যাইমু কই, সরকার যদি জায়গা-জমিন দিয়ে ঘর বানাইয়া দিত, তাইলে উপায় অইত।’

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন বলেন, এটি নাকি ঐতিহ্যের অংশ, তাই ভাঙা যাবে না।

ছাতক উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসি ল্যান্ড) সোনিয়া সুলতানার সাথে এই বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, নিচ থেকে টিলার উচ্চতা কমপক্ষে দুইশো ফুট হবে। আর টিলার ওপর থেকে স্মৃতিস্তম্ভের উচ্চতা হবে আরও ৪০ থেকে ৫০ ফুট।

এই টিলা নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা থাকায় আমরা কোনো কিছু করতে পারছি না’ বলে জানান তিনি।  

জনশ্রুতি আছে ১৭৭৪ সালে এইচটি রাইট ও জর্জ ইংলিশ নামে দু'জন ব্রিটিশ ব্যবসার জন্য ছাতক শহরে এসে 'রাইট ইংলিশ কোম্পানি' নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। তারা এ কোম্পানির মাধ্যমে এ দেশ থেকে পাথর, চুন, তেজপাতা ও কমলালেবু সরবরাহ করতেন। মূলত ব্যবসার কারণেই ব্রিটিশ দুই ইংরেজের বসবাস ছিল ছাতকে। ১৮১৯ সালে এইচটি রাইট নামে এক ইংরেজ ছাতকে মারা যান। পরে রাইটের স্ত্রীর  কাছ থেকে ব্যবসার অংশীদারিত্ব কেনেন জর্জ ইংলিশ নামে এক ইংরেজ। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির 'জর্জ ইংলিশ কোম্পানি' নামে নামকরণ করা হয়। পরে জর্জ ইংলিশ মারা যাওয়ার পর তার ছেলে হেনরি ইংলিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত