শনিবার, , ২০ এপ্রিল ২০১৯ ইং

শাকিলা ববি

১২ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:৪৬

সিলেটের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা মহাজনপট্টি

সিলেট নগরে অগ্নিকাণ্ডের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নগরীর মহাজনপট্টি। এই এলাকার কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। সম্প্রতি ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এক জরিপে মহাজনপট্টিকে অগ্নিকাণ্ডের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

তবে মহাজনপট্টি এলাকার ব্যবসায়ীরা এই ঝুঁকির ব্যাপারে একেবারেই অবগত নন। এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কেও অবগত নান তারা।

সিলেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পাইকারি ব্যবসায়ের সবচেয়ে বড় এলাকা মহাজনপট্টি ও কালীঘাট। এই এলাকায় বিভিন্ন পণ্যের সহস্রাধিক দোকানের পাশাপাশি রয়েছে দেড় সহস্রাধিক গুদাম ঘর। প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল থাকে এই এলাকায়।

জনবহুল এই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা হলে তাৎক্ষণিক অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা নেই কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাও নেই এই এলাকায়। তাই ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডেও মহাজনপট্টি এলাকায় বড় ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা ফায়ার সার্ভিসের।

জানা যায়, মহাজনপট্টি, লালদিঘিরপার, কালীঘাট, আমজদ আলী, শাহচট রোড, চাওলবাজার, ডাক বাংলো রোড এলাকার ব্যবসায়ীদের নিয়ে সিলেট ব্যবসায়ী সমিতি গঠন করা হয়েছে। এই ৭ এলাকার ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে ব্যবসায়ী সমিতির কমিটি। এই সমিতির সংশ্লিষ্টরা জানান, নিত্য প্রয়োজনীয় সকল দ্রবের প্রায় সাড়ে ১৩শ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে এই এলাকাগুলোতে। এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ১৫শ গুদামও রয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথেই রয়েছে অনেকের গুদাম ঘর। অনেক গুদামে রয়েছে রাসায়নিকের মজুদও।

মহাজনপট্টি এলাকার ব্যবসায়ী কালাম ব্রাদার্সের প্রোপাইটর ফয়সল আহমেদ বলেন, ঢাকার অগ্নিকাণ্ডের পর আমাদেরও মনে হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা দরকার। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও রাখা লাগে এ বিষয়েও সবাই অবগত না। এজন্য দায়িত্বশীল কাউকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে এখানে ব্যবসায়ী সমিতির দায়িত্বশীলরা যদি উদ্যোগী হন তাহলে আশা করি এ বিষয়ে সবাই সচেতন হবেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী সিলেটের বেশিরভাগ মার্কেটে নেই প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। নগরের হাসান মার্কেট, সিটি মার্কেট, মহাজনপট্টি, লালদিঘির পার, মিতালী ম্যানশন, রাজা ম্যানশন রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায়। তবে এগুলোর মধ্যে মহাজনপট্টি এলাকাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফায়ার সার্ভিস।

এসব এলাকায় নেই পানির উৎস। তাই এইসব জায়গায় অগ্নিকাণ্ড হলে বড় ধরনের ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটার শঙ্কা রয়েছে।

মহাজনপট্টি এলাকার রফিক ব্রাদার্সের দায়িত্বরত মো. মানিক বলেন, এ বিষয়ে কয়েকদিন আগে সিটি করপোরেশন থেকে মাইকিং করানো হয়েছে। আগুন থেকে বাঁচার ব্যাপারে সবার সর্তক হওয়া উচিত। যেহেতু এই এলাকায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাই এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী সমিতির দায়িত্বশীলরা এগিয়ে আসলে তাড়াতাড়ি কাজ হবে বলে মনে করছি।

একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী শাহিন পেইন্টস এর প্রোপাইটর রিদোয়ান আহমদ বলেন, দোকানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা খুবই জরুরি। তাই ইতোমধ্যে আমরা এ ব্যাপারে খবর নিয়েছি। শীঘ্রই আমার প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা রাখবো।

তিনি বলেন, এই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গুদামগুলোতে খুব বেশি প্রয়োজন। বেশিরভাগ গুদামই বিভিন্ন মার্কেটের ভিতর। তাই এ ব্যাপারে মার্কেট মালিকদেরও দায়িত্ব নেওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. জিয়াউল হক বলেন, ইদানীং দেশের বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো দেখে আমরা ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ৭ এলাকার ব্যবসায়ীদের কথা আমাদের চিন্তা করতে হবে। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের সহযোগিতা করেন তাহলে আমাদের কাজ করতে সহজ হবে।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন বা ফায়ার সার্ভিস যদি ব্যাপারে আমরা ব্যবসায়ীদের নিয়ে কোনো মিটিং করে দিকনির্দেশনা দেয় তাহলে ভাল হবে। তাছাড়া এই এলাকায় কোনো পানির উৎস নেই। আগুন লাগলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হবে। তাই এই এলাকার আশপাশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পানি সংগ্রহ করে রাখার ব্যবস্থা করে দেওয়া উচিত। তা না হলে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার দায় কেউ এড়াতে পারবেন না।

এ ব্যাপারে সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক দিনমণি শর্মা সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সিলেটের বাজার কেন্দ্রিক এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। এই অবস্থা সবচেয়ে প্রকট মহাজনপট্টি এলাকায়। তাই সবচেয়ে বেশি আগুনের ঝুঁকি আছে মহাজনপট্টি এলাকায়। অনেক গিঞ্জি এলাকা তাই ছোট ধরনের অগ্নিকাণ্ড খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পরবে। আগুন নিভানোর জন্য পানির উৎস নেই এই এলাকায়। তাই এইসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্তত প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত