মঙ্গলবার, , ২৩ অক্টোবর ২০১৮ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:৪৬

বৃষ্টি মৌসুমে সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগে নগরবাসী

বৈশাখের শুরু থেকে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। বৃষ্টিতে এমনতিই নগরীর সড়কগুলো কাদাজলে একাকার হয়ে পড়ে। তারউপর পুরো নগরীর বেশিরভাগ সড়কে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নগরবাসী।

সিটি কর্পােরেশন সূত্রে জানা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্ত পানির লাইন সংস্কার করা হচ্ছে। এরফলে বিভিন্ন সড়কে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। তবে দু'একদিনের মধ্যে এ কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন নগর কর্তারা।

গত কয়েকদিন ধরেই নগরীর জিন্দাবাজার-নাইওরপুল সড়কে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। এতে করেই এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও পথচারীদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। সড়ক খুঁড়ে পাশেই মাটির স্তুপ ফেলে রাখায় সংকীর্ন হয়ে পড়েছে সড়ক। এতে দেখা দিচ্ছে তীব্র যাজট। আর মাটির স্তুপের কারণে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতেও পারছেন না পথচারীরা। আবার বৃষ্টিতে এসব মাটি ধুয়ে সড়কময় ছড়িয়ে পড়ছে কাদা। আর বৃষ্টি না হলে পোহাতে হচ্ছে ধুলোর দুর্ভোগ।

সড়ক খোঁড়ার ফলে নগরীর নয়াসড়কে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় রোববার রাতে ওই গর্তে আটকা পড়ে পণ্যবাহী একটি ট্রাক। দীর্ঘসময় পর এই ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়।

ওই ট্রাকের চালক করিম মিয়া বলেন, দূর থেকে দেখে বুঝার উপায় নেই যে এখানে এতো বড় গর্ত। উপরে হাল্কা ভাবে মাটি চাপা দিয়ে যাওয়ায় আজ দূর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

রোববার দিনে জিন্দাবাজারে এরকম গর্তে একাধিক রিকশা ও অটোরিকশাকে আটকা পড়তে দেখা যায়।

রিকশা করে জিন্দাবাজার হয়ে চৌহাট্টায় রওয়ানা করা যাত্রী আশিকুর রহমান প্রশ্ন রেখে বলেন, কেনো বৃষ্টির মৌসুমেই সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি করতে হবে, কেনো আরো মাসখানেক আগে এই সংস্কার কাজ করা হলো না?

মিছবাহ উদ্দিন নামের এক পথচারী বলেন, এই দুর্ভোগ একদিনের নয়।এমন অবস্থা চলছে অনেকদিন ধরে। কিন্তু দুর্ভোগ কমাতে নগর কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।

এ ব্যাপারে পানির লাইন সংস্কার কাজে নিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে ত্তত্ত্বাবধানকারি মোহাম্মদ আব্দুর সত্তার বলেন, গত ২৫ দিন ধরে রাতদিন কাজ চলছে। আমরা দিনরাত কাজ করে দ্রুত এই কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুম আসার আগেই নগরীর পানির লাইন সংস্কার করতে সড়ক খুঁড়তে হচ্ছে।  দুর্ভোগ কমাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত একাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ কাজের বিস্তারিত তথ্যের জন্য তিনি সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী আকবরের সাথে কথা বলতে রোববার নগরভবনে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাইরে আছেন জানিয়ে বলেন, অফিসে গিয়ে কাগজ দেখে বিস্তারিত বলবেন। তবে এরপর গত দুদিনেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত