বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ ইং

রায়হান উদ্দিন সুমন,বানিয়াচং

০৯ জুন, ২০১৯ ১৬:৫৮

সেতুটি যেন মরণফাঁদ

প্রায় ১৫ বছর আগে বানিয়াচং উপজেলার ১০নং সুবিদপুর ইউনিয়নের আতুকুড়া-সুবিদপুর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে ধোপাজুরা খালের উপর এলজিইডি একটি সেতু নির্মাণ করে। এই ১৫ বছরে কোনো সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে সেতুটি জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। ব্রিজের রেলিংয়ের দুইপাশের রেলিং বাঁশ দিয়ে আটকানো রয়েছে। বর্তমানে সেতুটি যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়তে এই সেতু ব্যবহার করেন। বিকল্প কোনো যাতায়াত পথ না থাকায়, মরণফাঁদ জেনেও গ্রামবাসী এই ব্রিজ ব্যবহার করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের রেলিংয়ের দুইপাশ থেকে ভেঙে যাওয়াসহ উপরের সিমেন্টের তৈরি পাটাতন ধসে যাওয়ায় বাঁশ দিয়ে আটকানো রয়েছে রেলিং। এই রাস্তা দিয়ে চলাচলের একমাত্র যানবাহন ব্যাটারি চালিত টমটম চলাচলও বন্ধ হওয়ার পথে। ছোট ছোট যানবাহন গুলো যাত্রী নামিয়ে পারাপার হচ্ছে।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি মেরামতের জন্য এলাকাবাসী বিভিন্ন মানববন্ধনসহ মিছিল-মিটিং করলেও কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দেখেও যেন না দেখার ভান করছেন। বর্তমানে ব্রিজটির অবস্থা খুবই করুন। যে কোনো সময় ভেঙে পরতে পারে ব্রিজটি। যার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন ও নানান দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন পথচারী, শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। শত শিক্ষার্থীর চলাচলের একমাত্র ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরাও।

ব্রিজের উপর দিয়ে প্রতিদিনই শত শত কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন। প্রায় প্রতিদিনই ছোট বড় নানান দুর্ঘটনার শিকার হন এলাকাবাসী। অথচ ব্রিজটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোন মাথা ব্যথা নেই। এই ব্রিজের দিয়ে খুব সহজেই পার্শ্ববর্তী উপজেলায় যাওয়া যায় বিধায় যানবাহন ও চলাচল করে বেশি। এই ব্রিজ ব্যবহার করে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুইটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি কলেজ ও একটি মাদরাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। যার ফলে সীমাহীন এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা। বিকল্প কোনো যাতায়াত পথ না থাকায়, মরণফাঁদ জেনেও ব্রিজ ব্যবহার করেন গ্রামবাসী সহ কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীরা।

এই এলাকার বাসিন্দা ইকবাল আহমেদ বলেন, এই ব্রিজে উঠলেই মনে হয় এই বুঝি ভেঙে পড়ল। প্রতিদিন ভয় নিয়ে আমরা এই ব্রিজ পারাপার হই। ব্রিজটি মরণফাঁদে পরিণিত হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে এই ব্রিজটি ভেঙে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণ করা খুব প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী সাইফুল আলম শরিফুল আখঞ্জি বলেন, আমরা হবিগঞ্জে বৃন্দাবন কলেজে পড়ি। প্রতিদিন আমাদের কলেজে যেতে এই ব্রিজ ব্যবহার করতে হয়। আমরা ছাড়াও শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী এই ব্রিজ ব্যবহার করে স্কুলে যায়। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন আমরা এই ব্রিজ পাড় হই। এই ব্রিজটি ভেঙে নতুন ব্রিজ করা এখন এই এলাকার বাসিন্দাদের প্রধান দাবি।   

এই এলাকার বাসিন্দা এমরান খান বলেন, ব্রিজটির অবস্থা খুবই খারাপ। প্রতিদিন বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে হয় আমাদের। মাঝে মাঝে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও হয়। জনপ্রতিনিধিদের এ ব্যাপারে কোনো মাথা ব্যথা নেই। আমরা এলাকাবাসী এর জন্য মানববন্ধনও করেছি কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।  

এ ব্যাপারে  ১০নং সুবিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুধাম দাস বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবো না। ওই এলাকার মেম্বার বা আগের চেয়ারম্যান এর সাথে কথা বলেন।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলা প্রকৌশলী আলনূর তারেক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের তালিকা করে উপর মহলে পাঠানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে কাজ হবে।



আপনার মন্তব্য

আলোচিত