আজ সোমবার, , ২০ আগস্ট ২০১৮ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১৬ মে, ২০১৮ ১৭:৫৬

বিনিয়োগ করে প্রতারিত প্রবাসী নারী!

সিলেটে একটি সিকিউরিটি কোম্পানির কর্মকর্তার প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক ব্রিটিশ বাঙালি নারী। এই প্রতারকের খপ্পরে পড়ে প্রবাসে কষ্টার্জিত প্রায় দেড় কোটি টাকা হারাতে বসেছেন বসেছেন এই নারী।

বুধবার এসব তথ্য তুলে ধরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এ অভিযোগ করেন প্রতারণার স্বীকার হওয়া প্রবাসী নারী ফেরদৌসি রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন- একজন ব্রিটিশ নাগরিক হলেও জন্মসূত্রে আমি বাংলাদেশের সন্তান। আমার বাবা শফিকুর রহমান চৌধুরী বাংলাদেশ শিক্ষা বিভাগের একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। ব্রিটেনে বসবাস করলেও আমার মন প্রাণ সব সময়ই প্রিয় বাংলাদেশের জন্য উতলা থাকতো। দেশের অগ্রযাত্রায় শরিক হওয়ার ইচ্ছায় প্রবাসে আমার নিজের এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের শ্রমে-ঘামে অর্জিত টাকা দেশে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত আজ আমার জন্য নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার মতো আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি প্রতারক সিকিউরিটি কোম্পানি ও তার অসৎ কর্মকর্তাদের কারণে। ঐ কোম্পানির মাধ্যমে আমার বিনিয়োগ করা প্রায় ৭৮ লাখ ও কোম্পানি কর্মকর্তাকে ঋণ হিসাবে দেওয়া ৮৫ লাখসহ মোট ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা আজ হারাতে বসেছি।

তিনি বলেন- বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আইএসসিএল এর সিলেট ব্রাঞ্চের (চৌহাট্টা মানরু শপিং সিটিতে অবস্থিত) ইনচার্জ কামরুজ্জামান রুম্মান আমার পূর্ব পরিচিত। তিনি তার কোম্পানির মাধ্যমে দেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের জন্য তিনি আমাকে উৎসাহিত করেছিলেন। বিভিন্ন ধরনের মুনাফার নিশ্চয়তা দিলে আমার মধ্যে দেশে বিনিয়োগের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। তার কথা-বার্তা শুনে ও তার কোম্পানির সুযোগ সুবিধার কথা জেনে আমি তাকে বিশ্বাস করি এবং ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত তার ও আইএসসিএল কোম্পানির মাধ্যমে আমি শেয়ার বাজারে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। তাকে খুবই বিশ্বাস করতাম বিধায় লভ্যাংশ না নিয়ে বিনিয়োগ করতেই থাকি। কামরুজ্জামান রুম্মান আমার বিনিয়োগকৃত মূলধন ও লভ্যাংশ নিরাপদ আছে, সব সময় আমাকে তেমন আশ্বাস দিতেন বিধায় আমিও কখনো তাকে সন্দেহের চোখে দেখিনি। কামরুজ্জামান রুম্মান ২০১৭ সালে আমার কাছে তার নিজের খুবই লাভজনক একটি ব্যবসার জন্য ১ কোটি টাকা ঋণ চেয়েছিলেন। এক সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য করছি বিধায় তাকে আমি ১ কোটি টাকা ঋণ দিতে না পারলেও ২০১৭ সালে মার্চ থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে মোট ৮৫ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করি। টাকাগুলো চেকের মাধ্যমে দেওয়া হয়। ঐ বছরের ৩০ মার্চ ১০ লাখ, ২৩ এপ্রিল ১৫ লাখ, ১৮ মে ৬ লাখ ৬২ হাজার, ২৮ নভেম্বর ১০ লাখ, ২৯ নভেম্বর ৩৫ লাখ ও বিভিন্ন সময়ে নগদ আরও ৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ঋণ দেই।

তিনি আরও বলেন- সম্প্রতি তিনি কামরুজ্জামান রুম্মান ও তার কোম্পানি আইএসসিএল সম্পর্কে কিছু নেতিবাচক ও ভয়ঙ্কর তথ্য জানতে পারেন কয়েকজন পরিচিত ব্যবসায়ী আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের মাধ্যমে। যা শুনে আমি শঙ্কিত হয়ে পড়ি। তার সাথে যোগাযোগ করে আমার বিনিয়োগকৃত অর্থ ও তার লভ্যাংশ সম্পর্কে জানতে চাই এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় লেজার বিবরণি (স্টেটমেন্ট) দেখাতে বলি। তিনি আমাকে যেসব কাগজপত্র দিয়েছেন, তা নিয়ে আমি আইএসসিএল-এর প্রধান অফিসে যোগাযোগ করি। সিলেট ব্রাঞ্চ থেকে কামরুজ্জামান রুম্মানের দেয়া স্টেটমেন্ট জমা দিলে হেড ব্রাঞ্চও আমার লেনদেনকৃত দুটি হিসাবের (যার নং-১৬১৫৭ ও ১৬১৬৪) স্টেটমেন্ট প্রদান করে। তারা আমাকে যেসব কাগজপত্র দিয়েছেন তাতে দেখা যায় কামরুজ্জামান রুম্মানের দেওয়া যাবতীয় কাগজপত্র ও হিসাব ভুয়া।তখন আমি কামরুজ্জামান রুম্মানকে হিসাব নিকাশের ফারাক এবং ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি হিসাব নিকাশে ভুল ভ্রান্তির কথা স্বীকার করেন। তিনি এক পর্যায়ে আমার বিনিয়োগকৃত ৭৮ লাখ ও ঋণ হিসাবে দেওয়া ৮৫ লাখ টাকার সবই ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি আমাকে এক দফায় ৫ ও আরেক দফায় ২ লাখ টাকা প্রদান করেন। এরপরই তিনি আমাকে ৭৮ লাখ টাকার তিনটি চেক প্রদান করেন। একটি ৫৩ লাখ, একটি ১০ ও আরেকটি ১৫ লাখ টাকার। কিন্তু তার চেক নিয়ে আমি টাকা তুলতে গেলে প্রতিটি চেকই ব্যাংক থেকে প্রত্যাখ্যাত হই। তার একাউন্টে এই পরিমাণ টাকা ছিল না। আমি বিষয়টি নিয়ে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি নানা টালবাহানা শুরু করেন এবং এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ অবস্থায় আমি এই সিকিউরিটি কোম্পানির কর্মকর্তা কামরুজ্জামান রুম্মানের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছি। তবে আইএসসিএল কোম্পানি ও কামরুজ্জামান রুম্মানের ব্যাপারে এখনও আমি আইনের আশ্রয় নেইনি। এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিকিউরিটি কোম্পানি আইএসসিএল’র সিলেট ব্রাঞ্চ ইনচার্জ ১৪৯, তোপখানা এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে কামরুজ্জামান রুম্মানের প্রতি আহ্বান জানাই, আমার বিনিয়োগকৃত ৭৮ লাখ টাকা ও ঋণ হিসাবে আমার কাছ থেকে নেওয়া ৮৫ লাখ টাকা ফেরত দিন (নগদ ৭ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে)। অন্যথায় আমি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত