সোমবার, ২৭ মে ২০১৯ ইং

শাকিলা ববি

১৬ মে, ২০১৯ ১৩:২৬

আখনি, খিচুড়িতে সরগরম সিলেটের ইফতার বাজার

বিকাল থেকেই সরগরম হয়ে উঠে সিলেটের ইফতার বাজার। নগরের জিন্দাবাজারস্থ পানসী, ভোজন বাড়ি, পালকি রেস্টুরেন্টে সমান তালে ইফতার বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। প্রতিটি রেস্টুরেন্টেই ৪০ থেকে ৬০ পদের বাহারি ইফতার সামগ্রী রয়েছে। বাহারি এসব খাবারের মধ্যেও সিলেটের সেই চিরাচরিত আখনি আর খিচুড়ির চাহিদাই বেশি ইফতার বাজারে।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিত্যনতুন পদের খাবার ইফতারের তালিকা সমৃদ্ধ করলেও সিলেটের মানুষের খাদ্যাভ্যাস থেকে গেছে আগের মতোই। কারণ ইফতারে সিলেটিদের ঐতিহ্যবাহী খাবারই হচ্ছে আখনি আর খিচুড়ি। তাই রেস্টুরেন্টগুলোতে গিয়ে ক্রেতারা আগে আখনি বা খিচুড়ি কিনেন। এগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য ইফতার সামগ্রী ক্রয় করেন। শুধু যে রেস্টুরেন্ট থেকে আখনি বা খিচুড়ি কেনা হয় তা কিন্তু নয়। সিলেটের প্রতিটি বাসায় ইফতারের আইটেমে গৃহিণীরা তৈরি করেন আখনি বা খিচুড়ি।

নগরের জিন্দাবাজারস্থ ভোজন বাড়ি, পানসী, পালকিসহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে  গিয়ে দেখা যায়, প্রদর্শনী করে রাখা আখনি আর খিচুড়ি দিকে অনেক ভিড়। কেউ এক কেজি কেউবা আধা কেজি করে কিনছেন।

নগরের আম্বরখানা এলাকার ব্যবসায়ী দবির আহমেদ। ভোজন বাড়ি রেস্টুরেন্ট থেকে ১ কেজি পাতলা খিচুড়ি কিনেছেন তিনি। সাথে কিনেছেন পিয়াজু, আলুর চপ, জালি কাবাব। তিনি বলেন, রোজার সময় খিচুড়ি ছাড়া ইফতারে পূর্ণতা আসে না। প্রতিদিনই বাসায় ইফতারে খিচুড়ি রান্না করা হয়। তবে মাঝে মাঝে রেস্টুরেন্ট থেকেও ইফতার নিয়ে যাই। শুনেছি ভোজন বাড়ির পাতলা খিচুড়ি অনেক মজাদার তাই আজকে কিনে নিলাম।

রমজানের শুরু থেকেই বাহারি খাবার নিয়ে জমে উঠেছে সিলেট নগরের ইফতার বাজার। এসব বাহারি ইফতারি ক্রয় করার জন্য নগরের জিন্দাবাজারস্থ পানসী, ভোজন বাড়ি, পালকি রেস্টুরেন্টে বেলা ৩টা থেকেই ক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এই রেস্টুরেন্ট গুলোতে ইফতারের বিশেষ প্যাকেজ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

খিচুড়ির মত সিলেটিদের ইফতার আইটেমে আরেকটি খাবার হল আখনি। তাই সিলেট নগরের ছোট বড় সবকটি রেস্টুরেন্টে ইফতারির তালিকায় রাখা হয় আখনি। সিলেটের রোজাদারদের ইফতারে আখনির চাহিদা থাকায় বিভিন্ন স্বাদের আখনি রাখা হয়ে রেস্টুরেন্টগুলোতে। মাটন, বিফ, চিকেন আখনি পাওয়া যাচ্ছে রেস্টুরেন্টগুলোতে।

নগরের পাঠানটুলা এলাকার গৃহিণী লাইজু বেগম পানসী রেস্টুরেন্ট থেকে কিনেছেন বিফ আখনি। তিনি বলেন, পরিবারের সবারই আখনি পছন্দ। আমি চাকুরীজীবী, তাই প্রতিদিন বাসায় যাওয়ার সময় আখনি নিয়ে যাই।

রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইফতারের আইটেমে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে বিফ আখনি, পাতলা খিচুড়ি, স্পেশাল জিলাপি।

নগরের জিন্দাবাজারস্থ পানসী রেস্টুরেন্টের পরিচালক পক্ষ থেকে নুরুজ্জামান মুক্তা বলেন, আমদের ৪০টি ইফতারি আইটেম আছে। তবে ইফতারি আইটেমে ভালো সেইল হচ্ছে বিফ আখনি, কাবাব, গ্রিল, পাতলা খিচুড়ি এবং পানসী স্পেশাল জিলাপি।

পানসী রেস্টুরেন্ট ভুনা খিচুড়ি ১০০ টাকা কেজি, পাতলা খিচুড়ি ৭০ টাকা কেজি, রেশমী জিলাপি ২৪০ টাকা কেজি, চিকেন আখনি ২৪০ টাকা কেজি, বিফ আখনি ২৬০ টাকা কেজি, চিকেন চাপ প্রতি পিস ১২০ টাকা, বিফ চাপ ৮০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রমজানের স্পেশাল প্যাকেজে খেজুর, আপেল, শরবত, জিলাপি, পিয়াজু, বেগুনী, ছোলা, বিফ/ চিকেন আখনি, ১ পিস চিকেন ফ্রাই ও ৫০০ মি.লি মিনারেল পালি পাওয়া যাবে ১৭০ টাকা থেকে ১৯০ টাকা দরে।

নগরের ভোজন বাড়ি রেস্টুরেন্ট পাতলা খিচুড়ি ৭০ টাকা কেজি, বিফ আখনি ২৬০ টাকা কেজি, চিকেন আখনি ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এগুলো ছাড়াও এই রেস্টুরেন্টে আরো ৬০টি ইফতারের আইটেম করছে। রেস্টুরেন্টে বসে যারা ইফতার করবেন তাদের সুবিধার্থে  খেজুর, শরবত, চিকেন আখনি, চিকেন টিক্কা কাবাব, ছোলা, পিয়াজু, জিলাপি, আপেল, বেগুনী, সালাদ ও ৫০০ মি.লি মিনারেল ওয়াটারসহ ‘সেট মেনু’ পাওয়া যাচ্ছে ১৬০ টাকায়। লাচ্ছি, চিকেন আখনি, চিকেন টিক্কা কাবাব, ছোলা, পিয়াজু, জিলাপি, আপেল, বেগুনী, সালাদ ও ৫০০ মি.লি মিনারেল ওয়াটারসহ ‘স্পেশাল মেনু’ করা হয়েছে।

ভোজন বাড়ি রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুনু চৌধুরী বলেন, ৬০ পদের ইফতার আছে আমাদের রেস্টুরেন্টে। সব আইটেমই মোটামুটি ভালো সেইল হচ্ছে। তবে পাতলা খিচুড়ি, বিফ ও চিকেন আখনি বেশি বিক্রি হচ্ছে। সিলেটর ইফতারের ঐতিহ্য খিচুড়ি এবং আখনি। তাই এই দুটি আইটেম প্রতিবছরই বেশি বিক্রি হয়। এছাড়াও আমাদের রেস্টুরেন্টে ১০০০ মানুষের জন্য ইফতার পার্টির ব্যবস্থা রয়েছে এবং অর্ডার অনুযায়ী পার্সেল সরবরাহ করার সুবিধাও রয়েছে।

পালকি রেস্টুরেন্টে পাতলা খিচুড়ি ১০০ টাকা কেজি, ভুনা খিচুড়ি ১৫০ টাকা কেজি, মাটন আখনি ২৮০ টাকা কেজি, বিফ আখনি ২৬০ টাকা কেজি ও মাটন লেগ রোষ্ট ২৯০ টাকা পিচ দরে বিক্রি হচ্ছে। পালকি রেস্টুরেন্টেও ৬০টির ও বেশি ইফতার আইটেম রয়েছে। পালকি রেস্টুরেন্টের জেনারেল ম্যানেজার অঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, অনেক মজাদার ও বাহারি আইটেম রয়েছে আমাদের রেস্টুরেন্টে। তবে প্রতিবারের মত এবারও খিচুড়ি আর আখনির চাহিদাই বেশি। তবে অন্যান্য ইফতার আইটেমও ভালো বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, মাহে রমজান উপলক্ষে বিশেষ ইফতারি প্যাকেজ রয়েছে। ১৫০ টাকার প্যাকেজে একজন ক্রেতা পাবেন মোরগ খিচুড়ি, পালকি শাহী শরবত, খেজুর, জিলাপি, বেগুনী, পিয়াজু, ছোলা, আপেল/ মাল্টা, সালাদ ও হাফ লিটার পানি। ১৯০ টাকার প্যাকেজে রয়েছে খাসি/ গরুর আখনি, পালকি শাহী শরবত, খেজুর, জিলাপি, বেগুনী, পিয়াজু, ছোলা, পাকোড়া, আপেল/ মাল্টা, সালাদ ও হাফ লিটার পানি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত