বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১৫:৫৫

শ্রুতির শতকণ্ঠে বর্ষবরণ

সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রুতির উদ্যোগে প্রতিবারের মত এবারও বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে।

রোববার পহেলা বৈশাখ ১৪২৬ ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে সূর্যোদয়ের পরপরই শুরু হয় শতকন্ঠে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আহ্বান।

'আসবে পথে আঁধার নেমে তাই বলে কি রইবি থেমে' শীর্ষক স্লোগানে প্রদান করা হয় শ্রুতি সম্মাননা ১৪২৫ বাংলা। এবারের গুণীজন নজরুল সংগীতের কিংবদন্তী সুজিত মোস্তফা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিমাদ্রী শেখর রায়, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আমিনুল ইসলাম লিটন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শামসুল আলম সেলিম, শ্রুতি সিলেটের সমন্বয়ক সুমন্ত গুপ্ত।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সহকারী হাই কমিশনার এল কৃষ্ণমূর্তি প্রমুখ। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রুতির সদস্য সচিব সুকান্ত গুপ্ত।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতুনির্ভর। এই কৃষিকাজের সুবিধার্থেই মোঘল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০-১১ মার্চ বাংলা সন প্রবর্তন করেন এবং তা কার্যকর হয় তার সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে (৫ নভেম্বর ১৫৫৬)। হিজরি চন্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

বাংলা নববর্ষ পালনের সূচনা হয় মূলত আকবরের সময় থেকেই। সে সময় বাংলার কৃষকরা চৈত্রমাসের শেষ দিন পর্যন্ত জমিদার, তালুকদার এবং অন্যান্য ভূ-স্বামীর খাজনা পরিশোধ করতো। পরদিন নববর্ষে ভূস্বামীরা তাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। এ উপলক্ষে তখন মেলা এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। ক্রমান্বয়ে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে পহেলা বৈশাখ আনন্দময় ও উৎসবমুখী হয়ে ওঠে এবং বাংলা নববর্ষ শুভদিন হিসেবে পালিত হতে থাকে।

দিনব্যাপী আয়োজনে সমবেত সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি পরিবেশন করেন ক্রমানুযায়ী শ্রুতি শতকন্ঠ, গীতবিতান বাংলাদেশ, ছন্দ নৃত্যালয়, দ্বৈতস্বর, নৃত্যশৈলী, গ্রিনডিজেবল ফাউন্ডেশন, জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ, আবৃত্তি বিভাগ শ্রুতি সিলেট, নগরনাট, দীপ্তর্শি, অন্বেষা শিল্পী গোষ্ঠী, মুক্তাক্ষর, নাট্যম সংগীত বিদ্যালয়, সুরের ভূবন, অনির্বান শিল্পী গোষ্ঠী, কৃষ্ণচূড়া, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

একক পরিবেশনায় অংশ নেন পঞ্চকবির গানে সোনিয়া রায়, মৌলি দেব, সানন্দা রায়, লোকসংগীতে বাউল আব্দুর রহমান, শামীম আহমেদ, গৌতম চক্রবর্তী, বাউল সূর্যলাল, প্রদীপ মল্লিক, ইকবাল সাঁই, লিংকন দাশ এবং নজরুল সংগীতে সুজিত মোস্তফা। কুষ্টিয়ার ফকির মাসুদ শাহর পরিবেশনাও ছিল।
দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলার।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত