আজ সোমবার, , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৬:০৪

নবীগঞ্জে সুস্থ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি, তদন্ত কমিটি বাতিল

নবীগঞ্জের আউশকান্দি বাজারে অবস্থিত অরবিট হাসপাতালের চিকিৎসক খায়রুল বাশারের বিরুদ্ধে প্রতারণার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি বাতিল করা হয়েছে।

বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা সিভিল সার্জনের নির্দেশে ওই ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটি বাতিলের ঘটনায় ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। তবে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির সদস্যদের চেয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক উচ্চপদস্থ হওয়ায় ওই কমিটি বাতিল করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রথীন্দ্র চন্দ্র দেবকে সভাপতি করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এদিকে হাসপাতালের পরিচালক মহিবুর রহমান হারুন হঠাৎ করে দেশ ত্যাগ করার খবর পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন প্রতারণার শিকার হওয়া শিশুর পরিবার।

সেই 'সুস্থ শিশু' জিবার মা শিরিনা আক্তার জানান, ‘চিকিৎসক খায়রুল বাশারের প্রতারণার ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, তদন্ত কমিটি কর্তৃক আমাকে নোটিশ দেওয়া হয় বুধবার সকালে হাসপাতালে উপস্থিত হওয়ার জন্য। আমি সেখানে উপস্থিত হলে ডা. আব্দুস সামাদ, ডা. ইফতেখার হোসেন চৌধুরী ও ডা. জান্নাত আরা চৌধুরী আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। কিন্তু কোন কিছু না লিখেই সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে বাড়ি চলে যেতে বলেন।’ এ ঘটনাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন শিরিনা আক্তার।

এ ব্যাপারে ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, সিভিল সার্জনের নির্দেশে আমাকে সভাপতি করে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এরই প্রেক্ষিতে আমরা ওই শিশুর মাকে নোটিশ করে তার বক্তব্য গ্রহণ করি। পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জানানো হয় কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য। তবে সাদা কাগজে স্বাক্ষরের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন তাকে আমরা আন্তরিকতার সহিত ওই বিষয়টি নিয়ে বুঝিয়েছি অন্য কিছু নয়।

উল্লেখ্য, ডা. খায়রুল বাশার কর্তৃক সুস্থ শিশুকে অসুস্থ বানিয়ে উন্নত চিকিৎসার নামে অন্য একটি প্রাইভেট হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর নামে প্রতারণার খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারিত হয়। হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আবু জাহির জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব করলে পরে সিদ্ধান্তক্রমে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরী ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করার জন্য নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এরই প্রেক্ষিতে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নবীগঞ্জ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুস সামাদকে প্রধান করে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইফতেখার আলম চৌধুরী ও মেডিকেল অফিসার ডা. জান্নাত আরা চৌধুরীকে নিয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন।

ওই কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী চিকিৎসকের শাস্তি দাবি করছেন শিশুর পরিবার।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত