বুধবার, , ১৭ অক্টোবর ২০১৮ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:২১

রায়কে ঘিরে সতর্ক সিলেটের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

১৪ বছর অপেক্ষার পর আলোচিত ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ (বুধবার)। আর এ রায়কে ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গুরুত্বপূর্ণ এ রায়কে কেন্দ্র করে  সিলেটে যাতে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপির) পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

আলোচিত এ রায়কে ঘিরে যেকোনো ধরণের নাশকতা এড়াতে নগরীতে পোশাকধারী পুলিশ সদস্য ছাড়াও সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে তৎপর থাকবেন বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। এ ছাড়াও জনগণের জান ও মালের যথাযথ নিরাপত্তা দিতে মাঠে থাকছেন র‌্যাব সদস্যরাও।

এ ব্যাপারে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) এর সিনিয়র এএসপি মনিরুজ্জামান জানান, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এ মামলার রায়কে ঘিরে যাতে কোন ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সে জন্য আমাদের পক্ষ থেকে বাড়তি টহল থাকবে। তাছাড়া সিলেট জুড়ে আমাদের গোয়েন্দাদের বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।

এদিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে সিলেট আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলই রয়েছে কঠোর অবস্থানে।

গ্রেনেড হামলার রায়কে ঘিরে সিলেট বিএনপি’র নেতাকর্মীরা মঙ্গলবার সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছে। সমাবেশে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলেছে, গ্রেনেড হামলা মামলায় ফরমায়েশি রায় দিয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে সাজা দিলে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

অপরদিকে, ১৪ বছরপর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে যদি কোনোদল বা গোষ্ঠী সিলেটে নৈরাজ্য বা নাশকতার চেষ্টা করে। তাহলে জনগণকে সাথে তাদেরকে প্রতিহত করার কথা বলেছেন সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতারা।

অন্যদিকে সিলেট নগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেছেন, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় এবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হত্যা মামলায় জড়িয়ে ফরমায়েশি রায় প্রদানের চেষ্টা চলছে।

এ ব্যাপারে সিলেটে মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ( মিডিয়া) আব্দুল ওয়াহাব জানান, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়কে নিয়ে সিলেটে যাতে কোন ধরণের নাশকতা না ঘটে সে জন্য রাখা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। আর সার্বক্ষণিক সিলেট নগরী জুড়ে থাকবে প্রশাসনের বাড়তি টহল।  সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকবে পুলিশের চৌকি।

উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তার শ্রবণেন্দ্রিয় আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত