সোমবার, ২৭ মে ২০১৯ ইং

জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বিশ্বনাথ

১৭ মে, ২০১৯ ০০:৩৫

দালাল রফিকের শাস্তি চায় নিখোঁজ খোকনের পরিবার

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নিখোঁজ রেদওয়ানুল ইসলাম খোকনের বাড়িতে কান্না যেনো কিছুতেই থামছে না।ছেলের শোকে বাবা ইলিয়াস আলী হতবাক হয়ে পড়েছেন। আর মা জোছনা বেগমের অবস্থা আরও করুণ। ছেলে নিখোঁজের পর থেকে হতাশা, উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় ভূগছেন। কোন কোন সংবাদ মাধ্যমে খোকনের লাশ উদ্ধারের খবরে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিন নিখোঁজ খোকনের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথের নওধার মাঝপাড়ায় গিয়ে দেখা যায় বাড়িতে শোনশান নিরবতা। খোকনের বাবা ইলিয়াস আলী ও মা জোছনা বেগম কথাই বলতে পারছেন না।

তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খোকন সিলেট সরকারি কলেজে বিএ দ্বীতিয় বর্ষের ছাত্র ছিল। গ্রামের পাশ্ববর্তী বৈরাগী বাজারে খোকনের বড়ভাই রেজাউল ইসলাম রাজু’র একটি ফাস্ট ফুডের ব্যবসা রয়েছে। যেখানে খোকন ও তার বাবা বেশিরভাগ সময়ই বসতেন। প্রায় ৭মাস আগে বাজারের পাশের কাঠলি পাড়া গ্রামের চমক আলীর ছেলে আদম ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রফিক তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ইতালি পাঠানোর সুবর্ন সুযোগের কথা বলেন।

একপর্যায়ে তাদের ফাঁদে ফেলে সাড়ে ৮লাখ টাকায় জাহাজে করে এক মাসের মধ্যে ইতালি পাঠাবে বলে চুক্তি করে রফীক। পরবর্তিতে ব্রাক ব্যাংক বিশ্বনাথ শাখা ব্যবসা পতিষ্ঠানের নামে ৮লাখ টাকা লোন তুলে দালাল রফিককে দেন তারা। পরে গত নভেম্বর মাসের শেষের দিকে খোকনকে লিবিয়া পাঠায় দালাল রফিক। সম্প্রতি লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবির পর থেকে নিখোঁজ হন খোকন।

ইলিয়াস আলী, জোছনা বেগম বলেন, দালাল রফিকুল ইসলাম চুক্তি ভঙ্গ করে তাদের ছেলেকে সাগরে ডুবিয়ে হত্যা করিয়েছে। সে জন্য দালাল রফিকের ফাঁসি চান তারা। আর তাদের কাছ থেকে সাড়ে ৮লাখ টাকাও তাদেরকে জিম্মি করে নিয়েছে রফিক।

রেজাউল ইসলাম রাজু বলেন, সাগরে নৌকা ডুবির পর দালাল রফিক, তার মেয়ে মেয়ে পিংকি আক্তার, ছেলে পারভেজ এবং আব্দুর রহমান একাধিকবার মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়েছে খোকনকে ইতালী পৌঁছানো হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে তাকে। পরে কাঠলি পাড়ার বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান দালাল রফিক স্বপরিবারে পালিয়েছে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্বনাথ থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, সাগর থেকে সিলেটের বিশ্বনাথের নিখোঁজ কারো লাশ উদ্ধার হয়েছে এবং সনাক্ত হয়ে বলে তাদের কাছে কোন ম্যাসেজ নেই। তবে, নিশ্চিত হযে কেউ যদি থাানায় মামলা দায়ের করেন তাহলে সকল প্রকার আইন সহায়তা দেওয়া হবে এবং জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপও নেওয়া হবে।  

আপনার মন্তব্য

আলোচিত