শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ইং

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:০০

বাহুবলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, রাস্তার বেহাল দশা

পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ

হবিগঞ্জের বাহুবলে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। যার ফলে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তাছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ৯ অক্টোবর পুটিজুরি ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি মেম্বার রুবেল আহমেদ বাদী হয়ে সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, জেলার বাহুবল উপজেলার দ্বিগাম্বর ছড়া ইজারার নামে বাহুবল উপজেলার আব্দানারায়ন গ্রামের খন্দকার মঞ্জুর আলী খন্দকার সোহেল মিয়া, পার্শ্ববর্তী হাজী বাদাম গ্রামের সহিদ মিয়া, একই গ্রামের তুহিন মিয়াসহ একটি প্রভাবশালী চক্র ৩৬টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এতে করে এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট ভেঙে যাচ্ছে। ফসলি জমির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এলাকার পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এতে করে এলাকার ফসলি জমি রক্ষাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ইউপি মেম্বার রুবেল আহমেদ।

পুটিজুরি ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের আহসানুল করিম বলেন, বালু উত্তোলনরে ফলে এলাকার রাস্তা ঘাট ব্রিজ ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থার  বেহাল অবস্থা। এজন্য ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে যেতে পাড়ছে না। দৈনন্দিন কাজ করতে ঘরের বাইরে যেতেও গ্রামবাসী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

আব্দানারায়নপুর গ্রামরে জমির আলী জানান অবৈধভাবে বালু উত্তোলনরে ফলে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি ফসলি জমি মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এই জমিই আমাদের সব। বালু উত্তোলনের ফলে জমি সব ধ্বংসের পথে। এই ভূমিখেকুদের থেকে আমাদের জমি রক্ষা করা হোক।

পুটিজুরি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার রুবেল আহমেদ বলেন, কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তাঘাট কালভার্ট ভেঙে যাচ্ছে। একটি চক্র বালু উত্তোলন করে মহাসড়কের পাশে রেখে দেয়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে করে মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।

এ ব্যাপারে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা হক বলেন, বাহুবলের কোন ছড়া থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেয়া হবে না। যেখানে ড্রেজার মেশিন পাওয়া যাবে সেখানেই অভিযান চলবে।

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে আমরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে প্রায় ৩৬টি ড্রেজার মেশিন আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত