আজ মঙ্গলবার, , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৬:৫৬

নানা আয়োজনে শাহ আব্দুল করিমের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। প্রয়াত বাউলের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করে।

বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার উজানধলে বাউল সম্রাটের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়।

বাউল শাহ আবদুল করিমের জন্ম ও সমাধিস্থান সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় দুপুর ২টায় শাহ আব্দুল করিম পরিষদ ও ধল গ্রামবাসীর উদ্যোগে তার অমর কীর্তি ও সৃষ্টি নিয়ে উজান ধল নিজ বাড়ীতে মিলাদ মাহফিল ও বিকাল ৪টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পরিষদের সভাপতি ও আব্দুল করিমের ছেলে শাহ নুর জালালের সভাপতিত্বে ও আপেল মাহমুদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় শাহ আব্দুল করিমের সৃষ্টি ও কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম, বাউল সম্রাটের একান্ত সহচর ভাটিবাংলা বাউল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ আব্দুল তোয়াহেদ, লোকগবেষক সৈয়দা আখি হক, কথাসাহিত্যিক জাহানারা বেগম, দিরাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ চৌধুরী, প্রশান্ত সাগর দাস, অনলাইন প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোশাহিদ আহমদ, ইউপি সচিব শুভ দাস, ইউপি সদস্য লাল মিয়া প্রমুখ।

বক্তারা বাউল সম্রাটকে স্মরণ করে বলেন, শাহ আবদুল করিম শুধু আধ্ম্যাতিকতায় নয় জাগতিক বিষয়েও সৃষ্টির দখলদারিত্ব কোনো অংশেই কম নয়। রাষ্ট্র, সমাজ এবং হাওরাঞ্চলের বঞ্চিত অবহেলিত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, হাসি-আনন্দ, প্রেম-বিরহ আর অধিকারের কথা তাঁর গানে ফুটে উঠেছে। গানের মাধ্যমে গ্রামের সহজ-সরল ভাষা আর হৃদয়কাড়া সুরের মাধ্যমে বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম স্থান করে নিয়েছেন অসংখ্য সংগীতপ্রেমীর অন্তরে। তার সৃষ্টির সবকিছুই যেনো মানুষের কল্যাণে উৎসর্গকৃত। মানুষ হয়ে মানুষকে কষ্ট না দেওয়াটাই মানুষের বড় ধর্ম এ সত্যই শাহ আবদুল করিম গানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি ছিলেন শোষকের বিরুদ্ধে হুংকার, দিয়েছেন বিপ্লবের ডাক। প্রেম দিয়ে শত্রুকে জয় করা এবং সম্প্রীতির শিক্ষা দিয়েছেন বাউল শাহ আবদুল করিম।

১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দিরাইয়ের উজানধল গ্রামে সাধারণ এক কৃষক পরিবারে জন্ম নেন বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর এই গুণী বাউল সাধকের মৃত্যু হয়। আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করিম গীতির আসর।

এতে গান পরিবেশন করেন বাউল রনেশ ঠাকুর, সিরাজ উদ্দিন, প্রাণকৃষ্ণ, আব্দুল কাইয়ূম শাহ, বাউলিয়ানা ফয়সল, আশিক সরকার, দুখু মিয়াসহ স্থানীয় বাউলবৃন্দ। চলে ভোর রাত পর্যন্ত।

এদিকে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে হাসন রাজা মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এর আগে শাহ আব্দুল করিমের স্মরণে গানের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।

জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহসভাপতি প্রদীপ পাল নিতাইয়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন।

বক্তব্য রাখেন কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাবেল, জেলা গীতিকার ফোরামের সভাপতি বাউল শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক অরুণ তালুকদার, সদর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সন্তুষ কুমার চন্দ মন্তুষ প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত