সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ ইং

ছাতক প্রতিনিধি

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:৪৪

ছাতকে ৯ জনের বয়স্ক ভাতা আটকে রেখেছেন চেয়ারম্যান

সুনামগঞ্জের ছাতকে এক ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে বয়স্ক ভাতা কার্ডধারী ৯ জনের ভাতা আটকে রেখেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এমনই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ৯জন বয়োবৃদ্ধ। নির্ধারিত সময়ে ভাতা নিতে এসে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের। তাই ভাতা না পেয়ে ব্যাংকের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মৌন প্রতিবাদও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের মঈনপুর কৃষি ব্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে মৌন প্রতিবাদ করেন ৯জন বৃদ্ধ নারী পুরুষ।

জানা যায়, দোলারবাজার ইউনিয়নের অন্যান্যদের মতো ৫ নং ওয়ার্ডের বয়োবৃদ্ধ ১১ জনের কার্ড সরকারীভাবে ইস্যু করা হয়। তাদরে বয়স্ক ভাতার কার্ডের প্রতিটি ছবিতে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারের সীল-সাক্ষরও রয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে তাদের কার্ড ইস্যু করা হলেও তারা এখন পর্যন্ত ভাতার টাকা গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে বিগত ঈদুল ফিতর ও ঈদ-উল আযহায় তারা ভাতা বঞ্চিত হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার ছিল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ভাতাভোগীদের ভাতা প্রদানের দিন। ওইদিন কৃষি ব্যাংক মঈনপুর শাখা থেকে উপকার ভোগীদের ভাতা প্রদান করা হচ্ছিল। ভাতা প্রাপ্তির প্রত্যাশায় বঞ্চিত ১১ জন আবারো ভাতা নিতে এসে তাদের ভাতার কার্ড ব্যাংকে জমা দেয়। এসময় একই সাথে ইস্যুকৃত কার্ডধারীদের মধ্যে সুমিনা বেগম ও লাল বিবিকে ভাতা প্রদান করা হলেও বাকী ৯ জনকে ভাতার টাকা দেয়নি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ভাতা না দেওয়ায় এসময় বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষের মধ্যে এক বেদনাদায়ক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দ্বিতীয় বারের মতো ভাতা না পেয়ে বঞ্চিতরা কার্ড হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মৌন প্রতিবাদ করেন।

এসময় ভাতা বঞ্চিত বৃদ্ধরা বলেন, চেয়ারম্যান সায়েস্তা মিয়া অনৈতিক চাহিদা না পাওয়ায় আমাদের ভাতা অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কৃপাদৃষ্টি কামনা করেন ভাতা বঞ্চিতরা।

ভাতা বঞ্চিতরা হলেন-জহুরা বিবি, বই নং-১১০৯৩ ও হিসাব নং-১৪২৩, ইন্তাজ আলী, বই নং-১১০৯৫ ও হিসাব নং-১৪২৫, কমরুননেছা, বই নং-৬২২৪ ও হিসাব নং-১২৭২, এছন বিবি, বই নং-১১১০৪ ও হিসাব নং-১৪২৮, সবজান বিবি, বই নং-১১০৯৪ ও হিসাব নং- ১৪২৪, জয়ফুল বিবি, বই নং-১১১২২ ও হিসাব নং-১৪২৯, আহমদ আলী, বই নং-১১০৯৯ ও হিসাব নং-১৪২৭, নেকজান বিবি, বই নং-৬২১৮ ও হিসাব নং-১২৭১ ও ফুল তেরা বিবি, বই নং-১১০৯৬ এবং হিসাব নং-১৪২৬।

এ ব্যাপারে কৃষি ব্যাংক মঈনপুর শাখার ম্যানেজার ক্ষিতিশ রঞ্জন তালুকদার বলেন, তাদের কার্ডে কোন রকম জটিলতা নেই। তাদের ব্যাংক একাউন্টে টাকাও বরাদ্দ রয়েছে। শুধুমাত্র ইউপি চেয়ারম্যান সায়েস্তা মিয়ার নির্দেশে তাদের ভাতা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান সায়েস্তা মিয়া বলেন, আমার নির্দেশেই এসব কার্ডধারীদের ভাতা আটকে রাখা হয়েছে। এসব কার্ড আমার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হয়নি তাই ভাতা প্রদানে নিষেধ করেছি। তবে তারা যদি তাদের ভাতার কার্ড আমার কাছে জমা দেন, তাহলে ভাতা প্রাপ্তির ব্যবস্থা করে দেওয়া যাবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত