মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং

দেবকল্যাণ ধর বাপন

২০ মে, ২০১৯ ২০:৪৫

বিশ্বমানের শিক্ষার সুযোগ এখন সিলেটেই

জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুল

উন্নত পরিবেশে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ করে সিলেটে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুল। ২০১৮ সালে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুরে প্রকৃতির ছায়াঘেরা পরিবেশে যাত্রা শুরু করেছে এ  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

মাত্র একবছরের নিজেদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আর মনোরম পরিবেশের কারণে আলাদা অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুল।

শিক্ষার্থীদের বিদেশীমুখীতা রোধ করে দেশেই বিশ্বমানের শিক্ষার সুযোগ করে দিতে পাহাড়-টিলার উপর প্রায় দুইশ’ একর জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু ভালো মানের পড়াশোনা বা কম খরচই নয়, এখানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বৃত্তির ব্যবস্থাও। লেখাপড়ার মানোন্নয়নের জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং তো থাকছেই।

জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুলের উদ্যোক্তারা জানান, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের যেখানে প্রতিবছর ভালো মানের পড়াশোনার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দার্জিলিং, তামিল নাড়ু, ব্যাঙ্গালুরুসহ বিভিন্ন রাজ্য কিংবা নেপালসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাতে হতো তাদের কথা চিন্তা করেই চালু হয়েছে এই বিদ্যাপীঠ। ২০১৮ সালে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি এবং একাদশ শ্রেণিতে প্রথম ব্যাচ ভর্তির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে এই বোর্ডিং স্কুল।

সম্পূর্ণ আবাসিক এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞ দেশি-বিদেশি শিক্ষকমণ্ডলী দ্বারা পাঠদানের পাশাপাশি রয়েছে অভ্যন্তরীণ খেলাধুলা, নাটক ও গানের চর্চা, বিজ্ঞানচর্চা, বিতর্কচর্চার সু ব্যবস্থা। বর্তমানে জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুলে রয়েছে শতাধিক শিক্ষার্থী।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা রেখেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ বছর একাদশ শ্রেণীতে ভর্তিচ্ছু মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত স্কলারশিপের প্রদান করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নের জন্যও এই স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। গোল্ডেন এ-প্লাস প্রাপ্ত প্রতিজন এইচএসসি ১ম বর্ষে ২ লক্ষ ২২ হাজার টাকা এবং ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষায় সমান রেজাল্ট করলে ২য় বর্ষেও সমপরিমাণ টাকা স্কলারশিপ পাবে। আবেদনের ক্রমিক ভিত্তিতে প্রথম দশ জন পাবেন এ বৃত্তি। এ-প্লাস প্রাপ্ত প্রত্যেক এইচএসসি শিক্ষার্থী ১ম বর্ষে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা এবং ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষায় সমান ফলাফল করলে দ্বিতীয় বর্ষেও পাবে সম পরিমাণ টাকার স্কলারশিপ।

এছাড়া ৪.৫ থেকে ৪.৯৯ প্রাপ্ত প্রতিজন ছাত্রের জন্য এইচএসসি ১ম বর্ষে প্রতি জন ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা এবং ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষায় সমান বা তার চেয়ে ভাল ফলাফলের জন্য দ্বিতীয় বর্ষেও সমপরিমাণ টাকার স্কলারশিপ রয়েছে।

পাহাড়ি পরিবেশে গড়ে ওঠা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবনগুলোর অবস্থান টিলার উপরে। আর শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল এবং খেলাধুলার মাঠগুলো টিলার পাদদেশে অবস্থিত। প্রকৃতির সঙ্গে ও কোলাহল মুক্ত পরিবেশে যাতে শিক্ষার্থীরা বেড়ে উঠতে পারে এটি বিবেচনা করে শ্রীপুরের মতো একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত এলাকার এই স্কুলটি নির্মাণ করা হয়েছে।

স্কুলটিতে রয়েছে তিনটি ফুটবল মাঠ, একটি ক্রিকেট মাঠ ও তিনটি ভলিবল মাঠ। আবাসিক ছাত্রদের জন্য রয়েছে ১০০০ শিক্ষার্থী ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ টি হোস্টেল। এছাড়াও রয়েছে মেডিকেল সেন্টার, শরীরচর্চা কেন্দ্র, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পাঠাগার, ভাষাচর্চাকেন্দ্র, কম্পিউটার ও বিজ্ঞানচর্চা কেন্দ্র এবং দ্রুত গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট ব্যবস্থা।

শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে মাছের খামার, সবজি বাগান ও পোলট্রি খামার স্থাপনের উদ্যোগ। ইতোমধ্যে এ গুলোর অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বেশ কয়েকটি ভ্যালি স্কুল থাকলেও বাংলাদেশে ভ্যালি বোর্ডিং স্কুল চালুর ঘটনা এ প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে প্রথমবার ঘটল বলে দাবি করে জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুলের চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার বলেন, আমরাই দেশের মধ্যে প্রথম আন্তর্জাতিক ও উন্নতমানের বোর্ডিং স্কুল নির্মাণ করে পাঠদান শুরু করেছি। বোর্ডিং স্কুলে যেসব ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করে শিক্ষিত হয়, বিদেশসহ সব জায়গায় তারাই পরে নেতৃত্বে আসে। আমাদের এ স্কুলে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য। আমাদের দেশের তরুণরা যাতে আন্তর্জাতিক নাগরিক হয়ে ওঠতে পারে সে লক্ষেই আমরা তাদের গাইড করছি।

তিনি আরো বলেন, প্রচুর টাকা খরচ করে যেসব ছেলেমেয়ে বিদেশে পড়াশোনা করতে যাচ্ছে, তারা জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুলে এর অর্ধেক টাকা খরচে একই মানের পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। ভালো মান বজায় রাখতে পারলে আমাদের দেশের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকেও শিক্ষার্থীরা এসে এখানে ভর্তি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন হাফিজ আহমদ মজুমদার।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিশেষায়িত বোর্ডিং স্কুলের ধারণায় বিশ্বমানের শিক্ষার সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বি কে ভারদ্বাজ।

তিনি জানান, এখানে প্রথাগত প্রাইভেট কোচিং ধারণার বাইরে গিয়ে ছাত্রদের সার্বক্ষণিক শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি সহশিক্ষার দিকেও লক্ষ রাখা হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশ, খেলাধুলা ও পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের দিকে বেশি নজর দেওয়া হয়। আগামী সেশন থেকে দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে ব্রিটিশ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। এতে বিদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে কম খরচে সহজে পড়াশোনা করতে আসতে পারবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত