বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ ইং

বড়লেখা প্রতিনিধি

০৬ নভেম্বর, ২০১৯ ১৯:৩৮

মাধবকুণ্ডে শঙ্কামুক্ত জলজ প্রাণি, মামলা, গ্রেপ্তার ১

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ডর জলপ্রপাতের পানি এখন স্বাভাবিক পর্যায়ে হয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ। একইসাথে সেখানকার সকল জলজ প্রাণি শঙ্কামুক্ত  রয়েছে বলেও জানান তারা।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণির মড়ক ঠেকাতে এবং পানির গুণাগুণ স্বাভাবিক রাখতে জলপ্রপাতের পানিতে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। এতে স্বাভাবিক হয়ে আসে পানির গুণাগুণ। ফলে স্থানীয় আদিবাসীরাও এখন ঝর্ণার পানি ব্যবহার করতে শুরু করছেন।

অপরদিকে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণি মারা যাওয়ার ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বড়লেখা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। এর আগে সোমবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। মামলার পর মাছ মারা যাওয়ার কারণ উদঘাটন করতে সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি হচ্ছেন- উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির গৌড় নগর গ্রামের মৃত মস্তকিন আলীর ছেলে ইমাম উদ্দিন (৪২)। বুধবার (৬ নভেম্বর) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে মাছ মারা যাওয়ার খবর পেয়ে মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এলাকা পরিদর্শন করেন মৎস্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের উপ পরিচালক সুলতান আহমদ।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২ নভেম্বর) সকালে মাধবকুণ্ড এলাকায় পর্যটক, পর্যটক পুলিশসহ স্থানীয় লোকজন মাধবকুণ্ডের পানিতে মাছসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণি ভেসে ওঠতে দেখেন। মৃত মাছের কারণে মাধবকুণ্ড পর্যটন এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জলপ্রপাতের পানিতেও দুর্গন্ধ রয়েছে। এরমধ্যে ছিল পাহাড়ি বামাস মাছ, কাঁকড়া, পুঁটি, ব্যাঙ, পাহাড়ি চিংড়ি, পিপলা, ছোট বাইন, সরপুঁটিসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ কীটপতঙ্গ। মাধবকুণ্ড ঝর্ণা ও ছড়ার পানি নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতেন স্থানীয় খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দা ও পাশের চা বাগানের লোকজন। খাবার পানি ছাড়াও সকল প্রয়োজনে ঝর্ণার পানিই ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। হঠাৎ করে মাছ মরা যাওয়ায় ও পানিতে দুর্গন্ধ ছড়ানোয় তারা বিপাকে পড়েন। এ অবস্থার খবর পেয়ে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে দু’দফায় পানি পরীক্ষা হয়। পানির গুণাগুণ স্বাভাবিক রাখতে জলপ্রপাতে ছিটানো হয় ওষুধ।

বুধবার (৬ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয় অধিবাসী লোকজন মাধবকুণ্ডের ছড়ার পানি তাদের দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছেন। প্রতিদিনের মতো দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা বেড়াতে আসছেন। অনেকেই জলপ্রপাতের স্বচ্ছ পানিতে নেমে ছবি তুলছেন। পানিতে এখন কোনো দুর্গন্ধ নেই। এছাড়া কেউ কেউ ঝর্ণার পানি পানও করছেন।

মাধবকুণ্ড খাসিয়া পুঞ্জির হ্যাডম্যান (মন্ত্রী) ওয়ান বর গিরি বুধবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে বলেন, ‘বিষ প্রয়োগের পর থেকে আমরা পানি দুই তিনদিন ব্যবহার করতে পারিনি। আমরা অনেকটা হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ, ঝর্ণার পানি আমরা পান করি। এছাড়াও দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে মঙ্গলবার ঝর্ণার পানিতে ওষুধ দেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রশাসনের লোকজন জানিয়েছেন, পানি ব্যবহার করা যাবে। এজন্য আজ (বুধবার) থেকে আমরা পানি পান করতে পারছি। বিভিন্ন কাজেও ব্যবহার করতে পারছি।’

বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস বুধবার (৬ নভেম্বর) বলেন, ‘এ ঘটনায় প্রথমে থানায় জিডি করেছিলাম। পরে মঙ্গলবার মামলা করেছি।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফ উদ্দিন বুধবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে বলেন, ‘জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কারণ উদঘাটন করতে পুলিশ কাজ করছে।’

বড়লেখা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কুলাউড়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. সুলতান মাহমুদ বুধবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে বলেন, ‘মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের পানি এখন স্বাভাবিক এবং বিষযুক্ত। যার কারণে পানি ও মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণি শঙ্কামুক্ত। পানির ভৌত রাসায়নিক গুণাগুণ পরীক্ষা ছাড়াও জীবিত মাছ ছেড়ে পরীক্ষা করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানি পরীক্ষা করেছেন মৎস্য অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত