আজ সোমবার, , ২০ আগস্ট ২০১৮ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:১৬

বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়া ধোপাদিঘীতে স্থাপনা নয়, আশ্বাস মেয়রের

বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়া নগরীর ধোপাদিঘীতে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর ভবনে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক সংগঠকদের সাথে এক বৈঠকে মেয়র এ আশ্বাস দেন।

ওই বৈঠক শেষে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এমনটি জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম।

সম্প্রতি নগরীর অন্যতম বৃহৎ ধোপাদিঘী ভরাট করে হাঁটার রাস্তা (ওয়াকওয়ে) ও স্থাপনা নির্মান শুরু করে সিটি কর্পোরেশন। গত ২১ এপ্রিল 'ধোপাদিঘী ভরাট করছে সিটি করপোরেশন' শিরোনামে সিলেটটুডে-তে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ধোপাদিঘীতে স্থাপনা নির্মানে প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার নগরীতে মানববন্ধন করে বাপা। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)ও এই স্থাপনা নির্মান বন্ধের দাবিতে মেয়রকে চিঠি প্রদান করে। এরপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিবেশকর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মেয়র আরিফ।

বৈঠকের ব্যাপারে রাতে ফেসবুকে আব্দুল করিম কিম লিখেন-

সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক সম্প্রতি ধোপাদিঘীর সংস্কার কাজ ও সৌন্দর্য্যবর্ধন কালে দখলদারদের উচ্ছেদ না করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদ জানানো হয় পরিবেশবাদীদের পক্ষ থেকে। সচেতন নাগরিকেরাও সানাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ধোপাদিঘী সংস্কারের নামে ভরাট চলছে বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা'র পক্ষ থেকে প্রতিবাদী নাগরিকবন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয় । বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)-সিলেট অফিস থেকে এ বিষয়ে উস্বেগ জানিয়ে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বরাবর চিঠি প্রেরণ করা হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আজ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক ও বিভিন্ন নাগরিক প্রতিনিধিদের একটি দল আলোচনায় বসে।

মেয়রের আমন্ত্রণে বাপা সিলেট শখার সহ-সভাপতি ড. নাজিয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে নাগরিক প্রতিনিধি দল আজ বিকেল ৪টায় সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় বসে।

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী নুরুল হুদা ও প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজ ধোপাদিঘীর সংস্কার ও সৌন্দর্য্যবর্ধন নিয়ে তাঁদের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

নাগরিক প্রতিনিধিরা এই দিঘীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ করার দাবী জানান ও জলাধার আইনের ব্যাতয় ঘটিয়ে স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগে উদ্বেগ জানান।

মেয়র নাগরিকদের এই উদ্বেগকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে আশ্বস্ত করেন । এছাড়াও দিঘীর অবৈধ দখল উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে সমন্বিত কার্যক্রম শুরু করতে নাগরিকদের সহায়তা ও সমর্থন কামনা করেন।

নাগরিক প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাপা-সিলেট এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আখতার, নাগরিক মৈত্রী সিলেটের আহ্বায়ক সমরবিজয় সি শেখর, নাগরিক সংগঠক অ্যাডভোকেট গোলাম সোবহান চৌধুরী দিপন, পরিবেশবাদী সংগঠন ভুমিসন্তান বাংলাদেশের সমন্বয়ক আশরাফুল কবির, সিনিয়র সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বদর, গণজাগরণ মঞ্চ- সিলেট-এর মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও উর্বশীর সভাপতি মোকাদ্দেস বাবুল, বাপা সিলেটের যুগ্ম সম্পাদক সাংবাদিক ছামির মাহমুদ, সাংবাদিক গোলজার আহমদ, ভুমিসন্তান বাংলাদেশের দ্বোহা চৌধুরী, সারি বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল হাই আল হাদী, ফটো সাংবাদিক মিঠু দাস জয় প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত