শুক্রবার, , ১৬ নভেম্বর ২০১৮ ইং

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:২৪

লাউয়াছড়ায় বানর আতঙ্কে পর্যটকরা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বারবার একটি বানরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে্ন পর্যটকরা৷বছরখানেক আগে শ্রীমঙ্গল শহর থেকে একটি বানরকে উদ্ধার করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়৷অবমুক্ত করার পর থেকেই বানরটি লাউয়াছড়ার পর্যটকদের হাটার ট্রেইলের পাশে বসে থাকতে শুরু করে এবং প্রায়ই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের আক্রমণ করতে থাকে৷বর্তমানে এই বানরটির আক্রমণে বেশ কয়েকজন পর্যটক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পরিবারসহ ঘুরতে যান পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক শামীম আহমেদ, হঠাৎ করেই ট্রেইলের পাশে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা বানরটি তাদের আক্রমণ করে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কামড়ে দেয়। পরে তারা হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লাউয়াছড়া ঘুরতে এলে তারাও বানরটির আক্রমণের শিকার হন।

আক্রমণের শিকার হওয়া শিক্ষার্থী ইয়াসমিন হক জানান, রাস্তা ধরে হাটার সময় কিছু বুঝে উঠার আগেই বানরটি আমাদের আক্রমণ করে এবং নখ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করতে থাকে৷

এ ব্যাপারে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সিনিয়র ট্যুর গাইড সাজু মারছিয়াং জানান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের এই বানরটি ভয়ংকর। অনেক পর্যটক এই বানরের কামড়ের শিকার হয়েছে। এমনকি শিশুরাও বাদ যায়নি এই বানরের হাত থেকে।

এই বানরটি বনের নয় জানিয়ে তিনি বলেন, বছর খানিক আগে বাইরে থেকে ধরে এনে লাউয়াছড়া বনে অবমুক্ত করা হয় এই বানরটিকে। বর্তমানে এই বানরটি বনের ভেতরের রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। তার পাশদিয়ে হেটে গেলেই সে আক্রমণ করে।

এ ব্যাপারে সহকারী বন সংরক্ষক ও বন্য প্রাণি রেঞ্জ আনিসুর রহমান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে জানান, আসলে আমরা পর্যটকদের বারবার নির্দেশনা দেই বন্যপ্রাণীদের কাছে না যাওয়ার এবং বাইরের খাবার না দেওয়ার জন্য। কারণ বন্যপ্রাণীদের বাইরের খাবার দিলে তারা তাদের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে ৷

এছাড়া বন্যপ্রাণীরা যখন আক্রমনাত্নক হয়ে ওঠে তখন তাদের আমরা রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা প্রদান করি বলেও জানান তিনি ৷

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সেইভ আওয়ার আনপ্রোটেক্টেড লাইফ (সউল) এর নির্বাহী পরিচালক তানিয়া খান জানান, আসলে একটা বন্যপ্রাণীর সুস্থতা সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে এভাবে জাতীয় উদ্যানে ছেড়ে দেয়া ঠিক না ৷

তিনি আরো বলেন, এভাবে যদি কোন প্রাণী কাউকে আক্রমণ করে তাহলে সেই প্রাণীকে দ্রুত রেসকিউ সেন্টারে নিয়া যাওয়া উচিত এবং সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়ার আগ পর্যন্ত বনে ফিরিয়ে না আনাই ভালো৷ আর পর্যটকদেরও বন্যপ্রাণিদের ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত কারণ তাদের আচরণ আনপ্রেডিক্টবেল৷

আপনার মন্তব্য

আলোচিত