বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ ইং

ওসমানীনগর প্রতিনিধি

১৯ জুন, ২০১৯ ১৬:০১

‘চাচাতো ভাইয়ের হয়রানিতে পরিবার নিয়ে বাড়ি ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষক’

ওসমানীনগরে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

সিলেটের ওসমানীনগরে  চাচাতো ভাইয়ের নির্যাতন, হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির কারণে স্কুল পড়ুয়া শিশু সন্তান স্ত্রীসহ পরিবার পরিজন নিয়ে গত ১ মাস ধরে বাড়ি ছাড়া এক অসহায় মাদ্রাসা শিক্ষক। বাড়ি না থাকার কারণে ঐ মাদ্রাসা শিক্ষকের প্রথম, দ্বিতীয় ও ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া তিন শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে।

বুধবার (১৯ জুন) দুপুরে ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে এ ব্যাপারে প্রশাসনের নিকট সুবিচার ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলার পূর্ব রুকনপুর (ভাড়েরা) গ্রামের প্রয়াত রাহাত উল্যার ছেলে মদিনাতুল উলুম বড় দিরারাই মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্বাস আলী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তারই চাচাতো ভাই একই গ্রাম ও বাড়ির লন্ডন প্রবাসী প্রভাবশালী মিজানুর রহমান (আক্কাস) বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। এমনকি ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে গুম ও হত্যার পরিকল্পনা করছেন মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ২১ জুন মিজানুর রহমান তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রাণে মারার জন্য তার বাড়িতে র‌্যাব পরিচয়ধারী লোক পাঠান। এক পর্যায়ে র‌্যাব পরিচয়ধারীরা তাকে বাড়ি থেকে জোর করে সিলেট শহরে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে তার সন্দেহ হলে র‌্যাব পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির মোবাইল নাম্বার ওসমানীনগর থানা এসআই শহীদুল ইসলামে কাছে দিলে তিনি জানতে পারেন পরিচয়দানকারী ব্যক্তি র‌্যাবের সাথে যুক্ত নয়।

তিনি বিষয়টি গ্রামের পঞ্চায়েতকে অবগত করে ও নিরাপত্তার জন্য সপরিবারে তার মামার বাড়ি চলে যান। পরবর্তীতে গ্রামের লোকজনের আশ্বাসে তিনি আবারো নিজ বাড়িতে ফেরেন। এর কয়েকদিন পর মিজানুর রহমান (আক্কাস) দেশে এসে ২৩ জুন আম ও লেচু চুরির অভিযোগে আব্বাস আলীর পরিবারের লোকজন ও আত্মীয় স্বজনসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ওসমানীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ১ থেকে ৯ বছরের ৩ শিশু, তার স্ত্রী ও বোনকে ওসমানীনগর থানা পুলিশ আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
 
আব্বাস আলী ও অন্যান্য আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি এসে বাড়িতে দেখতে পান মিজানুর রহমানের বাহিনী তার বসতঘরের দরজার তালা ভেঙে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট ও মূল্যবান কাগজপত্র তছনছ করে নিয়ে যান। পরবর্তীতে মিজানুর রহমান গংরা আব্বাস আলীর ঘরের দরজা এবং বাড়ির গেইটে নতুন তালা লাগিয়ে দেয়। বাড়িতে ঢুকতে না পেরে আব্বাস আলী তার পরিবারকে নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে তাজপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন।

বর্তমানে প্রভাবশালী মিজানুর রহমানের অত্যাচারে ও নির্যাতনের ভয়ে নিজ বসত ঘরে যেতে পারছেন না। এমকি মিজানুর রহমানের কারণে আব্বাস আলীর ৩ জন শিশু পুত্র হযরত আবু বক্কর (র:) কিন্ডারগার্টেন স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে।
 
মাওলানা আব্বাস আলী আরও অভিযোগ করে বলেন, মিজানুর রহমান প্রভাবশালী হওয়ায় এ বিষয়ে মামলা করতে তিনি ওসমানীনগর থানা পুলিশের শরণাপন্ন হলে থানা পুলিশ তা গ্রহণ না করে তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়।
 
সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, তার (আব্বাস আলীর) পিতা প্রয়াত রাহাত উল্যা ১৯৭০ সালে তার মাকে লন্ডনে নেওয়ার জন্য দেশে আসেন। তখন মিজানুর রহমানের পিতা প্রয়াত আমিন উল্যা রাহাত উল্যার লন্ডনের পাসপোর্ট চুরি করে ছবি পরিবর্তন করে লন্ডনে চলে যান। এ ঘটনায় আমার পিতা রাহাত উল্লাহ স্ট্রোক করে মারা যান।

''২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি আমিন উল্লাহ লন্ডনে মৃত্যুবরণ করলে লন্ডন ইমিগ্রেশন কর্তৃক তার কাগজপত্র তল্লাশি করলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। সে বিষয়ে মিজানুর রহমানসহ আমিন উল্লাহর পরিবারের লোকজনকে লন্ডন পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মিজানুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়ে বর্তমানে দেশে এসে আমাকে (আব্বাস আলীকে) নানা প্রকার হুমকি দিচ্ছে ও মিথ্যা মামলায় হয়রানি করছে। এতে আমার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে আমি প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।''
 
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী আব্বাস আলীর স্ত্রী পারভিন বেগম, ছেলে আব্দুল্লাহ আল মাহিদ, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, আব্দুল্লাহ আল মাজিদ, ভগ্নিপতি আব্দুল খালিক, বোন মায়ারুননেছা, ছায়ারুননেছা, প্রবাসী ভাইয়ের বৌ হাসিবা বেগম, ভাগিনা মুহিবুর রহমান, সাদিকুর রহমান, ভাগনি লিপি বেগম প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত