সোমবার, ২৭ মে ২০১৯ ইং

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

১৬ মে, ২০১৯ ১৮:২৯

৩ কলেজ ছাত্রীর শ্লীলতাহানি, চার যুবক গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারে তিন কলেজছাত্রীর বাসায় ঢুকে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার পৃথক এলাকা থেকে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তাকৃতরা হলেন- মামলার প্রধান আসামী সদর উপজেলার বড়বাড়ি সোনাপুর এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে সাদনান রহমান নাভেদ (২১), একই এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে ফাহাদ আহমদ মুন্না (২৪),  আফতাব উদ্দিনের ছেলে সায়েম আহমদ (২৩) ও রৌশন মিয়ার ছেলে লোকমান আহমদ (২৩)।

মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, তিন ছাত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত) ২০০৩ এর ১০/৩০ ধারায় মামলা রয়েছে।   সেই মামলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়ছে। এঘটনায় ভিক্টিম তিন ছাত্রীর জবানবন্দী নেয়া হয়েছে।  মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে সোমবার (১৩ মে) রাতে শহরতলীর সোনাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তিন  ছাত্রীকে নাভেদ ও তার সহযোগীরা শারীরিক নির্যাতন করে।  এঘটনায় এক ছাত্রীর ভাই বাদী হয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের দুই ছাত্রী ও মৌলভীবাজার সরকারী মহিলা কলেজের এক ছাত্রী শহরতলীর সোনাপুরে নাভেদের বাসাতে ভাড়া থাকতেন। প্রতিদিন নাভেদ ও তার সহযোগীরা তাদের নানা ভাবে উত্যক্ত করে আসছিলেন। এ ঘটনায় সোমবার রাতে ওই ছাত্রীরা প্রতিবাদ জানিয়ে নাভেদের বাসায় নালিশ করতে যান। সেসময় নাভেদসহ অভিযুক্ত সায়েম, লোকমান ও মুন্নাসহ আরো ২-৩ জন তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

এরপর তারা ঘটনাটি মুঠোফেনে এক ছাত্রীল ভাইকে জানালে তিনি তার কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বাড়ির মালিক ও নাভেদ আহমদের চাচা শফিকুর রহমানের কাছে বিচার প্রার্থী হন। এই খবর শোনে নাভেদ আহমদসহ তার অন্যান্য সহযোগীরা যৌন হয়রানীর শিকার ওই তিন জন মেয়ে শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সকলকে গালিগালাজ করে হেনেস্থা করে এবং তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে এনিয়ে মামলা করলে সবাইকে প্রাণে মারার ভয়ভীতি দেয়। এই ঘটনায় আহত সবাইকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে এক ছাত্রীর বড়ভাই বাদী হয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা দায়ের
করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত