কুলাউড়া প্রতিনিধি

২২ জুলাই, ২০১৯ ০০:৩৫

প্রেমপত্র দিতে গিয়েছিলেন যুবক, ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনি

বন্ধুর প্রেমিকাকে তাঁর বাড়িতে মোবাইল ফোন ও প্রেমপত্র দিতে গিয়েছিলেন বসন্ত শব্দকর (২৪) নামের এক যুবক। এসময় স্থানীয়রা তাঁকে 'ছেলেধরা' সন্দেহে আটক করে গণধোলাই দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার হাজীপুর ইউনিয়নের পীরেরবাজার এলাকার খাতাইরপার গ্রামে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে।

পুলিশ জানায়, কমলগঞ্জ পৌরশহরের নরেন্দ্রপুর এলাকার হবিব মিয়ার সাথে কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের খাতাইরপার গ্রামের এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই তরুণীর সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য একটি মোবাইল ফোন পৌঁছে দিতে হবিব তাঁর বন্ধু একই এলাকার নরেন্দ্র শব্দকরের ছেলে বসন্ত শব্দকরের সহযোগিতা চায়। বসন্ত বন্ধুর প্রেমে সহায়তা করার জন্য রোববার সন্ধ্যার দিকে হবিবের দেয়া মোবাইল ফোন ও একটি চিঠি নিয়ে ওই তরুণীর বাড়ি হাজীপুরের খাতাইরপারেন আসে।

এসময় স্থানীয় লোকজন বসন্ত শব্দকরকে ছেলেধরা হিসেবে সন্দেহ করে গণধোলাই দিতে থাকে। পরে স্থানীয় পীরেরবাজার এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বসন্তকে রক্ষা করে একটি দোকানে নিয়ে রাখেন এবং কুলাউড়া থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ বসন্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

কুলাউড়া থানার এস আই কানাই লাল চক্রবর্তী জানান, বসন্ত জিজ্ঞাসাবদে জানান তাঁর বন্ধু হবিবের প্রেমিকাকে মোবাইল ফোন ও চিঠি দিতে এসেছিলেন। এসময় ছেলেধরা সন্দেহে স্থানীয়রা তাকে মারধর। আমরা খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি।

প্রসঙ্গত, পদ্মাসেতুতে মানুষের মাথা লাগবে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর দেশে হঠাৎ করে ছেলেধরা আতঙ্ক বেড়ে গেছে। ছেলেধরা আতঙ্কে গণপিটুনিরও হিড়িক পড়েছে। শনিবার রাতেই মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে একজন পিটিয়ে হত্যা করেছে জনতা।

এমন গণপিটুনিকে ফৌজধারী অপরাধ আখ্যা করে আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। কারো গতিবিধ সন্দেহজনক মনে হলে তা পুলিশকে জানাতেও বলা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত