শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:২৪

এবার সেই হিরণের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ

সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরণ মিয়া মিথ্যাচার করেছেন বলে দাবি করেছেন একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম টুনু। দলের পদবি হারিয়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদকে জড়িয়ে তিনি যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তা শুনে ‘মর্মাহত এবং দুঃখিত’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মঙ্গলবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শামসুল বলেন, ‘গত ৩০ নভেম্বর হিরণ মিয়া সংবাদ সম্মেলন করে তাকে এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে বক্তব্য দেন; যা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশ পেলে আমার গোচরে আসে। তিনি (হিরণ) দাবি করেছেন, হিংসার বশবর্তী হয়ে তার সাথে অন্যায় এবং অবিচার করা হয়েছে, যে কারণে তিনি আওয়ামী লীগের পদ পেয়েও হারিয়েছেন। তিনি আমাকে বিএনপি-জামায়াতের নেতা বলেও সেখানে উল্লেখ করেছিলেন। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

সিলেটের রাজনীতি এখন আলোচিত নাম হিরণ মিয়া। বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয় তাকে। তবে সমালোচনার মুখে একদিন পরই স্থগিত করা হয় সেই কমিটি। সরিয়ে দেওয়া হয় হিরণকে। এরপর গত ৩০ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে হিরণ মিয়া দাবি করেন তিনি আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারী নয়। সবসময়ই আওয়ামী লীগ করেন। সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন বলেও এই সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন হিরণ। ওই সংবাদ সম্মেলনে মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম টুনুকে বিএনপি-জামায়াতের লোক বলেও দাবি করেছিলেন হিরণ।

এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শামসুল ইসলাম টুনু বলেন, আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আমার বাবা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই সম্পৃক্ত ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও আমার বাবা সংগঠকের ভূমিকা রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মোগলগাঁও থেকে আমার চাচাসহ ৪০জন যুবককে মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন তিনি। যার প্রমাণ এলাকার বেঁচে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পাবেন।’

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর হাতকে শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা শ্রদ্ধেয় মরহুম দেওয়ান ফরিদ গাজি সাহেব এর পরামর্শে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যান। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পর অনেক নেতা আত্মগোপনে চলে গেলেও আমার বাবা জনসমক্ষে আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত প্রাণ হিসাবে কাজ করে যান। কিন্তু ১৯৮৬ সালের এপ্রিল মাসে রাজাকার এর মদদ দাতা ও বি.এন.পি-জামাত এর পরামর্শে আমার বাবাকে নৃশংস ভাবে হত্যা করে গুম করে ফেলা হয়। পরবর্তীতে আমরা অনেক খুঁজাখুঁজির ৪ দিন পরে মস্তকবিহিন ভাবে পুলিশের সহযোগিতায় আমার বাবার লাশ উদ্ধার করে দাফন করি।’

তিনি বলেন, বাবার মৃত্যুর পর তিনি জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে চলে যান। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি মরহুম স্পিকার হুমায়ূন রশিদ চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেন। ২০০৭ সালে বিদেশ থেকে একেবারে দেশে চলে আসি। বর্তমানে আমার ১ম ছেলে ডা: আবুল ফয়েজ মো: সালমান, ঢাকাস্থ বারডেম জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত আছে। ২য় ছেলে আবুল ফাত্তাহ মো: সায়েম ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী এবং এমবিবিএস পরীক্ষার্থী। ৩য় ছেলে আবুল ফজল মো: সাউদ রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং আমার একমাত্র মেয়ে ২০২০ সালের এস.এস.সি পরীক্ষার্থী।’

তিনি বলেন, ‘২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করি। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আমার পক্ষে কাজ করেন। ওই নির্বাচনে ১৮ শত ভোটের ব্যবধানে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে আমি নির্বাচিত হই। কিন্তু গত সংবাদ সম্মেলনে হিরণ মিয়া বলেছিলেন, আমি নাকি বিএনপি-জামায়াতের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলাম। অথচ তিনিই বিএনপির সমর্থন পেয়েছিলেন। তার ভাই কিরণ মিয়া মোগলগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তিনি বিএনপির ভোট পান।’

২০১২ সালে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে আম্বরখানাস্থ হোটেল পলাশে এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আমাকে খোঁজ করে পরামর্শ সভায় নিয়ে আসেন। এরপর থেকে আওয়ামী লীগে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই সক্রিয়ভাবে মাঠে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি হিরণ মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে বলেন, ২০১৪ সালের সদর উপজেলা নির্বাচনে হিরণ মিয়া প্ররোচনায় তার ভাই বিএনপি নেতা কিরণ মিয়া দলবল নিয়ে নৌকার পক্ষের কর্মীদের ওপর হামলা এবং ভোটের দিনে কেন্দ্র দখলের পায়তারা করেন। যদিও এ নির্বাচনে একটি কেন্দ্র ছাড়া সবকটিতেই আশফাক চেয়ারম্যানের বিজয় হয়।’

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে হিরণ মিয়া দেশে এসে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে চান। এসময় নৌকা প্রতীক পাওয়ার জন্য কাউন্সিলারদের বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ নজির আহমদ আজাদ, হাজি আছন মিয়া ও আমাকে বাদ দিয়ে হিরণ মিয়াকে নৌকা প্রতীক দিয়া নির্বাচনে সহযোগিতা করা হয়। তখন আমি ইউনিয়নের জনগণের চাপে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নমিনেশন জমা দেই এবং ইউনিয়নের ৭০ভাগ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীর সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাই। তবে ভোটে নানাভাবে বাধা বিপত্তি ঘটে বলেও দাবি করেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও হিরণ মিয়া নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত