বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯ ইং

শাহ শরীফ উদ্দিন

০৯ জানুয়ারী, ২০১৯ ০১:০২

সংরক্ষিত সাংসদ হতে তৎপর সিলেটের এক ডজন নারী নেত্রী

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরপরই সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হতে মাঠে নেমেছেন দলটির সিলেট বিভাগের অন্তত এক ডজন নারী নেত্রী। বিভাগে দুটি সংরক্ষিত আসনের সাংসদ হতে এই এক ডজন নেত্রী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সিলেট বিভাগ থেকে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হতে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সাংসদ সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, মৌলভীবাজার-৩ আসনের গত সংসদের সদস্য প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর স্ত্রী সৈয়দা সায়রা মহসীন, বিদায়ী সংসদের সংরক্ষিত আসনের এমপি অ্যাডভোকেট শাহানা রব্বানী, অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মহিলা লীগ নেত্রী অ্যাডভোকেট মাহফুজা বেগম সাঈদা, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাজনীন হোসেন, সিলেট জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রুবী ফাতেমা ইসলাম, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসমা কামরান, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মারিয়ান চৌধুরী মাম্মী, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. নাজরা চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের সদস্য রওশান জেবা রুবী, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী শামীমা শাহরিয়ার।

এদের মধ্যে কেউ কেউ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন পা পাওয়ায় তা প্রত্যাহার করে দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে চালিয়েছেন নির্বাচনী প্রচারণা। নিজ নিজ আসনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় তৎপর ছিলেন তারা। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এবার নিজেদের জন্য মাঠে নেমেছেন এই নারী রাজনীতিকরা। দলের হাইকমান্ডে এদের অনেকে লবিং চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। দলের শীর্ষ নেতাদের নজরে পড়তে অনেকেই এখন অবস্থান করছেন ঢাকায়।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সিলেট বিভাগ থেকে সংরক্ষিত নারী সাংসদ নির্বাচিত হন আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী (সিলেট-হবিগঞ্জ) ও শামসুন্নাহার বেগম শাহানা রব্বানী (সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজার)। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরা দুজন সরাসরি নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চান। কেয়া চৌধুরী হবিগঞ্জ-১ ও শাহানা রব্বানী সুনামগঞ্জ-৪ আসন থেকে সরাসরি নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে না পেলেও সংরক্ষিত নারী সাংসদের সুযোগ যাতে পুনরায় তাদের হাতে ওঠে সে লক্ষ্যে শুরু করেছেন তৎপরতা।

এছাড়াও সদ্য সমাপ্ত এ নির্বাচনে ডাক্তার নাজরা চৌধুরী হবিগঞ্জ-১, মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর স্ত্রী উপনির্বাচনে বিজয়ী সাংসদ সায়রা মহসিন ও কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শামিমা শাহরিয়ার সুনামগঞ্জ-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন চান। কিন্তু তাদের কেউই আওয়ামী লীগের টিকেট পাননি। তবে সাধারণ আসনে টিকেট না পেলেও সংরক্ষিত সাংসদ হয়েও যাতে সংসদে যাওয়া যায় সে লক্ষ্যে তারও আছেন লবিংয়ে।

দেশে সংরক্ষিত নারী সাংসদ আসন ৩০ টি থেকে ৫০ টিতে উন্নীত করা হলেও সিলেটে আসন সংখ্যা এখনো অপরিবর্তিত। সিলেট বিভাগে নারী আসন মোট ২টি। এ দুটি আসনে প্রার্থী সংখ্যা অধিক হওয়ায় এবার আসন দুটিতে থাকতে পারে নতুন চমক। দশম সংসদ নির্বাচনের পর যেসব আসন থেকে নারী সংসদ সদস্য চেয়েও পাননি এসব আসনকেই এবার প্রাধান্য দিবেন প্রধানমন্ত্রী এমনটাই মনে করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। একই সাথে দলের প্রতি আনুগত্য, দলের দুর্দিনে যারা সক্রিয় ছিলেন, তৃনমূলের সাথে যাদের সম্পর্ক ভালো তাদেরকেই প্রধানমন্ত্রী অগ্রাধিকার দিবেন বলেও মনে করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশব্যাপী এসব সংরক্ষিত আসনের সদস্য বাছাই করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে। সে ক্ষেত্রে তিনি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আনফিসিয়ালী খোঁজ খবর নেন। তবে সিলেটের ক্ষেত্রে যেহেতু আসন সংখ্যা মাত্র ২টি আর এর বিপরীতে প্রার্থী অনেক। সে ক্ষেত্রে এবার নতুনত্ব থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মহানগর আওয়ামী লীগের এ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, যারা দুর্দিনে দলের সকল কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে যার সম্পর্ক ভালো এবং যিনি উন্নয়ন করতে পারবেন এমন কাউকেই প্রধানমন্ত্রী বেছে নিবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত