বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:৪১

‘প্রেমের টানে’ বাংলাদেশে ভারতীয় গৃহবধূ, জৈন্তাপুর সীমান্তে উত্তেজনা

শতাধিক গরুসহ বাংলাদেশি নাগরিক নিয়ে গেছে ভারতীয় খাসিয়ারা

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ভারতের সীমান্তবর্তী খাসিয়া সম্প্রদায়ের এক গৃহবধূর। শনিবার খাসিয়া ওই গৃহবধূকে গোপনে দেশে নিয়ে আসেন বাংলাদেশি যুবক ফিরোজ মিয়া (৩৮)।

এনিয়ে দুই দেশের সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে গত শনিবার থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার এক বাংলাদেশি নাগরিক ও শতাধিক গরু ভারতে নিয়ে গেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এনিয়ে জৈন্তাপুর সীমান্তে উত্তেজনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

জানা যায়, ফিরোজ মিয়া উপজেলার টিপরাখলা সীমান্তের বাসিন্দা হারিছ উদ্দিনের ছেলে। তিনি বিবাহিত। তার সাথে গত শনিবার পালিয়ে বাংলাদেশ চলে আসেন ভারতের এসপিটিলা এলাকার হেওয়াইবস্তির বাসিন্দা চংকর খাসিয়ার স্ত্রী কারেংশু।

এঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রোববার জৈন্তাপুর সীমান্তের ১২৮৮ নং আন্তর্জাতিক পিলার এলাকায় দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে ২ দিনের মধ্যে ভারতীয় নারীকে ফেরত দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করে বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তবে ফিরোজসহ ওই নারীকে আত্মগোপনে থাকায় গত দুদিনের তাদের খুঁজে পায়নি বিজিবি।

এদিকে, এ ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার দুপুর ২টায় ১২৮৮ নং আন্তর্জাতিক পিলার এলাকা দিয়ে ভারতীয় হেওয়াই বস্তির খাসিয়ারা বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে টিপরাখলা গ্রামের তজম্মুল আলীর ছেলে আব্দুন নুর (৪৫) ধরে নিয়ে যায়। এসময় হাওর থেকে শতাধিক গরু ধরে নিয়ে সীমান্তের ওপারে ধরে নিয়ে যায় তারা।

ভারতীয় খাসিয়ারা বাংলাদেশি নাগরিকসহ গরু ধরে নিয়ে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ১৯ বিজিবি’র জৈন্তাপুর ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার আব্দুল কাদির, নিজপাট ইউপির সদস্য মনসুর আহমদ, আব্দুল হালিম।

অপরদিকে গরু ধরে নিয়ে যাওয়া এবং নারীকে ফিরিয়ে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে জৈন্তাপুরের টিপরাখলা সীমান্তে দু-দেশের নাগরিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে ১৯ বিজিবি’র জৈন্তাপুর ক্যাম্প কমান্ডার আব্দুল কাদির বলেন, আমি ১২ অক্টোবরের ঘটনার পর ভারতীয় বিএসএফ’এর মধ্যস্থতায় খাসিয়াদের সাথে আলাপ করে ২ দিনের মধ্যে ভারতীয় নারীকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেই। তারা আমাদের কথা আমলে নেয়। কিন্তু ফিরোজের পরিবার আমাদের কথা না রাখায় ভারতীয় খাসিয়ারা উত্তেজিত হয়ে বাংলাদেশে সীমান্তে প্রবেশ করে আব্দুন নুরসহ বেশ কিছু গরু ধরে নিয়ে যায়। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। খাসিয়ারা যাতে আর বাংলাদেশিদের গরু ধরে নিতে না পারে সে জন্য সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত