আজ বুধবার, , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

পিকলু চক্রবর্তী

১৪ মে, ২০১৮ ২৩:২৮

চা শ্রমিক কন্যা মিনার স্বপ্ন যাত্রা!

একটি অবহেলিত জনগোষ্ঠী চা শ্রমিক। চা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দুঃখ-দুর্দশার গল্প আমরা অনেক আগে থেকেই শুনে আসছি। যেখানে দিনে আট ঘণ্টা টানা কাজ করেও সকালে চা-পাতা ভাজা, দুপুরে শুকনা রুটি এবং রাতে মরিচ দিয়ে ভাত খেয়ে কাটাচ্ছে তাদের জীবন। তাছাড়া চা শ্রমিকের অধিকাংশ ছেলে-মেয়েরাই বঞ্চিত হচ্ছে উচ্চ শিক্ষা থেকে। বঞ্চিত হচ্ছে সু চিকিৎসা থেকে। তবে এরই মধ্য থেকে এমন কিছু সাফল্যের সংগ্রামের গল্প আছে যা মাঝেমাঝে আমাদের ভাবিয়ে তুলে।

তেমনই একটি গল্প মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আলিনগর চা বাগানের রঘুনাথ রবিদাস ও শ্রীমতী রবিদাসের মেয়ে মিনা রবিদাসের।

চা শ্রমিক কন্যা মিনা রবিদাস তার স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে আগামী ২৪ আগস্ট ৫ম ক্যারাম বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ ক্যারাম ফেডারেশনের পক্ষ থেকে  যাচ্ছেন দক্ষিণ কোরিয়া।

পরিবারে দুই ভাই খোকন রবিদাস ও রাজেশ রবিদাসের ছোট মিনা। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।

জানা যায়, আগামী ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ৫ম ক্যারাম বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা এতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০ টি দেশ অংশগ্রহণ করবে। বাংলাদেশ ক্যারাম ফেডারেশনের উদ্যোগে বাংলাদেশের খেলোয়াড় হিসেবে মিনাসহ আরো ৩ জন্য নারী প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করবে এই বিশ্ব প্রতিযোগিতায়।

তারা হলেন ঢাকা থেকে আফসারা নাসরিন, জামালপুরের শামসুর নাহার মাকসুদা ও সিলেটের ঋতু চন্দ। চট্টগ্রামের হেমায়েত উল্ল্যাহ, খুলনার হাফিজুর রহমান, ঢাকার রনি ও সালাউদ্দিন। আগামী ২০ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছাড়তে পারেন তারা।

মিনার সাথে মুঠোফোনে আলাপচারিতায় মিনা তার স্বপ্নযাত্রার গল্প বলেন। মিনা জানান, ২০১৭ সালের মার্চে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ম বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারাম প্রতিযোগিতায় শাবিপ্রবির প্রতিনিধি হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি।

মূলত ক্যারাম প্রতিযোগিতায় এখানেই তার অভিষেক ঘটে। এর পর ২০১৭ সালে ৩০ শে ডিসেম্বর বাংলাদেশ ক্যারাম ফেডারেশনের উদ্যোগে বিজয় দিবস ক্যারাম প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলে ব্যক্তিগত ভাবে সেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।

চলতি বছরের ৪ঠা জানুয়ারি এই প্রতিযোগিতায় সমাপনী পর্বে ২য় স্থান অর্জন করেন মিনা। প্রথমস্থান অর্জনের নেশা আর নিজেকে এগিয়ে নেয়ার অদম্য ইচ্ছায় গত ২৪ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।

সেখানে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরেন। এর পরপরই স্বপ্ন জয়ের ডাক আসে উনার কাছে। গত ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ক্যারাম ফেডারেশনের উদ্যোগে বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নিজেকে প্রমাণের লড়াইয়ে নেমে পড়েন মিনা।

বাছাই পর্বে ২য় স্থান অর্জন করে মিনা বিশ্বকাপ খেলার টিকেট পেয়ে যান। তাই আগামী ২৪ আগস্ট বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে হাজির হবেন তিনিসহ বাংলাদেশের নারী-পুরুষ আট জন।

যেখানে চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর সন্তানেরা সর্বদা পিছিয়ে রয়েছে সেখানে একজন চা শ্রমিকের মেয়ে হয়েও কিভাবে তিনি এই পর্যায়ে এসেছেন? কৌতূহলী এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আজকের এই পর্যায়ে এসেও নিজেকে বড় ভাবতে পারছিনা। কারণ আমার জীবন খুব ছোট পরিসরে ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা না করলে আমিও অন্য দশজনের মতো চা বাগানের সীমানায় পড়ে থাকতাম।

যদিও প্রথম বিদেশ যাওয়ার খবরে পরিবারের সবাই চিন্তিত হয়ে যান। পরে একটা পর্যায়ে সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। তারপর মিনা নিজের ইচ্ছে থেকে বললেন, ভালোভাবে খেলাধুলা করতে চাই। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চাই। ক্যারাম খেলার দ্বারা বিশ্ব দরবারে  কাছে লাল সবুজের পতাকা উড়াতে চাই।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত