আজ বুধবার, , ১৮ জুলাই ২০১৮ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ জুলাই, ২০১৮ ০০:৪০

প্রতীক পেয়েই আটঘাট বেঁধে মাঠে প্রার্থীরা

প্রচারণা চলছিলো আগে থেকেই, তবে বিধিনিষেধের কারণে এতোদিন কিছুটা রাখঢাক ছিলো। মতবিনিময়, কুশল বিনিময়- ইত্যাকার নামের আড়ালে চালাতে হয়েছে। সেই রাখঢাকটুক্ওু উঠে গেলো মঙ্গলবার। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামলেন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন থেকে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্ধ করা হয়। প্রতীক পেয়েই প্রচারণা শুরু করেন প্রার্থীরা।

জাতীয় নির্বাচনগুলোর ক্ষেত্রেই এটি প্রায় নিয়ম হয়ে গেছে, প্রচরণা শুরু আগে সিলেট হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করে যাবেন রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ ব্যক্তিরা। আর সিলেট সিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে এর ব্যতয় হবে না তা তো অনুমেয়ই।

ফলে প্রতীক পেয়েই প্রায় সব মেয়র প্রার্থীরা ছুটে গেছেন শাহজালাল (র.) মাজারে। মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করলেন তারা।

মূূলত মঙ্গলবার থেকেই সিলেটে শুরু হলো নির্বাচনী আমেজ। মঙ্গলবার সকালে নির্বাচন কমিশনের সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্ধ করা হয়।
এসময় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আলীমুজ্জামান সকল প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজ থেকে যদিও প্রচারণা শুরু হলো তবু প্রচারণার ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনেষধ আছে। আমি আশা করবো সব প্রার্থীরা এগুলো মেনে চলবেন। সবার সহওযোগিতায় আমরা একটি সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে চাই।  

সিলেট সিটিতে মেয়র পদে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে চারজনই দলীয় প্রার্থী। ফলে স্বভাবতই আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান নৌকা, বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী ধানের শীষ, সিপিবি-বাসদ প্রার্থী আবু জাফর মই ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনে প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন হাত পাখা প্রতীক পান।
 অপর তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়ের টেবিল ঘড়ি, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম বাসগাড়ি ও এহসানুল হক তাহের হরিণ প্রতিক পান।  

মেয়র প্রার্থীদের কাউন্সিলর পদে ১২৭ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬২ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিক বরাদ্ধ দেওয়া হয়।

সকালে প্রতীক পেয়েই মেয়য়র প্রার্থীরা ছুটে যান হযরত শাহজালাল (র.)। মাজার জিয়ারতের পর দরগাহ মহল্লা এলায় জনসংযোগ করেন প্রার্থীরা।

এসময় বদরউদ্দিন আহমদ কামরান নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আমি জনগনের খেদমত করে যেতে চাই।
তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমাদের দলও এবার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। ৩০ জুলাই নৌকার বিজয় হবে বলেই আশা করি।
কামরান বলেন, সিলেট নগরবাসীর জন্য একটি আদর্শ নগরী গড়ে তুলতে সবার সমর্থন প্রয়োজন। আশা করছি সবাই সহযোগিতা করবেন।

কামরানের পরই মাজার জিয়ারতে আসেন আরিফুল হক চৌধুরী। মাজার জিয়ারত শেষে আরিফ বলেন, গত মেয়াদের বেশিরভাগ সময় আমি কারাগারে ছিলাম, তাই আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অনেকটা বাস্তবায়নের সুযোগ পাইনি। তারপরও আমি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন করতে পেরেছি বলে মনে করি।

তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে অনেক চক্রান্ত ষড়যন্ত্র চলছে। সিলেটবাসি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। আশা করি আগামী ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে সিলেটবাসি ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবেন।

নগরবাসীর উদ্যোশে আরিফ আরও বলেন, সিটি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র আপনাদের পাহারা দিতে হবে। কোনো ধরণের অশুভ শক্তি যেন চালবাজি করেতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে বলেও উল্লেখ করেন সদ্য সাবেক এই সিটি মেয়র।
প্রচারণার শুরুতে জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়েত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়েরও। তবে জুবায়ের মাজার জিয়ারতে আসেননি।

বিকেলে নিজেদের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করেন আরিফ ও কামরান। আরিফ নগরীর শাহী ইদগার একটি কমিউনিটি সেন্টারে ও কামরান নগরীর মির্জাজাঙ্গালে প্রধান কার্যালয় চালু করেন। এরআগে দুপুর থেকেই শুরু হয় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণামূলক মাইকিং। সব মিলিয়ে নগরজুড়েই শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। এই উৎসবের নাম নির্বাচনী উৎসব। যা চলবে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত। এদিনই এই সিটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত