মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং

হৃদয় দাশ শুভ, শ্রীমঙ্গল

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:৫০

স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার ব্রিজের সংযোগ সড়ক

হাতে কোদাল মাথায় ঝুড়ি নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছেন একদল যুবক, তাদের কেউ কেউ পড়েন বিভিন্ন স্কুল কলেজে কেউ আবার কৃষিকাজ করেন। সকাল থেকেই সব একত্রিত হয়ে নেমে পড়েছেন একটি ব্রিজের সংযোগ সড়কটি মেরামতের জন্যে। ঘটনাটি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের, যেখানে একদল উদ্যমী তরুণদের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার হলো গ্রামের একটি কাঁচা রাস্তা।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের কারু মাঝি বস্তির স্থানীয় তরুণদের সংগঠন ‘মৃত্তিকা’র উদ্যোগে ইউনিয়নের দুই গ্রাম কারুমাঝি বস্তি ও বিহারী বস্তির সংযোগ ব্রিজের দুই পাশের রাস্তা সংস্কার করে তারা। এসময় সংগঠনের প্রায় ২৫ জন তরুণ স্বেচ্ছাশ্রমে এই কাজে অংশ নেয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সংগঠনের তরুণরা ব্রিজের পাশের সড়কে মাটি ভরাটের জন্য দা, খুন্তি, কোদাল ইত্যাদি নিয়ে কাজ করছে। তাদের হাতে ছিলো বাঁশের ঝুড়ি, কারও হাতে কোদাল। একদল মাটি ও বালু কেটে ভরে দিচ্ছেন ঝুড়ি, অন্যদল সেই মাটির ঝুড়ি নিয়ে রাস্তার ভাঙা অংশে ফেলছেন। কেউ কেউ বাঁশ কেটে বাঁশ ও বালু–মাটির বস্তা দিয়ে গার্ডওয়াল তৈরি করছেন। এভাবেই দুই গ্রামের সংযোগ ব্রিজের পাশের ভাঙা অংশ ঠিক হয়ে যায়।

সংগঠনের সদস্য এমরান উদ্দিন সিলেটটুডেকে বলেন, সেতুটি কারুমাঝি বস্তি ও বিহারি বস্তির জনগণের চলাচলের জন্য একমাত্র মাধ্যম, সেতুর পাশের রাস্তার অবস্থা প্রায় ১০ বছর ধরে খারাপ হয়ে রয়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই সেতুর দুই পাশের রাস্তা এমনভাবে মাটি সরে গিয়ে ভেঙে রয়েছে যে যেকোনো মুহূর্তেই ধ্বসে পড়তে পারে সেতুটি। আমরা গ্রামের তরুণরা মিলে একটি সংগঠন করেছিলাম মৃত্তিকা। এই সংগঠনের উদ্যোগে আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে জায়গাটি ঠিক করে দিয়েছি।

সংগঠনের আরেক সদস্য হান্নান মিয়া বলেন, এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বারদের অনেকবার বলার পরও কাজ হচ্ছিল না৷ তাই আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার করেছি। কিন্তু সেতু সংস্কার করাটা তো আমাদের দ্বারা সম্ভব না তাই আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরকে অনুরোধ করছি সেতুটি যেন দ্রুত মেরামত করা হয়।

স্থানীয়রা জানান এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন দুই হাজার মানুষ যাতায়াত করে। শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে যায়। বৃষ্টির সময় শিশু-কিশোররা চলাফেরা করতে পারেনা, যার কারণে বৃষ্টির সময়ে তাদের পড়ালেখা একপ্রকার বন্ধই থাকে।

সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) নোহেল আহমেদ বলেন, রাস্তা ও সেতুর জন্য উপজেলায় আবেদন করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে সেতুটির কাজ হওয়ার কথা রয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত