সোমবার, ২৭ মে ২০১৯ ইং

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি

১২ মে, ২০১৯ ১৫:৩০

‘ভাই আমারে বাঁচানো যাইতনায়, আমার শরীর ঠাণ্ডায় অবশ ওইযার’

নিহত কামরান আহমদ মারুফ

ভাই আমারে বাঁচানো যাইতনায়, আমার পুরা শরীর আস্তে আস্তে ঠাণ্ডায় অবশ ওই যার। আমারে ছাড়ি দেও, তুমি বাঁচার চেষ্টা কর’।  ভূমধ্যসাগরে ডুবে যাওয়ার আগে  মারুফ তার আপন ভাই মাছুমকে এ কথাগুলো বলেছিলেন।

মাছুমের বরাত দিয়ে মারুফের বড়ভাই মাসুদ আহমদ জানান, মাছুম মারুফকে বাঁচাতে দীর্ঘ ৮ ঘন্টা সাগরে সাঁতার কেটেছিল। তারপরও মারুফকে বাঁচাতে পারেনি মাছুম। এক পর্যায়ে মারুফ বলেছিল ভাই আমার হাত ছেড়ে দাও, আমি আর পারছিনা। তুমি বাঁচার চেষ্টা কর বলে মারুফ মাছুমের হাত ছেড়ে দেয়।

জানা যায়, গত তিনমাস আগে শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কদুপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর দুই ছেলে কামরান আহমেদ মারুফ (২০) ও মাছুম আহমদ (২৫) অবৈধভাবে সমুদ্র পথে ইতালি যাওয়ার জন্য আরব আমিরাত (ডুবাই) থেকে লিভিয়ায় যায়। বৃহস্পতিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় লিবিয়ার যুয়ারা এলাকা থেকে নৌকা করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের লক্ষ্যে অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে ওই নৌকা যাত্রা করে। শুক্রবার (১০মে)  সকালে অভিবাসন প্রত্যাশীদের দলটি তিউনিসিয়া উপকূলের কাছাকাছি আসলে সমুদ্রের বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় তাদেরকে বহনকারি নৌকাটি উল্টে যায়। এসময় কামরান আহমদ মারুফ মারা যান। তার ভাই মাছুম আহমদ (২৫) ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। 

এ ঘটনায় একই উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের হাওরতলা গ্রামের মৃত রফিক মিয়ার ৩য় পুত্র আফজল মাহমুদ (২৫) ও মারা জান। এ সময় তিউনিসিয়া উপকূলে মাছ ধরার একটি নৌকার জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে ১৬ জনকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয়। উদ্বারকৃতদের মধ্যে মারুফের ভাই মাছুমও ছিল।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত