সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ জুলাই, ২০১৯ ০০:৫৮

মুখোশ পরা ধর্ষক!

সিলেটে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর গোপন ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর হুমকি দেয়ার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তাওহিদুর রহমান এহিয়া (২৫) নামের এক ছাত্রলীগ নেতা। গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে এহিয়ার একের পর এক প্রতারণার কাহিনী। আরও অনেক তরুণীর সাথে এহিয়া এভাবে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল করেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। মোবাইল ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে তাদের ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পাততেন এহিয়া।

গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে ভূক্তভোগী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মামলায় নগরীর সুরমা মার্কেটের পাশ থেকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ এহিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এহিয়া নগরীর শেখঘাট এলাকার বাসিন্দা ও মহানগর ছাত্রলীগের কার্যকরী কমিটির সাবেক সদস্য।

কেবল ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নয়, এহিয়ার বিরুদ্ধে এমন প্রতারণার অভিযোগ এনে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন আরও একাধিক তরুণী।

সর্বশেষ রোববার রাতে শবনব জেবী নামের আরেক তরুণী ফেসবুকে এহিয়ার বিরুদ্ধে এমন ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ আনেন।

ফেসবুকে শবনম জেবী লিখেন-

আজ জেনে নিন এক ভদ্র মানুষের মুখোশ পরা ধর্ষকের কাহিনী

কয়েকদিন আগে একটি গ্রামীণ নাম্বার ০১৩০৩৫৫৫৯১৯ নাম্বার থেকে আমার নাম্বারে একটা কল আসে। আমার নাম জানতে চেয়ে একটা ছেলে তার পরিচয় দেয় জানায়, সে ইনফরমেশন টেকনোলজি থেকে কল দিয়েছে। আমার একটা ভিডিও ইন্টারনেটে আসছে যা তারা আগে জেনেছে এবং ব্লক করে রেখেছে। আমি তাকে বার বার বলতে থাকলাম যে আমার এমন কোন ভিডিও থাকার কথা না। তখন সে আমার সাথে কারো সম্পর্ক আছে কি না জানতে চায়। আমি অস্বীকার করার পরও সে বিভিন্নভাবে আমাকে বুঝাতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি রেগে যাই এবং বলি যে কিছু থাকলে আমার আছে আপনার এত মাথাব্যথা কেন। তখন সে আমাকে বলে আমরা আপনার হেল্প করতে চাচ্ছি আপনি রাগ করছেন পরে আপনার সমস্যা হবে। তখন আমি বলি আমার কোন সমস্যা হবেনা। আপনি যা দেখেছেন সেখানে আমি ভেবে ভুল করেছেন। ঐ ভিডিওতে আমি না। আমার এমন কিছু থাকার কথা না। সে বলে আমার কন্ঠ শুনা যাচ্ছে ভিডিওতে। তখন আমি তাকে বলি আপনি কিভাবে জানলেন ঐটা আমার কন্ঠ, আপনার সাথে তো আমার কোনদিন দেখাও হয়নি। তারপরও সে যখন আমাকে বার বার বলতে থাকে যে এই মেয়েটা আমি এবং আমি যেন তার সাথে একা দেখা করি এবং অবশ্যই যেন তারে আগে কল দেই আর বিষয়টা যেন কাউলে শেয়ার না করি। তখন বুঝতে পারি আমার জন্য কোন ফাঁদ তৈরি হচ্ছে। তখন আমি তারে বলি যে আমি আপনার সাথে দেখা করবোনা আপনি ভিডিও যা পেয়েছেন প্রকাশ করে দেন আমার কোন সমস্যা নাই। বলে ফোন রেখে দেই। সে আবার কল দিয়ে বলে আমরা আপনার পরিবারের কাছে রিপোর্ট পাঠাবো। আমি বলি পাঠান। তার প্রতিটা কথায় প্রচেষ্টা ছিল আমাকে ভয় দেখানো এবং কোনভাবে আমার থেকে স্বীকার করিয়ে নেওয়া যে আমার সাথে কারো অন্তরঙ্গতা আছে। আমি ভালভাবেই বুঝতে পারি এইটা একটা ফাঁদ এবং সে আমাকে বার বার বিরক্ত করবে।

এই ব্যাপারে আমি আমার এক পুলিশ বন্ধু এএসআই ইসমাইল হোসেন Faisal Ahmed কে বিষয়টা জানাই। সে আমাকে সাজেস্ট করে তুই জিডি কর আমি দেখছি এবং তুই কল রেকোর্ড রাখ তার সাথে কথা বলে। আমি পরেরদিন জিডি করি এবং কল রেকোর্ড রাখার জন্য ঐ নাম্বারে কল দেই ধরেনা। অন্য নাম্বার থেকে কল দিলে সে আরেকটা নাম্বার থেকে কল দেয় এবং জানায় তার অন্য একটা নাম্বারে ফরওয়ার্ড হয়ে কল ঢুকেছে। কয়েকবার কয়েকটা নাম্বার থেকে কল দেওয়ার পর শিওর হই ব্ল্যাকমেইলার এবং এই ব্যক্তি একই। এছাড়াও জিডি করার পর ইসমাইল তদন্ত করে বের করে যে সে আমি ছাড়াও অন্তত ১০/১৫ জন মেয়েকে একই সাথে ব্ল্যাকমেইল করার ট্রাই করছে এবং কয়েকজন পরিচিত থেকে জানতে পারি এই ছেলের কাজই হচ্ছে কোন মেয়ের নাম্বার পেলে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে। তার উদ্দেশ্য থাকে মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়া এবং এই ভিডিও ধারণ করে তারে ব্ল্যাকমেইল করে অন্য মেয়েদের নাম্বার নেওয়া। পুলিশ ইসমাইল তার কল ব্যাপারে তদন্ত করলে অনেক মেয়েই তার কাছে স্বীকার করে বিষয়টা এবং সাহায্য চায়।

এর মধ্যে একজন তার সাবেক প্রেমিকা যার অন্তরঙ্গ ভিডিও ছেলেটার কাছে আছে এবং সে বিভিন্ন সময়ে ঐ ভিডিও ভাইরাল করে দিবে বলে মেয়ের সাথে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করে এবং অন্য মেয়েদের নাম্বার আর তথ্য চায়। এইসব বলে মেয়েটা পুলিশের কাছে সাহায্য চায় এবং তারে এরেস্ট করতে সহযোগিতা করে। পুলিশ ছেলেটাকে এরেস্ট করার পর মেয়েটা ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করে এবং সকল প্রমাণ পুলিশের কাছে দেয়। পুলিশ পর্ণগ্রাফি এক্টে মামলা নেয়।

এই সব ব্যাপারে সব সময়ই নিজের জায়গা থেকে প্রতিবাদ করেছি এবং আজ আশা করছি আপনারা সবাই এই ধর্ষকের পরিচয় প্রকাশ করবেন বিষয়টা শেয়ার দিয়ে যাতে এমন মুখোশধারী ধর্ষকেরা আর এমন কিছু করার সাহস না পায় এবং মেয়েরাও এমন কোন বিষয়ে জড়িয়ে গেলে পুলিশের সাহায্য নিতে ভয় না পায়।

এহিয়ার ব্যাপারে কতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মিয়া বলেন, এক ছাত্রীর মামলার প্রেক্ষিতে এহিয়াকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক তরুণীকে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সবগুলো অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত