শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৩:৫৮

তামাবিল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশিদের ভারতে প্রবেশে বাধা

সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশিদের ভারতে প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে সে দেশের অভিবাবসন কর্মকর্তারা। ভারতের নাগরিকত্ব বিল নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে মেঘালয় রাজ্যে কারফিউ জারির কারণে শুক্রবার সকাল থেকে বাংলাদেশিদের সে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়া আচমকা এই বাধায় বিপাকে পরেছেন বাংলাদেশি পর্যটকেরা। আগে থেকে না জানায় শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে অনেক পর্যটক তামাবিলে জড়ো হন। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও ভারতীয় ইমিগ্রেশন আটকে দেয়। ফলে ভারতের ডাউকি থেকে ফিরে আসতে হয় তাদের।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল স্থল বন্দর দিয়ে ডাউকি হয়ে সাধারণত ভারতের মেঘালয় রাজ্যে বেরাতে যান বাংলাদেশিরা। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় পর্যটকদের ভিড় ছিলও তুলনামূলক বেশি। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে মেঘালয়ের রাজধানী শিলংসহ কয়েকটি এলাকায় কারফিউ জারি করায় যাত্রীদের সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

অভিভাবসন ও স্থল বন্দর পুলিশের বিশেস সুপার (এসপি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ থেকে ইমিগ্রেশন শেষে ভ্রমণকারীরা ভারতে প্রবেশ করলে ভারতের ডাউকি ইমিগ্রেশন সেন্টার থেকে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে ভারত ইমিগ্রেশন আগে থেকে আমাদের কিছু জানায়নি।

তবে যাত্রী যাতায়াত বন্ধ থাকলেও এই স্থল বন্দর দিয়ে পন্য পরিবহন স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন তামাবিল স্থল বন্দরের সহকারি পরিচালক (ট্রাফিক) পার্থ ঘোষ। তামাবিল স্থল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে মূলত পাথর ও কয়লা আমদানি হয়ে থাকে।

এদিকে, ভারতে যাত্রী প্রবেশ বন্ধের পূর্ব ঘোষণা না দেওয়ায় বিপাকে পড়তে হয় যাত্রীদের। শিলংয়ে বেড়াতে যাওয়ার জন্যে শুক্রবার সকালেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তামাবিলে হাজির হন কুমিল্লার সাদ উদ্দিন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানুকিতা শেষ করে ভারতের ডাউকিতে প্রবেশের পর সেখানকার ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আমাদের অনেক্ষণ বসিয়ে রাখার পর দেশে ফিরিয়ে দেন। এ ব্যাপারে তারা আগে থেকে কিছু জানায়নি। ফলে আমাদের মতো অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সিলেটের তামাবিল অভিবাসন কেন্দ্রের উপ-পুলিশ পরিদর্শক রমজান মিয়া জানান, সকাল ১১টা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আমরা শতাধিক যাত্রীকে ভারতে ছাড়ি। তবে কিচ্ছুক্ষণ পরই তারা ভারতের কাস্টমস থেকে ফিরে আসেন।

রমজান বলেন, এর কিচ্ছুক্ষণ পর ভারতীয় কাস্টমসের একজন কর্মকর্তা এসে মেঘালয়ের অস্থিরতার কারণে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান এবং আজকে আর যাত্রী না ছাড়তে আমাদের অনুরোধ করেন।

ভারতের ডাউকি কাস্টমস অফিসের কাস্টমস কর্মকর্তা ডেকলিন রেনজা বলেন, কারফিউর কারণে শিলংয়ে হোটেল-দোকানপাট সব বন্ধ আছে। পর্যটকদের দুর্ভোগ আর নিরাপত্তার কথা ভেবেই তাদের যেতে দিচ্ছি না। পরিস্থিতি শান্ত হলে আবার বাংলাদেশি পর্যটকরা যেতে পরবেন।

শুক্রবার তামাবিল দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানেরও ভারতে যাওয়ার কথা ছিলো। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার তিনি এ সফর বাতিল করেন।

উল্লেখ্য ভারতে নাগরিকত্ব বিল পাস হওয়ার পর থেকে আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় রাজ্যে বিক্ষোভ ও  সহিংসতা চলছে। এর প্রেক্ষিতে এসব রাজ্যে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত