সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯ ইং

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

০৮ আগস্ট, ২০১৯ ১৭:০৩

হবিগঞ্জে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচী

দেশজুড়ে ডেঙ্গু জ্বর ছড়িয়ে পড়ায় হবিগঞ্জবাসীও আতঙ্কে ভুগছেন। ইতিমধ্যে হবিগঞ্জেও ডেঙ্গু জ্বর ধরা পড়েছে অনেকের। তাই এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা ও এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করতে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচী পালন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সকালে বাপা হবিগঞ্জের সভাপতি অধ্যাপক ইকরামুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে আরডি হল প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী।

ডেঙ্গু জ্বর এবং এর চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন রোটারিয়ান ডা. এস এস আল-আমিন সুমন ও শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ এর লেকচারার ডা.মঈন উদ্দিন সাকু।

আরো বক্তব্য দেন গবেষক ও সাবেক উপসচিব ড. শেখ ফজলে এলাহী, কবি ও বাপা সহ-সভাপতি তাহমিনা বেগম গিনি, বাপা সাধারণ সম্পাদক খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, পৌর কাউন্সিলর শেখ নুর হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন তারুণ্য সোসাইটির সভাপতি পরিবেশকর্মী আবিদুর রহমান রাকিব।

পরে শহরের আরডি হল এলাকা, শ্যামলী, নিউ মুসলিম কোয়ার্টার ও শ্মশানঘাট এলাকায় মশার ঔষধ ছিটানো এবং সচেতনতামুলক প্রচারপত্র বিলি করা হয়। এই কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন তারুণ্য সোসাইটি, আমরা করব জয়, রোটারেক্ট ক্লাব হবিগঞ্জ খোয়াই, গ্রীণ ভয়েসসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা।

কর্মসূচী সম্পর্কে বাপা সাধারণ সম্পাদক খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ডেঙ্গু জ্বরের হাত থেকে বাঁচতে হলে এডিস মশা নিধনে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজটি করতে হবে সমন্বিতভাবে। প্রশাসন, চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি, সেবামুলক প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ, বিএনসিসি, স্কাউট, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও অনেক উন্নয়ন সংগঠন রয়েছে এই শহরে, এদের সম্পৃক্ত করতে  হবে। শহরকে ডেঙ্গুজ্বরের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে তথা পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে ওই সংগঠনগুলো নিজ নিজ এলাকায় কাজ করতে পারে। এছাড়া স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনাক্রমে ছাত্র-শিক্ষকদের মশা ও ডেঙ্গু বিষয়ক তথ্য প্রচারের কাজে নিয়োজিত করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র ডেঙ্গু আতঙ্কের জন্য নয়, যে কোন রোগ-বালাই থেকে মুক্ত থাকতে এবং স্বাস্থ্যকর জনপদ গড়ে তোলার জন্য নগরের পুকুর-জলাশয়গুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা বাঞ্ছনীয়। এই শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনেক পুকুর-জলাশয়, পুরাতন খোয়াই নদীর বেঁচে থাকা নানা স্থানে ঝোপঝাড় কচুরিপানাসহ নানানরকম আবর্জনা বিদ্যমান। দায়িত্বশীল সংগঠন-প্রতিষ্ঠানকে এসব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ভূমিকা রাখতে হবে।


আপনার মন্তব্য

আলোচিত