মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:১৯

সিলেটের সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হচ্ছে মটরশুঁটি, আসছে মাদক

গত ১৯ আগস্ট ভোরে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত আহত হন দুই বাংলাদেশি। সকালে বিজিবি আহতদের খোঁজে না পেলেও উদ্ধার করে দুই নৌকা ভর্তি মটরশুঁটি।
পরদিন ২০ আগস্ট জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারকালে আরও ৮০ বস্তা মটরশুঁটি উদ্ধার করে বিজিবি।

গত এক মাসে সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত থেকে এভাবে অন্তত ১০টি মটরশুটির চালান আটক করেছে বিজিবি। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে এই শস্যদানাটির পাচার। ভারতে এই পণ্যটির দাম বেড়ে যাওয়ায় গত মাসখানেক ধরে মটরশুঁটির পাচার বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিজিবি বিচ্ছিন্নভাবে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি চালান আটক করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্বিঘ্নেই পাচার করছে চোরাকারবারিরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সংগ্রাম পুঞ্জি, বিছনাকান্দি, মাতুরতল, জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল ও সুরাইঘাট এবং কানাইঘাট উপজেলার কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি মটরশুঁটি পাচার হচ্ছে।

সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে গরু, মাদক ও সিগারেট চোরাচালান চলে আসছে অনেকদিন থেকেই। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে সিলেটের জকিগঞ্জ দিয়ে ইয়াবা আসার বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে থাকে প্লাস্টিক পণ্য। পাচারের এই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে মটরশুঁটি।

জানা যায়, ৫০ কেজির প্রতি বস্তা মটরশুঁটির দাম বাংলাদেশে এক হাজার ২০০ টাকা। আর ভারতে দুই হাজার ৫০০ রুপি। দামের তারতম্যের কারণে মটরশুঁটি ভারতে পাঠাতে সক্রিয় হয়ে ওঠেছে একটি চোরাচালান চক্র। মটরশুঁটির বদলে ভারত থেকে আসছে মাদক, সিগারেট আর নাসির বিড়ি।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাঈদ হোসেন মটরশুঁটি পাচারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ভারতে এই পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় একটি চক্র সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত নিয়ে মটরশুঁটি পাচার শুরু করে। আমরা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটা চালান ধরেছি। এছাড়া যে পয়েন্টগুলো দিয়ে তারা ভারতে ঢুকে সেসব জায়গায় ২৪ ঘণ্টা টহল চালু করেছি। এতে চোরাচালান অনেকটা কমেছে। তারপরও কিছু গ্যাপ দিয়ে পাচার হতে পারে। আমরা সেসব বন্ধেও সক্রিয় রয়েছি।

তবে অভিযোগ রয়েছে, সীমান্ত এলাকায় কর্মরত বিজিবি’র মাঠ পর্যায়ের কিছু সদস্যের যোগসাজশেই চলে এই পাচার। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীও সম্পৃক্ত রয়েছে পাচার কাজে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বেশিরভাগ পাচারই হয় রাতের বেলা। সন্ধ্যের পর এবং মধ্যরাতের পর দুই দফার পাচার হয়। মূলত নদীপথে নৌকায় করেই পাচার হয় মটরশুঁটি। লালাখাল, বিছনাকান্দি এই দুই সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক নৌকায় করে মটরশুঁটি পাচার হয় বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রতিটি নৌকায় প্রতিটি ৫০ কেজি ওজনের ১০০ থেকে ১২০ বস্তা মটরশুঁটি থাকে।

সিলেটে মটরশুঁটি তেমন চাষ হচ্ছে না। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মটরশুঁটি মজুদ করে পাচার করছে চোরাকারবারিরা। সিলেটে মটরশুঁটির বর্তমানে কেজি প্রতি ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সীমান্তের ওপারে কেজি প্রতি প্রায় দ্বিগুণ দাম মিলছে।

গত ১৯ আগস্ট পাচারকালে লালাখাল সীমান্ত বিএসএফ’র গুলিতে আহত দুজনের বাড়ি জৈন্তাপুরের নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের গোয়াবাড়ি গ্রামে। আহতদের পরিবারের এক সদস্য জানান, দুজনের হাতে ও পায়ে গুলি লাগে। গোপনে চিকিৎসা নিয়ে তাঁরা এখন অনেকটাই সেরে ওঠছেন বলে জানান তিনি।

গত ২৮ আগস্ট জাফলংয়ের সংগ্রামপুঞ্জি সীমান্ত থেকে পাচারকালে ৪৫ বস্তা মটরশুঁটি উদ্ধার করে বিজিবি।

বিজিবি’র সংগ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ির ক্যাম্প কমান্ডার জয়নাল আবেদীন বলেন, সম্প্রতি একটি চক্র মটরশুঁটি ভারতে পাচারে তৎপর হয়ে ওঠেছে। মটরশুঁটি ভারতে বিক্রি করে তারা দেশে মাদক নিয়ে আসছে। এই চোরাচালান রুখতে আমরা তৎপর রয়েছি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত