বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

রায়হান উদ্দিন সুমন, ঢাকা থেকে ফিরে

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১৪:৩৯

কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনা : জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বানিয়াচংয়ের আহত সোহেল

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে গুরুতর আহত বানিয়াচংয়ের সোহেল মিয়ার অবস্থা হঠাৎ করেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। পাশাপাশি তার স্ত্রী নাজমা আক্তার ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।  উভয়ের চিকিৎসার ব্যয় মিটাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার। এদিকে সোহেলের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়।

সেখানে আইসিইউতে কোনো সিট থাকায় বাধ্য হয়ে পরবর্তীতে ধানমন্ডির মাল্টি কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে সোহেলকে। সেখানে আইসিইউ’র ৩ নাম্বার কেবিনে ভর্তি আছেন তিনি। ভর্তি থাকাকালীন অবস্থায় প্রতিদিন তাকে রক্ত বি পজিটিভ রক্ত পুশ করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে ৮ ব্যাগ রক্ত প্রক্রিয়াজাত করে রক্তের সাদা সেল তার শরীরে পুশ করার কথা জানিয়েছেন সেখানকার চিকিৎসক।

গত শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত সোহেলের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ফুসফুস ছিদ্র হয়ে গেছে। ধাপে ধাপে ১৫ থেকে ১৬ ব্যাগ রক্ত লাগবে। এ অবস্থায় এই হাসপাতালের চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটাতে তার পরিবারের পক্ষে কোনো মতেই সম্ভব হয়ে উঠছে না। শুধুমাত্র তার জন্য প্রতিদিনই ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

কথা হয় পঙ্গু হাসপাতালে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি স্ত্রী নাজমা আক্তারের সাথেও । তিনি জানান,ট্রেন দুর্ঘটনায় আমার একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছি এর চেয়ে কষ্ট কি আর হতে পারে। এখন আমার পরিবারের  অবস্থাও আশঙ্কাজনক। আমাদের চিকিৎসার খরচ মেটাতে অনেক টাকা দরকার। আমরা কই পাবো এতো টাকা। আহত সোহেলের একমাত্র ছেলে নাফিজ তার ডান হাতও ভাঙ্গা। বেডের পাশে তাকে তার বাবার দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেখে থাকতে দেখা গেছে। চিকিৎসাধীন রয়েছেন তার শাশুড়ি রেণু বেগমও। গুরুতর আহত নাজমার জন্যও একাধিক ব্যাগ রক্তের দরকার বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

একদিকে ট্রেন দুর্ঘটনায় সোহেলের আদরের মামনি আদিবা আক্তার সোহা মারা যায়। শোকে পাথর এই পরিবারটি এখন তাদের চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ঢাকায় বসবাসরত বানিয়াচংয়ের সাংবাদিক রূপক, আওয়ামী লীগ নেতা ময়েজ উদ্দিন শরীফ রুয়েল, সাংবাদিক সাখাওয়াত কাওছার, লুৎফুর রহমান,এডভোকেট আশরাফ হোসেন তিতাস,নাজমুল হোসেনসহ আরও বেশ কয়েকজন তার চিকিৎসার দেখভালো করছেন। সার্বক্ষণিক তার অবস্থার আপডেট দিচ্ছেন তারা। পাশাপাশি সরকারি কোনো হাসপাতালে আইসিইউতে যাতে একটি সিট পাওয়া যায় সেই জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি দেশ বিদেশে অবস্থানরত বিশেষ করে আমেরিকার মিশিগানে প্রবাসী বানিয়াচংবাসীরা আহত সোহেল ও তার পরিবারের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন।

মানবিক দিক বিবেচনা করে বানিয়াচং গ্যানিংগঞ্জ বাজার ও বড়বাজার কাপড় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দরা তাদের চিকিৎসার জন্য কিছু টাকা আহত সোহেলের পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হয়েছে। আহত সোহেলের পাশে দাঁড়ানোর ফলে কিছুটা আশার আলো দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে। তবে এটা সামান্য ই বলা যায়। যদি সরকারি কোনো হাসপাতালের আইসিইউতে তাকে রেখে চিকিৎসা দেয়া হতো তাহলে তার পরিবার অনেকটা চিকিৎসার ব্যয় থেকে রেহাই পেত বলে জানিয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে কথা হয় সুদূর আমেরিকার হারডন ভার্জিনিয়ার অবস্থানরত মিনহাজ উদ্দিন শরীফ রাসেলের সঙ্গে।

তিনি এই প্রতিবেদককে জানান,আহতদের চিকিৎসা সরকারিভাবে হবে এই ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী দেয়ার পরও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তার চিকিৎসার কোনো দায়ভার নেয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্ত্রী এমপিরা তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নিচ্ছে না। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। একটি ছোটখাটো চাকরি করতো সোহেল। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ভালো না। তবে আমরা প্রবাসী মিলে তার চিকিৎসার জন্য কিছু টাকা উত্তোলন করেছি। সেটা আজকালের মধ্যেই তার পরিবারের কাছে দেয়া হবে। অন্তত:পক্ষে টাকার জন্য যাতে তার চিকিৎসা থেমে না থাকে সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি আমরা।

উল্লেখ্য,গত ১১ নভেম্বর রোজ সোমবার দিনগত রাত ৩টার দিকে কসবা উপজেলার মন্দবাগ এলাকায় তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেস এই দুই ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ১৬জন নিহত সহ আহত হয় প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রী।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত