শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ইং

মুজাহিদুল ইসলাম সর্দার, দিরাই

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৩১

তুহিন হত্যা: বাকরুদ্ধ মা, শোকস্তব্ধ এলাকাবাসী

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে নৃশংসভাবে খুন হওয়া শিশু তুহিনকে হারিয়ে মা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় তুহিনের মা মনিরা বেগম মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে বাবার বাড়িতে আসেন। কান্না করতে করতে কখনও বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি।

সরেজমিনে তুহিনের মা মনিরা বেগমের বাবার বাড়ি জকিনগর গেলে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, তুহিনের বাবা এ হত্যার সাথে জড়িত। দুই বছর আগ থেকে তুহিন তার বাবার পাশেই ঘুমাতো। গত কিছুদিন যাবত আমি অসুস্থ। ১৬ দিন আগে আমার এক কন্যা সন্তান জন্ম নিয়েছে।

তিনি জানান, গত রোববার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে বাবার পাশেই ঘুমায় আমার ৫ বছরের নিষ্পাপ শিশু তুহিন। শেষ রাতে তুহিনের চাচাতো বোন তানিয়া বেগম (১৬) ঘরের দরজা খোলা দেখতে পায়। এরমধ্যে তুহিনও ঘরে নেই, খোঁজাখুঁজি করে তুহিনকে বাড়ির পাশের রাস্তায় গাছের সাথে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

আমার নিষ্পাপ শিশু সন্তানকে যারা নৃশংসভাবে খুন করেছে আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই তাদেরকে যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।

নিহত তুহিনের মামা শামসুজ্জামানের বলেন, আমার নিষ্পাপ ভাগিনাকে হারিয়ে আমার বোন অসহায় হয়ে পড়েছে। যারা তুহিনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি করছি।

এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সাথে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ গ্রামের দুপক্ষের মধ্যে মামলা হামলা পুরানো ঘটনা। ২০১৫ সালে মুজিবুর রহমান ও নিলুফা নামের এক মহিলা হত্যার ঘটনায় অনেকে জেল খেটেছেন। এই মামলা এখনও চলছে। এরই মধ্যে আবার নৃশংসভাবে একটি নিষ্পাপ ৫ বছরের শিশুকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এবার যখন পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন আমাদের বিশ্বাস প্রকৃত খুনের ঘটনা বেরিয়ে আসবে,আমরা জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি ।

এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে তুহিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবাসহ তিনজনকে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে তুহিনের খুনের ঘটনার সাথে তুহিনের বাবা ও চাচারা জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন আমরা খুব দ্রুততম সময়ে খুনের কারণ ও পরিবারের লোকদের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছি।

পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তের স্বার্থে এর বেশি বলা যাবেনা। পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, খুব শীগ্রই আপনাদের খুনের পুরো বিষয়টি জানানো হবে।

এ ব্যাপারে রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৌম্য চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে রকম ঘটনা ঘটেছে কিনা আমার জানা নাই, যেখানে সন্তানদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল পিতা, সেই পিতাই নাকি সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর রোববার দিবাগত রাতে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কেজাউড়া গ্রামে শিশু তুহিনকে হত্যা করে গাছের সঙ্গে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখে ঘাতকরা। সোমবার ভোরে গাছের সঙ্গে ঝুলানো অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তুহিনের পেটে দুটি ধারালো ছুরি বিদ্ধ ছিল। তার পুরো শরীর রক্তাক্ত, কান ও লিঙ্গ কর্তন করা হয়। তুহিন ওই গ্রামের আব্দুল বাছিরের ছেলে। তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে আব্দুল বাছিরকে আটক করেছে পুলিশ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত