বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ ইং

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

০৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৭

বিশ্বনাথে পুলিশি বাধায় পণ্ড ইউপি সদস্যের প্রতিবাদ সভা

সিলেটের বিশ্বনাথের আশুগঞ্জ বাজারে জামাল আহমদ নামের স্থানীয় ইউপি সদস্যের ডাকা প্রতিবাদ সভা পণ্ড করে দিয়েছে থানা পুলিশ। দোহাল গ্রামের বাসিন্দা জামাল আহমদ রামপাশা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী ইর্শাদ আলীর ছেলে।

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টারদিকে থানা পুলিশের এসআই দিদারুল আলমসহ একদল পুলিশ আশুগঞ্জ বাজারে গিয়ে প্রতিবাদ সভা পণ্ড করে দেন। এসময় তিনি (পুলিশ) সভা থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে থানায় নিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয় মুরব্বী ও ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন রামপাশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। পরে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলমগীরের অনুরোধে এসআই দিদার মাইক রেখে সভা পণ্ড করে চলে যান।

জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেটের পুলিশ সুপার বরাবরে পাটাকইন গ্রামের সমালোচিত ব্যবসায়ী তবারক আলীর পক্ষে একটি স্মারকলিপি দেন এলাকাবাসী। ২৪১ জন স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে ইউপি সদস্য জামাল আহমদও স্বাক্ষর করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তবারক আলীকে ইয়াবা সুমন আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে তার প্রতিপক্ষ এলাকার আব্দুস শহীদ বাদশা মিয়া, চুনু মিয়া, সিরাজ মিয়া, আতিক মিয়সহ ২৮৩ জনের স্বাক্ষর নিয়ে পুলিশ সুপার বরাবরে পাল্টা আরেকটি স্মারকলিপি দেন।

ওই স্মারকলিপিতে ইউপি সদস্য জামাল আহমদকে তবারক আলীর প্রধান সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করায় তিনি (জামাল মেম্বার) শুক্রবার আশুগঞ্জ বাজারে ওয়ার্ডবাসীকে নিয়ে একটি প্রতিবাদ সভার ডাক দেন।  কিন্তু সভা শুরুতেই বিশ^নাথ থানা পুলিশ ওই প্রতিবাদ সভা পণ্ড করে দেয়। পরে রাত সোয়া ৭টায় বাসিয়া ব্রিজে দাঁড়িয়ে তারা মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
 
আশুগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হাজী আব্দুল গফুররে সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য জামাল আহমদ, সমাজসেবক আব্দুল হামিদ, আয়াজ আলী, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফ উদ্দিন গেদা, উপজেলা বিআরডিবি’র সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেছার আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা আশ্রব আলী, আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ওয়ারিছ আলী, বিশিষ্ট মুরব্বী হাজী আব্দুস শুকুর, হাজী ছখা মিয়া, ফয়ছল আহমদ।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য জামাল আহমদ অভিযোগ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, থানা পুলিশ তার সভা পণ্ড করে দেয়, এরপর ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কিন্তু তার পরও সন্ধ্যায় ওয়ার্ডবাসীকে নিয়ে থানায় গেলে বিশ্বনাথ থানার ওসি শামীম মুসা তাদের সঙ্গে দেখা করেন নি। ফলে রাত সোয়া ৭টায় বাসিয়া ব্রিজের ওপর তারা একটি মানববন্ধন করেছেন।
 
বিশ্বনাথ থানার এসআই দিদারুল আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, ওসি স্যারের নির্দেশ ছিল তাই জামাল মেম্বারের প্রতিবাদ সভা পণ্ড করেছি।

থানা এলাকায় না থাকায় জামাল মেম্বারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি জানিয়ে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম মুসা এ প্রতিবেদকে বলেন, আশুগঞ্জ বাজারে জামাল মেম্বার ও তার প্রতিপক্ষ একই সময়ে সভা ডাকায় তাদের এ সভা পণ্ড করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত